এশিয়ান গেমসে সোনার পদকজয়ী। ধ্যানচাঁদ পুরস্কার পেয়েছেন ২০০৮ সালে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিলের হাত থেকে। রংবাহারি এমন প্রোফাইল যে অ্যাথলিটের, সেই হাকাম সিংহ ভাট্টাল বর্তমানে জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দুরারোগ্য যকৃতের রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ভর্তি সাঙ্গরুর হাসপাতালে।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

পঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাজিন্দার কউল ভাট্টাল যে গ্রাম থেকে বেড়ে উঠেছেন, সেই গ্রামেরই বাসিন্দা হাকাম। ১৯৭২ সালে ৬ নম্বর শিখ রেজিমেন্টে হাবিলদার হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। তবে বর্তমানে প্রবল অর্থকষ্টে ভুগতে থাকা হাকাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে অক্ষম।

১৯৭৮ ব্যাঙ্কক এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিলেন তিনি। পুরুষদের ২০ কিমি হাঁটায় সেরা পারফরম্যান্স করেন তিনি। ঠিক তার পরের বছরেই টোকিও-তে ১৯৭৯ সালে এশিয়ান ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড চ্যাম্পিয়নশিপেও অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন তিনি। তবে এর পরেই দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হন তিনি। যার ফলে বাধ্যত ১৯৮১-তে অবসর নিয়ে নেন তিনি। তার পরে কোচের ভূমিকাতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে।

তাঁর পুত্র সুখজিৎ সিংহ জাতীয় এক সংবাদমাধ্যমে জানান, ‘‘১৯৮৭ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পরে প্রায় ১৬ বছর ধরে ব্যাড প্যাচ চলছে ওঁর। তবে ২০০৩ সালে তাঁর ভাগ্য কিছুটা ফেরে। পঞ্জাব পুলিশ ওঁর স্কিলকে মান্যতা দিয়েই এক কনস্টেবল-এর র‌্যাঙ্কে অ্যাথলেটিক্স কোচ হিসেবে ওঁকে নিয়োগ করে। ২০১৪ সালে উনি পুলিশের চাকরি থেকে অবসর নেন।’’

নিজেদের আর্থিক অপরাগতার কথা স্বীকার করে স্ত্রী বিয়েন্ট কউর জানিয়েছেন, ‘‘নিজের চিকিৎসার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও রকম আর্থিক সহায়তা পাননি উনি। ওঁর যকৃত প্রায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে।’’

চারদিন বারনালার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এর পরে সাঙ্গরুর-র একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। জাতীয় স্তরের এক সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে পরে বারনালার ডেপুটি কমিশনার ধর্মপাল গুপ্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি প্রাক্তন অ্যাথলিটের চিকিৎসার সাহায্যের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাবেন।