তোমার থিয়েটার দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু? 

সুদীপ: হ্যাঁ, ‘সমকাল’-এ প্রথম থিয়েটার করতে শুরু করি। সেটা এখন ডিজলভড হয়ে গিয়েছে। এর পরে পাইকপাড়ায় ‘থিয়েটার স্পন্দন’-এ বেশ কিছুদিন ছিলাম। তখন আমি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, ২০০৭-৮ সাল। 

তুমি তো সাংবাদিকতার ছাত্র, সাংবাদিকতায় না এসে অভিনয়ে চলে গেলে কেন? 

সুদীপ: আসলে ছিলাম ভূগোলের ছাত্র। তখন আমি থাকতাম চুঁচুড়ায়। চন্দননগর গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করি। তখন থেকেই ঠিক করেছিলাম যে অভিনয় করব কিন্তু বাড়ি থেকে, যা হয়, একটা চাপ থাকে। মাস্টার্সে চান্স পেয়েছিলাম বর্ধমানে। কিন্তু আমি বললাম যে ওখানে যেতে পারব না, আমি চললাম কলকাতায়। নানা রকম চলল বাড়িতে। শেষে বাবা বললেন যে তুমি এত ব্রাইট স্টুডেন্ট, যখন যাচ্ছ কলকাতায় তখন কিছু একটা পড়ো। সবাইকে জিজ্ঞেস করলাম যে কী পড়লে আমার সুবিধা হতে পারে। সবাই বলল যে হয় যাদবপুরে মিডিয়া স্টাডিজ অথবা মাস কমিউনিকেশন পড়তে পারিস। দুটোতেই চান্স পেয়েছিলাম। পরে সবাই বলল যে মাস কম পড়, ওখানে ডিগ্রিটা পাবি। 

তার মানে সাংবাদিক হওয়ার পরিকল্পনা কখনওই ছিল না।

সুদীপ: না, কখনওই ছিল না। অভিনেতা হওয়ার পরিকল্পনাই ছিল। 

২০০৭ সালে মাস্টার্স করার পরে টেলিভিশনে এলে কবে?

সুদীপ: আসলে আমি প্রচণ্ড নাইভ ছিলাম। ভাবতাম আমি তো খুব ভাল অভিনেতা, আমাকে সবাই ইজিলি নিয়ে নেবে, আমি বাড়ি বসেই কাজ পেয়ে যাব। বসে ছিলাম, থিয়েটার করছিলাম, কেউই ডাকছিল না। উইপ্রো-তে একটা চাকরিতে ঢুকলাম, একটা ফিনান্সিয়াল ক্রাইসিস ছিল। বাবা রিটায়ার করে গিয়েছিলেন তার কয়েক বছর আগেই। উইপ্রো-তে গিয়ে দেখলাম যে এটা তো আমার কাজ নয়, কিন্তু ফর দ্য সেক অফ লিভিং করছিলাম। এর পর একে ওকে তাকে ধরে, ২০০৮ নাগাদ আমি অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলাম। অডিশন নিয়েছিলেন কিন্তু তখন ওপেনিং ছিল না। অনিন্দ্যদার তখন একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের প্রয়োজন ছিল। উনি বলেছিলেন, তুই যদি অ্যাসিস্ট করতে চাস করতে পারিস। শিক্ষিত ছেলে, অসুবিধা হবে না। আমি কাজটা করতে শুরু করলাম। কিন্তু উনি প্রচণ্ড হেল্প করেছিলেন।

আমাকে বিভিন্ন জায়গায় অডিশনে ঠেলে ঠেলে পাঠাতেন। করতে করতে ‘আয় বৃষ্টি ঝেঁপে’-তে একটা ছোট চরিত্রে করেছিলাম। তার পরে আকাশ বাংলা-র ‘চ্যাম্পিয়ন’-এ লিড করলাম। অপরাজিতাদিই (অপরাজিতা ঘোষ দাস) বলেছিলেন যেতে। ২০০৯-এর শেষদিক সেটা। তার পরে ‘দেবদাস’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘মৌচাক’... মাঝখানে একটা ছবি করেছিলাম, ‘কাল মধুমাস’। তার পরে ‘তুমি আসবে বলে’-র অফারটা আসে। ওই ধারাবাহিকের নেগেটিভ চরিত্রটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হল। এখন ম্যাজিক মোমেন্টস-এ ‘কুসুমদোলা’য় আমার কাজ দেখে লীনাদির মনে হয়েছে যে আমি লিড করতে পারি। কালারস বাংলা-র ‘গাছকৌটো’-র লিডটা করছি এখন।

তোমার কি পরবর্তীকালে পরিচালক হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে? 

