পৃথিবী জুড়েই এই অসুখ রীতিমতো ভীতিপ্রদ চেহারা ধারণ করেছে। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৬ সালের হিসেব বলছে, ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের ফলে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত উপার্জনকারী দেশগুলিতে। এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে! স্বভাবতই এ কথা স্পষ্ট যে, ক্রমে এই অসুখ তার ডালপালা বিস্তার করছে।  

পৃথিবী জুড়েই চিকিৎসকেরা মানুষকে সচেতন করছেন। পাশাপাশি চলছে নিত্যনতুন গবেষণা। উঠে আসছে নতুন সব দিক। পুরনো ধারণা ভেঙে যাচ্ছে। যেমন, চিনির বদলে স্যাকারিন বা অন্য কোনও কৃত্রিম সুইটনার গ্রহণ করলে ডায়াবেটিসকে জব্দ করা যাবে— এই ধারণাও টলে গিয়েছে! ইজরায়েলের ওয়েইজমান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের গবেষক দল তাঁদের গবেষণায় এমনই অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ করেছেন। 

একটি বিজ্ঞান সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের সঙ্গে কথোপকথনে অন্যতম গবেষক ইরান ইলিনভ জানিয়েছেন, ‘‘এটা অবশ্য বলা হচ্ছে না, চিনি খাওয়াটা বেশি নিরাপদ। ব্যাপারটা মোটেই তেমন নয়।’’ 

দেখা গিয়েছে চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত এই সব সুইটনারের প্রয়োগে উল্টে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গিয়েছে। ইঁদুর বা বেশ কয়েকজন ডায়াবেটিস রোগীর উপরে প্রয়োগ করে তেমনটাই দেখেছেন গবেষকরা। দেখা গিয়েছে, সুইটনার গ্রহণ করলে অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। তাতেই তৈরি হচ্ছে সমস্যা।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

এমনকী, যাঁরা চিনি খেয়েছেন এবং যাঁরা সুইটনার খেয়েছেন— এই দু’দলের অন্ত্রে ভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গিয়েছে। প্রায় ৪০০ জনের উপর পরীক্ষা করে এমনটা দেখা গিয়েছে। 

মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী এই ব্যাকটেরিয়ার নানা রকম প্রকারভেদ রয়েছে। সেই কারণেই একই সুইটনার প্রয়োগে ভিন্ন ব্যক্তিদের ভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গিয়েছে। 

এ বিষয়ে আরও গবেষণা করা হচ্ছে। হয়তো আরও কিছুদিনের মধ্যে এ বিষয়ে আরও বিশদে বলা সম্ভবপর হবে গবেষকদের পক্ষে।