‘‘মোহনবাগানকে এখনও ভালবাসি, মনে প্রাণে ভালবাসি। এই ক্লাবকে কখনও ভুলতে পারব না।’’

‘‘সবুজ মেরুন জার্সি আমার কাছে ভীষণ পবিত্র...’’

‘‘ভবিষ্যতে সবসময়ে চাইব সাফল্যের উত্তুঙ্গ শিখরে থাকুক মোহনবাগান...’’

বক্তা কে? একশো জনের মধ্যে নিরানব্বই জন-ই সম্ভবত বলবেন, মোহনবাগানের কোনও ফুটবলার অথবা একজন অন্তপ্রাণ বাগান সমর্থক। কিন্তু যদি বলা হয়, বক্তা মোহনবাগান থেকে বিতাড়িত, অপমানিত আনসুমানা ক্রোমা, তাহলে হেঁচকি ওঠা ভীষণ স্বাভাবিক, ঘোর লাগা নির্ঘাত সত্য।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

২৪ ঘণ্টা আগেই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। মোহনবাগান সমর্থকদের গণশোকের সাক্ষী থেকেছে কলিঙ্গরাজ্য। যদি না হতো, তাহলে হয়তো আরও একটা ডার্বি মহারণের দামামা বাজত পড়শি রাজ্যে। ডার্বি-যুদ্ধের সম্ভাবনা মহানদীর তীরে তলিয়ে যাওয়ার পর সমর্থকদের সঙ্গেই জোর হাত কামড়াচ্ছেন স্বয়ং আনসুমানা ক্রোমাও। প্রিয় দলের বিরুদ্ধে খেলতে মুখিয়ে ছিলেন যে!

বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ফাইনালে নামার ৪৮ ঘণ্টা আগে লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকার বলে দিলেন, ‘‘মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ফাইনালে নামার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম।’’ কেন? ‘‘ওদেরকে ভুল প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম। তবে আপাতত বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধেই জান-প্রাণ লড়িয়ে খেলতে চাই।’’

মোহনবাগানের হয়ে মরশুমের মাঝপথেই তাঁকে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘এক্সিট ডোর’।  জার্সিতে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘খেপের মাঠের সম্রাট’, ‘ফ্লপ তারকা’ শব্দবন্ধনী। পড়শি ক্লাবের চূড়ান্ত অপমানিত ক্রোমাকে অবশ্য আপন করে নিয়েছে ইস্টবেঙ্গল-ই। অথচ, ফাইনালে খেলতে নামার আগে ক্রোমার মুখে বাগান-নাম। বলে দিচ্ছেন, ‘‘ভারতে আমাকে ফুটবলার হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে মোহনবাগান-ই। আজ আমাকে সবাই চেনে মোহনবাগানের হয়ে খেলার পরেই। কী করে ওদের ভুলব?’’

মোহনবাগানের অনুশীলনে ক্রোমা। — নিজস্ব চিত্র (ফাইল)

ঘোর লাগে, বিভ্রম জাগে! ক্লাব থেকে বিতাড়নের পরেও এত ক্লাব-প্রীতি থাকা সম্ভব? সমস্ত সংশয় দূর করে ক্রোমা অনর্গল, ‘‘ওরা আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছে, তবে ওদের প্রতি কোনও দিন খারাপ ভাবনা মনে আসেনি। ওদের সমস্ত কিছুই ভালবাসি। আমার জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে মোহনবাগান।’’ ফাইনালের পর তাঁর ঠাঁই কোথায়, তা-ও এখনও জানেন না তিনি। ঈশ্বরের উপরেই সবকিছু ভাবনা ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। 

তবে বাগান-ভালবাসায় দাঁড়ি টেনে তিনি আপাতত ফাইনালের মঞ্চে নিজেকে চেনানোর চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন। বলছেন, ‘‘ওদের সুনীল কিন্তু মারাত্মক। বিপক্ষের পুরো ছক ও একাই পাল্টে দিতে সক্ষম।’’

ভারতে এসে মোহনবাগান ছাড়াও চার্চিল, পিয়ারলেসে খেলেছেন জর্জ উইয়ার দেশের তারকা। এখন খেলছেন ইস্টবেঙ্গলে। তা সত্ত্বেও তাঁর মনে-প্রাণে কেবলই মোহনবাগান। ভালবাসার সেই হ্যাংওভার এখনও কাটাতে পারেননি তিনি। লাল-হলুদ জার্সিতে শুক্রবারও ফাইনালে তিনি নামবেন বুকে সবুজ মেরুন সুগন্ধ নিয়ে। ব্যারেটো কিংবা সনি নর্দের মতো হয়তো পারফর্মার নন, তবে গঙ্গাপাড়ের ক্লাবের প্রতি স্রেফ বুক উজাড় করা ভালবাসায় হাইতিয়ান, ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের পাশে বসতেই পারেন তিনি।