ভীষণ মনখোলা, সাহসী একজন মানুষ। বাংলা টেলিভিশনের সেরা সুন্দরীদের অন্যতম তো বটেই, সুঅভিনেত্রীও। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে তিনি মুম্বইয়ের বাসিন্দিা। কলকাতা ছেড়ে কেন মুম্বইয়ের বাসিন্দা হলেন?  কোনও অভিমান নাকি অন্য কিছু? কিছুদিনের জন্য কলকাতায় এসেছিলেন, তখনই কথা বললেন এবেলা ওয়েবসাইটের সঙ্গে—

কী করছ তুমি এখন মু্ম্বইতে? 

প্রিয়া: আমি মুম্বই এসেছি ফেব্রুয়ারিতে। টেলিভিশনের একটা কাজ নিয়েই এসেছিলাম কিন্তু সেটা সামহাউ হয়নি। আমার কনট্রাক্ট সাইনও হয়ে গিয়েছিল কিন্তু অনেক দূর এগিয়েও সেটা ক্যানসেল হয়ে গেল। এখন আমি এখানে প্রচুর প্রিন্টের কাজ করছি, প্রিন্ট মানে ক্যাটালগস। এছাড়া হিন্দি শিখছি, অডিশন দিচ্ছি। টেলিভিশনে আবারও বেশ কয়েকটা জায়গায় কাজের কথা চলছে, দু’তিন জায়গায় লুকসেটও হয়েছে কিন্তু এখনও কনফর্ম হয়নি। 

বাংলা ছেড়ে চলে গেলে কেন? 

প্রিয়া: তেমন স্পেসিফিক কোনও কারণ নেই। আমি অনেকদিন থেকেই চাইছিলাম যে মুম্বইতে গিয়ে কাজ করি। আমি চাইছিলাম নতুন নতুন ডিরেক্টরের সঙ্গে কাজ করতে। হিন্দি হোক বা বাংলা, ফরম্যাটটা তো অলমোস্ট সেম। শুধু বাজেটটা মুম্বইতে অনেক বেশি থাকে। এখানে আমার আট বছর কাজ করা হয়ে গেছে, তো সামহাউ আমার মনে হচ্ছিল যে এবার আমি ট্রাই করি মু্ম্বইতে গিয়ে। সেই জায়গা থেকে যদি ওখানে ভাল হয় তো ভাল, না হলে আবার আমি বাংলায় ফিরে কাজ করব। অন্তত দশ বছর পরে আমার এটা মনে হবে না যে আমি তো একবারও ট্রাই করলাম না, করলে হয়তো পেয়ে যেতাম। আর মুম্বইতে না, তুমি যদি কাজ জানো তাহলে তুমি কাজ পাবে। ওখানে গিয়ে একটু সিরিয়াস থাকতে হবে আর তোমার কাজটা তোমাকে জানতে হবে— এই দুটো। আর লাক ডেফিনিটলি দরকার হয় কিন্তু আমার মনে হয় ওটা পরে আসে। 

আগে স্কিল তার পরে লাক! 

প্রিয়া: হ্যাঁ, ‘বিগ বস’ থেকে এসে আমি অনেক ভাল ভাল অফার পেয়েছি কলকাতায় কিন্তু আমার সামহাউ মনে হয়েছে যে কাজগুলো আমি পাচ্ছি, সেখানে ঢুকলে আমি তিন বছরের জন্য ব্লক হয়ে যাব। তার পরে আর মনে হয় না মুম্বই যেতে পারব কারণ গত তিন বছর ধরে চেষ্টা করছিলাম কিন্তু পর পর কাজ এসে যাচ্ছিল। কলকাতায় বসে অনেক ভিডিও ক্লিপও পাঠিয়েছি মুম্বইতে কিন্তু তার পর আমি বুঝলাম যে সামহাউ কলকাতায় বসে ট্রাই করলে হবে না। ওখানে থেকে কাজটা করতে হবে। ওখানে পুরো সিস্টেমটা আলাদা। কাস্টিং ডিরেক্টর থাকে, কো-অর্ডিনেটর থাকে। কার সঙ্গে যে কথা বলতে হবে, কার নম্বর জোগাড় করতে হবে, সেটা বুঝতে বুঝতেই বেশ খানিকটা সময় লাগে। ওখানে কুড়ি-পঁচিশটা প্রোডাকশন হাউস, কোথায় কী কাজ হচ্ছে, একজন অ্যাক্টরের পক্ষে সম্ভব নয় সেই খোঁজটা রাখা। সেই খোঁজটা কো-অর্ডিনেটররা রাখে। আর তাদের সঙ্গে কনস্ট্যান্ট টাচে থাকতে হয়। তবে মুম্বইতে কাস্টিং খুব ফেয়ার প্রসেসে হয়, কোনও কানেকশন দিয়ে নয়। তুমি লুক টেস্ট দাও, তার পরে তুমি শর্টলিস্ট হলে তোমাকে প্রপার লুকসেটের জন্য ডাকবে। তার পরে সেটা চ্যানেলে যাবে। আলটিমেটলি কিন্তু চ্যানেল থেকেই সিলেকশন হবে।  

বেশ অরগানাইজড তো বিষয়টা...

প্রিয়া: হ্যাঁ প্রচণ্ড অরগানাইজড। আর মুম্বইতে চার-পাঁচ মাস কোনও ব্যাপার নয়, ঠিকঠাক কাজ পেতে অনেকের দু’বছরও লেগে যেতে পারে। আমি মাঝখানে অনেকগুলো কাজ পেয়েওছিলাম কিন্তু ওই ক্যারেক্টারগুলো আমি করব না। আর একটা জিনিস, এখানে যেমন অনেক আর্টিস্টদের সঙ্গে চ্যানেলের ইপি, চ্যানেল হেডদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকে, ওখানে কিন্তু সেটা আমি দেখিনি। ওখানে একজন আর্টিস্টকে ভাল সম্পর্ক রাখতে হয় প্রোডাকশনের সকলের সঙ্গে। এখানেও রাখতে হয় বা কাজ করতে করতে হয়ে যায়। যেমন আমি ৬ বছর ম্যাজিক মোমেন্টস-এ কাজ করেছি। ওই হাউসের সঙ্গে আমার একটা অন্য রকম সম্পর্ক। আমি আবদার করতে পারি লীনাদির কাছে। এবারও কলকাতায় এসে লীনাদির বাড়িতে গেছি। আর সত্যি বলছি, আমি যে মুম্বইতে গেছি সেটা কিন্তু কোনও রকম রাগ বা অভিমান থেকে নয়। আসলে আমি মনে করি সব প্রফেশনেই একটা গ্রোথের বিষয় থাকে। কেউ যদি একটা মুদিখানার দোকানও দেয়, তবে তারও ভাবা উচিত যে কীভাবে আরও বড় একটা দোকান হবে, সেখান থেকে কিছুদিন পরে হয়তো সে হোলসেলার হবে, হয়তো তার বড় গোডাউন হবে। ঠিক তেমনই আমারও একটা ড্রিম আছে আর তার জন্যেই আমি এই রিস্কটা নিয়েছি।

 

খুব সাহসী পদক্ষেপ কিন্তু।

প্রিয়া: আসলে আমি অনেক ছোট থেকে একা থাকি। ক্লাস ইলেভেনে যখন পড়ি, তখন থেকেই কাজ করার শুরু। নৈহাটি থেকে কলকাতায় এসে একা থাকতে শুরু করেছিলাম। তার আগে আমি কিছুই চিনতাম না। শ্যুটিং কোথায় হয়, কিছুই জানতাম না। তাই মুম্বইতে আলাদা করে স্ট্রাগল বলে কিছু মনে হয় না। ওখানেও একা থাকতাম, এখানেও একা থাকি। শুধু বন্ধুবান্ধব নেই, বাবা-মাকে মিস করি, ওইটা একটা কষ্ট। হ্যাঁ, কলকাতায় আমার গাড়ি ছিল, এখানে নেই। কিন্তু যেহেতু কেউ চেনে না আমাকে এখানে, তাই দিব্যি অটোতে যাতায়াত করি। আমি নিজে রান্না করি, নিজে বাজার করি, নিজেই সব বিল জমা দিই, নিজেই সিলিন্ডার নিয়ে আসি... আমার কাছে এগুলো কিছু একটা ব্যাপার নয়। আর এটা অনেকটাই কিন্তু হয়েছে আমার বাবা-মায়ের জন্য। আমি খুব কনজারভেটিভ ফ্যামিলি থেকে এসেছি। বাবা-মা সব সময় খুব চাপে রাখত। কিন্তু আমার কিছু ড্রিম ছিল। আমি লন্ডন যাব, প্যারিস যাব, যেটা মধ্যবিত্ত পরিবারের খুব একটা কেউ ভাবতে পারে না। আমার একটা জেদ চেপে গিয়েছিল যে আমাকে অনেক টাকা রোজগার করতে হবে নাহলে জীবনের এই ড্রিমগুলো কোনওদিন ফুলফিলড হবে না। আর আমার মনে হতো যে আমি অভিনয়টাই করতে পারব। আমার বক্তব্য হল ভাই জীবন একটাই, তাই লাইফে রিস্ক নাও। আর যদি না নিতে পারো, তবে স্বপ্ন দেখে লাভ নেই।