সুদীপ: সেটা তো রয়েছে কিন্তু আমি না ওই রেস্ট্রিকশনের মধ্যে কাজ করতে পারব না। কেউ যদি আমাকে টাকা দেয়, তাকে আমাকে পুরোপুরি স্বাধীনতাটা দিতে হবে। আমার অনেক স্ক্রিপ্ট রেডি আছে কিন্তু যখনই কাউকে শোনাতে যাই অনেক কন্ডিশনস এসে পড়ে। আমি হয়তো ভাবছি কোনও নতুন ছেলেকে নিয়ে করব, ওঁরা হয়তো পরিচিত মুখকে নিতে বললেন। আসলে আমি তো অভিনেতা খুঁজি না, আমি আমার ক্যারেক্টারস খুঁজি। যদি ইন্ডিপেন্ডেন্টলি করতে পারি বা এমন কাউকে পাই যিনি স্বাধীনতা দেবেন, তবে নিশ্চয়ই করব কাজ। 

সবটাই চরিত্র কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু টার্ম থাকে যে ‘ক্যারেক্টার’, ‘নেগেটিভ’ বা ‘লিড’। অনেক অভিনেতাদের এমন একটা ভাবনা থাকে যে লিড ছাড়া অভিনয় করব না কারণ একবার নন-লিড করলে পরে আর কেউ লিড চরিত্রে কাস্ট করবে না। তোমার কি মনে হয় এই ভাবনাটা ঠিক? 

সুদীপ: একেবারেই না। কারণ আমাকে যদি ধরো, মাঝখানে অনেকদিন নেগেটিভ করেছি, পার্শ্ব-চরিত্র করেছি, সেকেন্ড লিডও করেছি। অনেক সময় অনেক রকম ক্রাইটেরিয়া থাকে তো, তোমার ফিজিক্যাল অ্যাপিয়ারেন্স থেকে শুরু করে, কীভাবে তুমি কথা বলছ, নিজেকে কীভাবে ক্যারি করছ সবটাই ম্যাটার করে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি এখন অনেকটাই করপোরেট হয়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত তুমি যদি অভিনয় করতে পারো তুমি কাজ পাবে। হয়তো সময় লাগে কিন্তু একবার ক্যারেক্টার আর্টিস্ট করলে লিড করা যায় না, সেটা একেবারেই না প্রথমত। দ্বিতীয়ত, ক্যারেক্টার আর্টিস্ট, লিড, হিরো বা ভিলেন এগুলো আমরা এভাবে দেখি কিন্তু তুমি যদি দেখো, শাশ্বতদার জনপ্রিয়তা কিন্তু সোহমদা বা অঙ্কুশের থেকে কোনও অংশে কম নয়। রনিদা কাজ করছেন ‘জগ্গা জাসুস’-এ, ‘সিনেমাওয়ালা’-তে প্রধান চরিত্রই পরাণজেঠুর, তাই কোথাও তো আমরা ভাঙছি। কাজেই এর পরে এমন ছবিই হবে যেখানে হিরোও লাগবে না, অভিনেতা লাগবে। সেখানে অভিনেতাদেরই অ্যাপ্রোচ করা হবে। 

সুদীপের ‘আদার সাইড’টা কী? 

সুদীপ: দুটো দিক আছে। একটা পার্সোনাল আর একটা প্রফেশনাল। অনেক রকম চরিত্র করছি কিন্তু আরও অনেক কিছু করার আছে। আমি শুধু এইটুকুই বলতে চাই, আরও অনেক কিছু করতে পারি। কিন্তু তেমন চরিত্র তো আসতে হবে। আমি তো বলে বোঝাতে পারব না যে আমি কী পারি। সেটা একটা সাঙ্ঘাতিক খিদে, সাঙ্ঘাতিক অস্বস্তি থাকে, হয়তো সব অভিনেতারই থাকে। পার্সোনাল লাইফের কথা যদি ধরো, আমি খুব ইনট্রোভার্ট। দিন শেষ হলে বা শ্যুটিং শেষ হলে আমার পার্টিটা করতে ভাল লাগে না। মনে হয় বসে একটু সিনেমা দেখি বা ওয়েবসিরিজ দেখি বা বই পড়ি। তা বলে বলছি না যে পার্টি করা খারাপ। প্রচণ্ড আড্ডা, সিনেমা দেখা, সবই করি, কিন্তু আমাকে যদি তুমি বলো যে পার্টিতে ‘যেতে’ হবে, সেটা খুবই বিরক্তিকর। 

প্রেম? 

সুদীপ: প্রেম নেই আপাতত। আমি অ্যাফ্রেড অফ লভ বলতে পারো। আমি প্রেম করেছি বেশ কয়েক বার। ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই জানে। আমি প্রচণ্ড ডেডিকেটেড লাভার, যে দু’টি সম্পর্কে ছিলাম, তার মধ্যে একটি সম্পর্ক প্রায় দু’বছর আগে থেকে নেই, সে-ও অভিনেত্রী। লোকে বলে আমি একটু ফাদারলি প্রেম করি। তবে প্রেম করার পরে প্রত্যেক বারই আমাকে যে সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, সেটাতে আমি ভয় পাই। আমি আর প্রেম ‘করতে’ চাই না, আমার মনে হয় আমি প্রত্যেক বার প্রেমটা ‘করে’ ফেলেছি, দ্যাট ওয়াজ মাই মিসটেক।