‘হাউসফুল’ ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ হতে পেরে কেমন লাগছে?
এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সবক’টা ছবিই দর্শক পছন্দ করেছেন। তাই এর অংশ হতে পেরে ভাল তো লাগবেই। আগের দু’টো ছবি বেশ ভাল চলেছিল। ‘হাউসফুল থ্রি’র মুক্তির জন্যেও আমার বন্ধুবান্ধব-আত্মীয়েরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন। যে ছবি নিয়ে এত মাতামাতি তাতে আমি অভিনয় করছি, সেটা তো বেশ সম্মানের।

সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে সেট’এ কেমন সময় কাটল?
রীতেশের (দেশমুখ) কমিক টাইমিং দুর্দান্ত। অভিনেতা হিসেবে ও কতটা পরিণত, সেটা দেখে আমি খুবই ইম্প্রেস্‌ড। কত ধরনের চরিত্র করতে পারে রীতেশ! কমেডিতে তো বেশ পটু। ছবিতে আমাদের কেমন সমীকরণ হবে, সেটা বুঝে নিতে দু’জনে একটা লুক টেস্ট করেছিলাম। ভাব হয়ে যাওয়ার পর থেকে বেশ মজা করেছি আমরা। মেয়েদের কথা বলতে হলে বলব, দারুণ অভিজ্ঞতা! ছবিতে আমি, জ্যাকলিন (ফার্নান্ডেজ) আর নার্গিস (ফকরি) তিন বোন। বোনেদের মধ্যে একটা অদ্ভুত বন্ডিং থাকে। বন্ধুত্ব থাকে। সেটা পরদায় ফুটিয়ে তোলা খুব জরুরি ছিল। আমার মনে হয়, আমাদের ব্যাকগ্রাউন্ড এক বলে সেটা করতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। তার উপর আমাদের রসবোধও একই রকম বলতে পারেন (হাসি...)!

‘কমিক টাইমিং’ নিয়ে আপনার কোনও অসুবিধে হয়েছিল?
পরিস্থিতির উপর আমার কমিক টাইমিং নির্ভর করে। মানে কোন পরিস্থিতিতে কী হচ্ছে, সেই অনুযায়ী আমি রিঅ্যাক্ট করি। আগে থেকে পরিকল্পনা করে, প্রস্তুতি নিয়ে সেট’এ যেতাম না। রীতেশও দারুণ কমিক-অভিনেতা। আশা করছি আমাদের দু’জনের রসায়নটা ভালই জমেছে। দেখা যাক, দর্শকের কেমন লাগে!

এই নিয়ে দ্বিতীয়বার অক্ষয় কুমারের সঙ্গে কাজ করলেন। অভিজ্ঞতা কেমন?
সহ-অভিনেতা হিসেবে অক্ষয়ের তুলনা হয় না। সব সময় সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। ছবিতে ওর চরিত্রটা যতটা মজাদার, বাস্তবে ও তারও বেশি। সারাক্ষণ মজা করছে বা কারও পিছনে লাগছে। মানুষ হিসেবেও খুব ভাল অক্ষয়। খুব পরিশ্রমী আর সংযত জীবনযাপন করে। আমার মতে, কমিক চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে নিজের ব্যক্তিত্বের ওজনটা ভুলে যেতে হয়। অক্ষয় সেটায় দক্ষ। প্রতিটা দৃশ্যে এমনভাবে অভিনয় করে, যে দৃশ্যটা আরও মজাদার হয়ে ওঠে।

‘হাউসফুল থ্রি’ বাছার পিছনে কী কারণ ছিল?
মজাদার গল্প বলেই আমার ভাল লেগেছিল। কাস্টিংও বেশ ফ্রেশ। আমি এর আগে 
কোনও অঁসম্বল কাস্টের ছবিতে অভিনয় করিনি। ভাল সহ-অভিনেতা আর ভাল পরিচালক থাকলে সে ছবিতে কাজ করার উৎসাহ বেড়ে যায়। তাছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজিটা বেশ জনপ্রিয়। সেটাও একটা বড় কারণ ছিল।

‘কুইন’এর বিজয়লক্ষ্মীকে সকলে ভালবেসে ফেলেছিলেন। আপনি নিজে এই চরিত্রটার সঙ্গে কতটা ‘রিলেট’ করতে পেরেছিলেন?
দর্শক কোনও অভিনেতাকে একটা চরিত্রে দেখলে ভেবে নেন, বাস্তবেও তিনি সেই চরিত্রেরই মতো। এটা বেশ মজার ব্যাপার। চরিত্রের সঙ্গে অভিনেতার কিছুটা মিল থাকতে পারে। কিন্তু পুরোটা তো মিলে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে সত্যি কথা বলতে কী, বিজয়লক্ষ্মীর চরিত্রটা যখন আমি করেছিলাম, নিজেকে মোটেই মেলাতে পারতাম না ওর সঙ্গে। আমি অত ওয়াইল্ড নই। তবে ‘হাউসফুল থ্রি’এর চরিত্রটার সঙ্গে আমার বেশ মিল রয়েছে। আমার বাবার সঙ্গে সম্পর্কটা চিত্রনাট্যের সঙ্গে অনেকটা মিলে যায়। লোকে আমায় দেখে হয়তো বিজয়লক্ষ্মীর মতোই ভাবে। কিন্তু আসলে আমি বেশ ‘সংস্কারী লড়কি’ (জোর হাসি...)! জোক্‌স অ্যাপার্ট, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আমার নানা রকম প্রতিক্রিয়া হয়। অভিনয় করাটা বেশ ইন্টারেস্টিং। নিজেকে নানা রকম পরিস্থিতিতে ফেলে দেখা, কীভাবে সামাল দিচ্ছি। সেটা করতে গিয়ে মাঝে মাঝে চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে হয় বইকী!

হিন্দি ভাষায় কতটা সড়গড় হলেন?
ছোট থেকে অনেককেই হিন্দি বলতে শুনেছি। নিজে বলার সময় কিছু ব্যাকরণগত ভুল হয় বটে, কিন্তু সংলাপ বলার সময় মোটেই হয় না! যাতে কেউ ভাষা নিয়ে খুঁত না ধরতে পারে, তাই খুব মন দিয়ে নিজের সংলাপ মুখস্থ করি। এমনকী, সহ-অভিনেতার সংলাপগুলোও আমার মুখস্থ থাকে। হোমওয়ার্কটা ভালই করি আমি (হাসি...)!

খুব বেছে বেছে ছবি করেন। এটা কি সচেতন সিদ্ধান্ত?
একটা ছবি করা মানে বড় দায়িত্ব। বেশ সময়সাপেক্ষও। শ্যুট করতেই দু’তিন মাস লেগে যায়। তারপরও বেশ কিছুটা সময় যায় ছবির প্রচারে। তাই এমন ছবি বাছি, যেগুলো নিয়ে আমি প্যাশনেট। চরিত্রটা ভাল করে ফুটিয়ে তুলতে পারব কিনা, সেটা যাচাই করে নিই। ছবিটা আখেরে আমার কেরিয়ারের জন্য কতটা ভাল, সেটা দেখে নিই। শুধু ফিল্মোগ্রাফির সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ছবি করতে পারি না। আমি জীবনটা উপভোগও করতে চাই। তেমন কোনও শূন্যতা নেই যেটা পূরণ করতে হবে। অভিনয় ছাড়াও আরও অনেক কিছু করতে পছন্দ করি আমি। এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের স্ট্রেস খুব বেশি। তাই মাঝে মাঝে ছুটি নেওয়া প্রয়োজন। ছুটি কাটিয়ে ফেরার পর নতুন উদ্যমে কাজ করা যায়। তবে আরেকটা কথাও ঠিক। এমন অনেক ছবি রয়েছে, যেগুলো আমি হয়তো করতে চেয়েছি, কিন্তু সুযোগই পাইনি (হাসি...)। তাই বেছে বেছে ছবি করি, সেটা বলা যাবে না। বলতে পারেন, যে ক’টা ছবির অফার আসে, তার মধ্যে ব্যালান্স করে ছবি করি।

কোন অভিনেতা বা পরিচালকের সঙ্গে আপনি কাজ করতে চান?
আমার উইশলিস্টে অভিনেতার চেয়ে পরিচালকেরই নাম বেশি। কারণ একজন অভিনেতা যতই ভাল কাজ করুন, ভাল পরিচালক ছাড়া ছবিটা দাঁড়াবে না। ভাল পরিচালকের হাতে অনেক ভাল অভিনেতা তৈরি হয়। কর্ণ জোহরের গল্প বলার স্টাইল বেশ কনটেম্পোরারি। ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ছবিতে কিছুটা টের পেলাম। কিন্তু তাতে মন ভরেনি। আরও কাজ করতে চাই কর্ণের সঙ্গে। ‘আয়েষা’র (রাজশ্রী ওঝা পরিচালিত) পর আর মহিলা পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাইনি। জোয়া আখতারের সঙ্গে কাজ করতে পারলে খুশি হব। বিশাল ভরদ্বাজের ছবিগুলো কী দারুণ! ওঁর ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পেলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করব।