কলেজের ‘অ্যাডমিশন ফি’ ৫,২০০ টাকা। কিন্তু ভর্তি হতে গেলে ছাত্র সংসদকে দিতে হবে ৩০০০ টাকা! 
না-দিলে পড়ুয়াদের মিলবে না রেজিস্ট্রেশন নম্বর। হস্টেল পেতে সমস্যায় পড়তে হবে। মার্কশিটও আটকে রাখা হতে পারে। অভিযোগ, ভর্তি হতে গেলে মানিকতলার ‘ক্যালকাটা হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে’ এমন ‘গা-জোয়ারি’ চালাচ্ছে তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন। 

হোমিওপ্যাথি ডাক্তারি পড়তে হলে কলেজের নির্দিষ্ট ফি’র সঙ্গে ছাত্র সংসদের নির্ধারিত ৩০০০ টাকা না দিলে নতুন পড়ুয়াদের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। বুধবার ভর্তি হতে-আসা এক ছাত্র টাকা দিতে চাননি। তাঁর এক আত্মীয় বললেন, ‘‘আমাকে ছাত্র সংসদের নেতারা বললেন, টাকা না-দিলে মার্কশিট জমা রেখে দেওয়া হবে! এমন তুঘলকি রাজত্ব আগে দেখিনি।’’

মানিকতলার ওই কলেজে গত সোমবার থেকে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথমে স্বাস্থ্যভবনে ভর্তিতে ইচ্ছুক পড়ুয়াদের কাউন্সেলিং হয়। তারপর যোগ্য পড়ুয়ারা কলেজে গিয়ে ভর্তি হন। নিয়মমাফিক সোমবার থেকে কাউন্সেলিং শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে কলেজে ভর্তি নেওয়া। 
ভর্তির জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ নিচ্ছেন মোট ৫,২০০ টাকা। ঘটনাপ্রবাহ বলছে, ভর্তি হওয়ার ওই টাকা জমা দেওয়ার পরেই ছাত্রদের যেতে বলা হচ্ছে পাশের একটি ঘরে। সেখানে তাঁদের প্রত্যেকের থেকে ৩০০০ টাকা করে নিচ্ছেন ছাত্র সংসদের দুই ‘প্রতিনিধি’।

দেওয়া হচ্ছে ‘ছাত্র সংসদ’ (স্টুডেন্টস’ ইউনিয়ন) লেখা রসিদও (সঙ্গে ছবিতে)। সকলে স্বেচ্ছায় সেই অর্থ দিতে রাজি হচ্ছেন এমন নয়। তবে মার্কশিট আটকে রাখা হতে পারে বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর পেতে সমস্যায় পড়তে হবে শুনে পাংশু মুখে অনেকে ছাত্র সংসদের দাবিমতো টাকা দিয়েও দিচ্ছেন। 
এদিন ভর্তি প্রক্রিয়া চলাকালীন কয়েকজন পড়ুয়া ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিদের জানান, তাঁদের কাছে ৩০০০ টাকা নেই। পড়ুয়াদের পাল্টা বলা হয়, টাকা না দিলে হস্টেল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর পেতে অসুবিধা হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক ছাত্রের অভিভাবকের অভিযোগ, ‘‘টাকা দিতে না-চাইলে মার্কশিট আটকে রাখা হবে বলেও হুমকি দিচ্ছেন ছাত্র সংসদের নেতারা।’’