কোথাও দীর্ঘ লাইন। কোথাও বা টাকাই নেই! ফলে, টাকার সন্ধানে হন্যে হয় ঘুরতে হয়েছে শহরবাসীর একাংশকে। ব্যাঙ্ককর্মীদের ধর্মঘট এভাবেই বুধবার মনে করিয়ে দিয়েছে নোটবাতিল-পরবর্তী সময়কে।

এদিন সকালে অনেক ব্যাঙ্কের এটিএম খোলা থাকলেও পরের দিকে সেগুলির বেশিরভাগই বন্ধ করা হয়। যদিও হাসপাতালের সামনে সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাঙ্কের এটিএম কাউন্টার খোলা ছিল। প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড এবং লেকগার্ডেন্স অঞ্চলের এটিএমে সমস্ত ব্যাঙ্কের সামনেই সকালে ছিল দীর্ঘ লাইন।

পরিতোষ ভৌমিক নামে এক ব্যক্তি একটি বেসরকরি ব্যাঙ্কের এটিএমের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি জনা পঞ্চাশেকের পরে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম ঘণ্টাখানেক ধরে। শেষপর্যন্ত প্রয়োজনমত টাকাও পেলাম না।’’ যদিও বিভিন্ন ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে আগেও জানানো হয়েছিল যে ব্যাঙ্কের এটিএম গুলি’তে প্রচুর পরিমাণে টাকা রাখা থাকবে। কার্যক্ষেত্রে সেই ছবি ধরা পড়েনি অনেক জায়গায়।

তবে, শরৎ বসু রোডের অনেক জায়গায় এটিএমে পর্যাপ্ত টাকা ছিল।  এই অঞ্চলের অনেক পাইকারী ব্যবসায়ী ব্যাঙ্কে টাকা ফেলতে পারেননি। ফলে, তাঁরাও অসুবিধায় পড়েছেন। তবে, মঙ্গলবার সারাদিনই পর্যাপ্ত টাকা সবক’টি এটিএমে রাখা ছিল। ফলে, অনেক গ্রাহকই তাঁদের প্রয়োজনমত অর্থ এটিএম এবং ব্যাঙ্ক থেকে নিয়ে রেখেছিলেন।                                            
বুধ এবং আজ, বৃহস্পতিবার দেশ জুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ‘ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নসে’র আওতায় থাকা কর্মী এবং অফিসারদের ন’টি সংগঠন। তাঁদের দাবি বেতন বৃদ্ধি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ছাড়াও ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে সমস্ত বেসরকারি এবং বিদেশি ব্যাঙ্কের এটিএম’গুলি। ‘অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনে’র সভাপতি রাজেন নাগর বলেন, ‘‘বিশেষ কিছু জরুরি বিভাগ ছাড়া সমস্ত জায়গার এটিএম বন্ধ রাখার নির্দেশ ছিল। সেই কারণে ২৫ শতাংশ এটিএম খোলা ছিল। বাকিগুলি বন্ধ ছিল। বেশ কিছু এটিএম আমরাই বন্ধ করে দিয়েছি।’’

Copyright © 2018 Ebela.in - All rights reserved