দু’দিন আগের ঘটনা। কেরলের ত্রিশূরের এক প্রত্যন্ত এলাকায় নৌকা নিয়ে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। এলাকার প্রায় প্রত্যেকটি বাড়িই জলের তলায় চলে গিয়েছে। কিছু কিছু বাসিন্দা হয়তো রয়ে গিয়েছেন, সেই আশাতেই ছিলেন উদ্ধারকারী দলের প্রধান স্যালি ভার্মা। এলাকার একটি বাড়িতে ঢোকেন তাঁরা। কিন্তু সেখানেই গিয়ে হতবাক হয়ে যান তাঁরা।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

গোটা বাড়ি কার্যত জলের তলায়। সেই অবস্থায় বিছানায় ২৫টি পোষ্য কুকুরকে নিয়ে জবুথবু হয়ে বসেছিলেন সুনীতা ও তাঁর স্বামী। কুকুরগুলিকে ছেড়ে কিছুতেই আসতে চাইছিলেন না ওই মহিলা। অগত্যা বাধ্য হয়ে ফিরে আসে উদ্ধারকারীর দল। পরে বড় নৌকা নিয়ে হাজির হয়ে তাঁরা ওই মহিলা ও স্বামী-সহ প্রত্যেকটি পোষ্যকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এই খবরটি হয়তো দেখেননি কলকাতায় উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠা ‘পশুপ্রেমী’-রা। যদি তাঁদের চোখে পড়ত, তাহলে হয়তো কেরলে মানুষদের মৃত্যু নিয়ে এ ভাবে ‘উচ্ছ্বাসে’ মেতে উঠতেন না। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি। হ্যাঁ, ‘উচ্ছ্বাসেই’ মেতে উঠেছেন তাঁরা।

সালটা ২০১৫। কেরলে বেশ কিছু জায়গায় রাস্তার কুকুরকে বিষ মিশিয়ে মেরে ফেলার খবর সামনে আসে। ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে সমাজের বিভিন্ন স্তরে। ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতারও করা হয়। এ বার নাকি তারই ‘রোষ’-এ বন্যা দেখা দিয়েছে কেরলে। অন্তত এমনটাই দাবি করছেন নিজেদের ‘পশুপ্রেমী’ বলে দাবি করা কিছু মানুষজন।

ঘটনার সূত্রপাত ‘কলকাতা স্ট্রিট ডগস’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ থেকে। ওই গ্রুপের কয়েক জন সদস্য কেরলে বন্যার কারণ ‘অনুসন্ধান’ করেই পোস্ট করেন। পোস্টে তাঁরা দাবি করেন, ২০১৫ সালে কেরলে অবাধে কুকুর হত্যা হয়েছিল, সেই ঘটনার শিক্ষা দিতেই ঈশ্বর ‘বদলা’ নিচ্ছেন কেরলবাসীর উপরে। তা নিয়ে রীতিমতো ‘উচ্ছ্বাস’ চলে এই সব পোস্টগুলিতে।  অবাক করার মতো ঘটনা বহু মানুষ (যাঁরা আদতে ওই গ্রুপেরই সদস্য) এই পোস্টকে সমর্থনও করেন। তবে শুধু ‘কলকাতা স্ট্রিট ডগস’ গ্রুপটি নয়, আরও বেশ কিছু গ্রুপেও এইরকম পোস্ট হতে থাকে। এমনই কিছু পোস্ট দেওয়া হল—

 

তবে ওই গ্রুপগুলির কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে রবিবার রাতে। এই বিষয়ে একের পর এক পোস্ট ডিলিট করতে থাকেন তাঁরা। তা সত্ত্বেও কয়েকটি পোস্ট রয়ে যায়। তবে ঘটনার নিন্দায় পালটা সরব হন ওই গ্রুপেরই কয়েক জন সদস্য। তাঁরাও পালটা পোস্ট করে এমন বিষয়ের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

তবে এদের চেয়ে হয়তো আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সদ্য নিযুক্ত ডিরেক্টর এস গুরুমূর্তি। শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর সে জন্যই ঈশ্বর রুষ্ট হয়েছেন। আর তার প্রভাব পড়েছে কেরলে। আরবিআই কর্তার এহেন টুইটে বড় সমালোচনার ঝড় ওঠে সর্বত্র। যদিও পরে নিজের মন্তব্যের পরে সাফাই দেন তিনি।

এ সবের মাঝে কলকাতার কয়েক জনের মধ্যে কেরলবাসীদের এমন বিষনজরে দেখার মতো ‘রুচিবোধ’ কী করে উদয় হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। নেটিজেনরা বলছেন, কেরলে বন্যায় তো প্রচুর পোষ্যেরও মৃত্যু হয়েছে। তাহলে এরা ২০১৫ সালে কি দোষ করেছিল? আশা করা যায়, ‘শুভবুদ্ধি’ দ্রতই তাঁদের মধ্যে উদয় হবে।