মুখের মত জবাব পেলেন খালিদ জামিল। তা নিজের কোনও ফুটবলারের কাছ থেকে নয়, বিপক্ষ ফুটবলারের কাছ থেকে। ৪৮ ঘণ্টা আগেই নিজেদের ঘরের মাঠে চারে চার করেছে খালিদ জামিলের ইস্টবেঙ্গল। তা-ও এরকম কথা শুনতে হচ্ছে কেন? আসলে শুক্রবার ইস্টবেঙ্গলের মাঠেই খেলা ছিল রেনবো এফসি বনাম টালিগঞ্জ অগ্রগামীর। সেই ম্যাচেই ২-১ গোলে জয় পেল টালিগঞ্জ। জোড়া গোল করে টালিগঞ্জকে জেতালেন ত্রিনিদাদ ও টোবাগ্যোর স্ট্রাইকার অ্যান্থনি উলফ। তিনিই ম্যাচের পর মুতোড় জবাব দিলেন তিনি। কীভাবে?

আসলে, বড় আশা করে ইস্টবেঙ্গলে এবার এসেছিলেন উইলিস প্লাজা। বলা ভাল প্রথম মরশুমে ব্যর্থ হওয়ার পরেও তাঁকে এনেছিলেন স্বয়ং কোচ খালিদ। আশা করেছিলেন, দ্বিতীয় মরশুমে ছন্দে ফিরবেন ক্যারিবীয় স্ট্রাইকার। তবে গতবারের মতোই এবারেও গোলের দেখা নেই তাঁর পা-য়ে। কলকাতা লিগে চার ম্যাচ খেলার পর প্লাজার নামের পাশে গোলসংখ্যা মাত্র এক। একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন প্রতি ম্যাচেই। গ্যালারি থেকে সমর্থকরাও বিদ্রুপ করছেন প্লাজাকে। 

প্লাজাকে নিয়ে অসন্তোষের মধ্যেই ইস্টবেঙ্গলে খোঁজ শুরু হয়েছিল নয়া স্ট্রাইকারের। আইলিগের জন্য ইতিমধ্যেই কথাবার্তা চূড়ান্ত ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার চার্লসের সঙ্গে। তবে চার্লস নয়, লাল হলুদ কর্তাদের একাংশের পছন্দের ছিলেন গত মরশুমে চার্চিলে খেলা অ্যান্থনি উলফ। তাঁর সঙ্গে কথাবার্তাও শুরু করেন ইস্টবেঙ্গলের কর্মকর্তারা। ময়দানে কান পাতলেই শোনা যায়, অ্যান্থনি উলফ-এ প্রথম থেকেই অনাগ্রহী ছিলেন কোচ খালিদ জামিল। মূলত, তাঁর পরামর্শেই নাকি ইস্টবেঙ্গল-এ আনা হয়নি অ্যান্থনি উলফকে। এমনটাই ছড়িয়ে পড়েছে কলকাতা ময়দানে। যাই হোক, ময়দানে তো অনেক কথাই শোনা যায়। ঘটনা হল, ফ্লপ প্লাজার পাশে উলফের পারফরম্যান্স বেশ জ্বলজ্বলে। টালিগঞ্জের হয়ে এখনই তিন গোল করে ফেলেছেন তিনি।

সদ্য টালিগঞ্জের দায়িত্ব নিয়েছেন সুভাষ ভোমিক। এটাই ছিল তাঁর প্রথম ম্যাচ। টালিগঞ্জের রিমোট কন্ট্রোল হাতে নিয়ে জয় দিয়ে শুরু করলেন বহু যুদ্ধের সৈনিক সুভাষ। তা-ও আবার ইস্টবেঙ্গল মাঠে। লাল-হলুদ ভক্তরা সুভাষকে দেখে ফিরে গেলেন পুরনো সেই দিনগুলোতে।