৯ বগি থেকে ১২ বগি হয়েছে লোকাল ট্রেন। কিন্তু তাতেও ভিড়ের সময়ে ওঠানামা দায়। ব্যান্ডেল লোকাল কিংবা বনগাঁ লোকাল— সব ট্রেনেই উঠতে গেলে ধাক্কা, নামতে গেলে চাপ। এতেই অভ্যস্ত নিত্যযাত্রীরা। আর দূরপাল্লার ট্রেনে তো টিকিট পাওয়াই মুশকিল। কারণ, নির্দিষ্ট সংখ্যক বগিতে যাত্রীদের স্থান সঙ্কুলান হওয়াই মুশকিল। কিন্তু এমন দিন আর খুব বেশি সময় সহ্য করতে হবে না বলেই জানিয়েছেন মোদি সরকারের রেলমন্ত্রী।

মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সম্প্রতি জানিয়েছেন, ভারতীয় রেল সব ট্রেনই ২২ কোচের করতে চাইছে। মন্ত্রী বলেছেন, ‘‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সব ট্রেনের কোচ সংখ্যা ২২ করা হবে। ইতিমধ্যেই ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। কোথায় কোথায় প্লাটফর্মের দৈর্ঘ্য বাড়াতে হবে তারও খোঁজ শুরু হয়েছে।’’

শুধু সংরক্ষিত বগিই নয়, আগামী জুলাই মাস থেকে অসংরক্ষিত বগির সংখ্যাও বাড়বে। ফলে ট্রেনে উঠতে ঠেলাঠেলির দিন শেষ। এখন দেশে দু’ধরনের ট্রেনের বগি হয়— আইসিএফ, এলএইচবি। দু’ধরনের বগির সংখ্যাই বাড়ানো হচ্ছে। আপাতত ৩০০ ট্রেনকে ২২ বগির করা হচ্ছে। এর ফলে আরও একটা সুবিধা হবে। কোনও ডাউন ট্রেন দেরিতে আসার জন্য আপের ট্রেন ছাড়তে দেরি হবে না। যে কোনও ট্রেনই পাঠিয়ে দেওয়া যাবে কারণ এর পরে সব ট্রেনই ২২ বগির হয়ে যাবে।

রেলের এই উদ্যোগে ট্রেনে আসন সংখ্যা্ও একলাফে অনেকটা বেড়ে যাবে। ফলে যাত্রীদের সুবিধাও বেড়ে যাবে কয়েক গুণ। 

রেলমন্ত্রক মনে করছে, সব ট্রেনে একই সংখ্যক সাধারণ বগি, স্লিপার কোচ এবং এসি কোচ থাকায় শুধু নামের বোর্ড বদলে দিয়ে যে কোনও রুটে যে কোনও ট্রেন চালানো যাবে। আগামী জুলাই মাসে রেলের নতুন টাইমটেবিল প্রকাশিত হবে। তার মধ্যেই সব ট্রেন ২২ বগির হয়ে যাবে বলে আশা রেলের।

ইতিমধ্যেই জিএসটি চালু করে ‘এক দেশ, এক কর’ স্লোগান চালু করেছে মোদী সরকার। এ বার গয়ালের হাত ধরে নতুন স্লোগান হতে পারে— ‘এক দেশ, এক দৈর্ঘ্যের ট্রেন।’