সেন্ট্রাল থেকে ভিড় চলেছে দক্ষিণে। লন্ডনে যেন দুর্গাপুজোর মতো ঢল নেমেছে মানুষের। উৎসবের আমেজ এনে দিয়েছে রাজকুমার হ্যারি আর মেগান মার্কেলের বিয়ে। 

শেষ দিন তিন-চারেক লন্ডনের আবহাওয়াও যেন রাজবিবাহের জন্য তৈরি। ২০ ডিগ্রির আশপাশ থেকে নড়তেই চাইছে না পারদ। কয়েকদিন আগেও আকাশ মেঘলা থাকায় বেশ মন খারাপই হয়ে গিয়েছিল। বিয়ের দিন সকাল থেকেই দেখলাম, লোকজন নেমে পড়েছে দিব্যি। যেন তাদেরই পরিবারের কারও বিয়ে। আমার অফিসের সহকর্মীরা তো দেখলাম, হ্যারি আর মেগানের মুখোশ পরেই সারা দিন কাটিয়ে দিল। একেবারেই পার্টির মেজাজে সকলে। 

 

শীতের দেশে এমনিতেই সন্ধে সাড়ে ৭টা-৮টা’র মধ্যে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বিয়ের জন্য রেস্তোরাঁ, কফিশপগুলো খোলাই থাকবে আরও কিছুটা সময়। বিক্রিও বেড়ে গিয়েছে শুনলাম ওদের। আমি থাকি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের পাশেই। সেন্ট্রাল লন্ডনের এই জায়গাটায় বড় বড় স্ক্রিন লাগানো হয়েছিল, লাইভ বিয়ে দেখানোর জন্য। যাঁরা বেড়াতে এসেছেন, তাঁরাও দিব্যি ক্যাফেগুলোতে সময় কাটাচ্ছেন। খাচ্ছেন-দাচ্ছেন, হইহুল্লোড় করছেন। মুখোশ পরে বেরিয়ে পড়ছেন।

শনিবার ভিড়টা মোটামুটি আমাদের দুর্গাপুজোর মতো সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে সাউথ লন্ডনের দিকে লাইন দিয়ে যাচ্ছিল। এমনিতেই ‘আই ওয়ান্ট টু ম্যারি ইউ হ্যারি’ লেখা টি-শার্ট বহুদিন ধরেই বিকোচ্ছে। এদিনও দেখলাম, অনেক তরুণীই ওই টি-শার্ট চাপিয়ে, হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে হেঁটে গেলেন। দক্ষিণের দিকটাতেই ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবি, কেনসিংটন প্যালেস। উইনসর ক্যাসেলও সেদিকেই। কাজেই বেড়াতে যাওয়ার সঙ্গে বিয়ে দেখাটাও হয়ে যাবে।

লন্ডনে আবার উপমহাদেশের লোকজনের ছড়াছড়ি। বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয় রেস্তোরাঁ এখানে রমরমিয়ে চলে। বিয়ের দৌলতে এঁদের রেস্তোরাঁগুলোতেও তিলধারণের জায়গা ছিল না। পার্টি মোড বোধহয় একেই বলে। 

মেগানের টিয়ারা এবং ওঁর ওয়েডিং ড্রেসটা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে এখানে। টিয়ারাটা তো কুইন মেরির। উনি আবার দ্বিতীয় এলিজাবেথকে দিয়েছিলেন। সেটাই পরলেন মেগান। আর ওয়েডিং ড্রেসটা বানিয়ে দিয়েছেন, জিভনশি’র একজন ডিজাইনার। ৫৩টা ফুল রয়েছে ওয়েডিং গাউনে, যেগুলো কমনওয়েলথ দেশগুলোর প্রতীক। লোকজন কিন্তু এসব নিয়েও দিব্যি আলোচনা করছিল এদিন। যতই হোক, রাজবিবাহের খুঁটিনাটি কে না জানতে চায়! মেগানের মা’কে দেখলাম টিভিতে বার বার দেখানো হচ্ছে। খুব কাঁদছেন মহিলা। সত্যিই এমন জিনিস তো দেখা যায়নি রাজপরিবারে। যেখানে অত্যন্ত সাধারণ বাড়ির কোনও মেয়ে রাজবধূ হলেন। তিনি তো চাইবেনই, মেয়ে সুখে থাকুক, ঘর-সংসার করুক। এ দৃশ্য ভোলার নয়। 

শনিবার আবার ডার্বিও ছিল। এফএ কাপে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ভার্সেস চেলসি। হ্যারি-মেগানের বিয়ের দিন জমিয়ে খেয়েদেয়ে, সারাদিন ঘোরাঘুরি করে ফুটবল পাগল ব্রিটিশদের একটা লম্বা লাইন অবশ্য ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের বাইরেও এসে হাজির হয়েছিল। ওদিকে হ্যারি-মেগানের চারহাত এক হয়ে গিয়েছে ততক্ষণে।