কলকাতার টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীদের দিয়ে প্রত্যেক দিন ১৭-১৮ ঘণ্টা করে শ্যুটিং করানো অনেকদিন ধরেই জলভাতে পরিণত হয়েছে! এমনকী, যে শিল্পী কোনও ধারাবাহিকের মুখ্য চরিত্রে, তাঁকে প্রায় সারা মাসই শ্যুটিং চালিয়ে যেতে হয়। এ নিয়ে শিল্পী মহলে অসন্তোষ থাকলেও, অনেকেই ‘নামী’ প্রযোজনা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পেতেন না। এবার পরিস্থিতি পাল্টাতে ময়দানে নামল আর্টিস্ট ফোরাম। এক্ষেত্রে আর্টিস্ট ফোরাম পাশে পেয়েছে ফেডারেশন এবং টেলি-অ্যাকাডেমিকেও। এই ব্যাপারে সম্প্রতি আর্টিস্ট ফোরামের তরফে একটি নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে।

আর্টিস্ট ফোরামের নতুন আট-দফা নির্দেশিকায় সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রোডাকশন হাউসের তরফে কোনও শিল্পীর ফুল-ডেট নেওয়া থাকলে, তাঁকে দিয়ে দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি শ্যুটিং করানো যাবে না। বিশেষ প্রয়োজনে শিল্পীকে দিয়ে আরও চার ঘণ্টা বাড়তি কাজ করিয়ে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু সেক্ষেত্রে শিল্পীর মত রয়েছে কি না, সেটা মাথায় রাখতে হবে প্রযোজনা সংস্থাকে। এবং সেক্ষেত্রে শিল্পীকে ঘণ্টাপিছু বাড়তি পারিশ্রমিকও গুনতে হবে সংস্থাকে। প্রসঙ্গত, শহরের অনেক প্রযোজনা সংস্থাতেই শ্যুটিংয়ের কলটাইম দেওয়া হয় দিনের দ্বিতীয়ার্ধে। ব্যাপারটা প্রায় রেওয়াজে পরিণত হয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রেও রাশ টানছে আর্টিস্ট ফোরাম। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রতিদিন রাত ১০টা’র মধ্যে শ্যুটিং প্যাক-আপ করা বাধ্যতামূলক। চিত্রনাট্যে বিশেষ প্রয়োজন থাকলে, মাসে সর্বোচ্চ সাত দিন রাতে শ্যুটিং করা যাবে। এবং সারা মাসে কোনও শিল্পীকে দিয়ে ২৩ দিনের বেশি শ্যুটিং করানো যাবে না।

শিল্পীরা যাতে সঠিক সময়ে পারিশ্রমিক পান, সেই ব্যাপারেও নির্দেশিকা জারি করেছে ফোরাম। নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে, টেলিভিশনের শিল্পীদের পারিশ্রমিক পরের মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে প্রযোজনা সংস্থাকে। এই ব্যাপারে আর্টিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘শ্যুটিংয়ের নামে শিল্পীদের দিয়ে যে অমানুষিক পরিশ্রম করানো হচ্ছিল, সেটা কোথাও থামানোর দরকার ছিল। এপিসোড ব্যাঙ্কিংয়ে নামে প্রতিদিন ভোর তিনটে কিংবা চারটে পর্যন্ত শ্যুটিং করানোটা সমর্থনযোগ্য নয়! এছাড়াও শহরের বেশ কিছু প্রোডাকশন হাউস শিল্পীদের পারিশ্রমিক দেওয়ার ব্যাপারে কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম মানছিল না। এই ব্যাপারগুলো আটকাতেই আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’ এই ব্যাপারে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অপর্ণা ঘটক বলছিলেন, ‘‘এই ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পেরেছি। আশা করি, খুব তাড়াতাড়িই আমরা নির্দেশগুলো কার্যকর করতে পারব!’’