স্বপ্নাদেশ পেয়ে মন্দির তৈরির ঘটনা নতুন কিছু নয়। পুরাণ, ইতিহাস ঘাঁটলে এমন অনেক মন্দিরের কথাই জানা যায়। তবে তা যদি হয় বর্তমান যুগে, সে ক্ষেত্রে ঘটনা যে সংবাদ শিরোনামে আসবে, তা বলাই বাহুল্য।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

তেমনই এক শিব মন্দিরের কথা জানা গিয়েছে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। হিমাচল প্রদেশের একটি অফ-বিট জায়গা, সোলান জেলার চেয়েল। সেখান থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে গেলেই দেখা পাওয়া যাবে এই শিবধামের, যার পরিচিতি ‘স্টোনড কুম্ভ’ নামে।

জানা গিয়েছে, গত ৩৮ বছর ধরে এই শিব মন্দির তৈরি করছেন সত্য ভূষণ নামে এক ব্যাক্তি। বর্তমানে সত্য ভূষণের বয়স ৬৪ বছর। 

‘ইনক্রেডিবল হিমাচল’-এর ভিডিও দেখলে বোঝা যাবে, মন্দিরটি তৈরি করা হচ্ছে পাথর দিয়ে। তবে সাজানোর জন্য বেশ কিছু ক্ষেত্রে টিন ব্যবহার করা হয়েছে। রয়েছে গ্রে-সিমেন্টের কাজও। 


গ্রে সিমেন্ট দিয়ে তৈরি শিবের মূর্তি। ‘ইনক্রেডিবল হিমাচল’-এর ভিডিও

সংবাদমাধ্যমকে সত্য ভূষণ জানিয়েছেন যে, মন্দির নির্মাণের কাজ তিনি শুরু করেন ১৯৮০ সালে। স্বপ্নে এক শিব মন্দির দেখার পরেই তিনি এই নির্মাণকার্য শুরু করেন। এবং সেই কারণেই মন্দিরের আরও একটি নাম ‘টেম্পল ইন মাই ড্রিম’। তার দিয়ে এই নাম মন্দিরের মাথায়ও আঙ্কিত করা হয়েছে। 

এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে ‘স্টোনড কুম্ভ’ তৈরি করতে। নিজের পকেট থেকেই মূলত টাকা খরচ করে নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন সত্য ভূষণ। কিন্তু, পরবর্তীকালে স্থানীয়রাও তাঁকে অর্থ সাহায্য করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সরকারের থেকে কোনও সাহায্যই তিনি নেননি। 

সত্য ভূষণ পৈতৃক জমিতেই তৈরি করছেন শিব মন্দির। মন্দির থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরত্বেই তাঁর নিজের বাড়ি। ফলে, কোনও ভক্ত বা পর্যটককে আসতে দেখলেই ছুটে গিয়ে ইলেকট্রিক সুইচ অন করে দেন। যার ফলে, মন্দিরের আলো-ফোয়ারা জ্বলে ওঠে। সঙ্গে বাজতে থাকে শিবমন্ত্রও। 

সম্প্রতি তিনি জানতে পেরেছেন যে, গুগল-এ স্থান করে নিয়েছে তাঁর ‘স্টোনড কুম্ভ’ মন্দির। তাতে স্বাভাভিক ভাবে খুবই খুশি ষাটোর্ধ্ব সত্য ভূষণ।

দেখুন ‘ইনক্রেডিবল হিমাচল’-এর ভিডিও—