এই প্রথম বার আঞ্জিওমায়োলাইপোমা নামের টিউমারের অতি জটিল অস্ত্রোপচারে সাফল্যের মুখ দেখলেন বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের একদল চিকিৎসক। এর আগে এই ধরনের টিউমার রোগীর শরীরে ধরা পড়লেও পরিকাঠামোর অভাব ছিল। তাই বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোগীরদের স্থানান্তরিত করা হত কলকাতায়। তবে এবারই বিষ্ণুপুর শহরের এক মহিলার শরীর থেকে  জটিল অস্ত্রোপচার করে সফল ভাবে বের করা হল জটিল এই টিউমার।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

পেটের যন্ত্রণায় ভুগছিলেন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর শহরের বাসিন্দা ৫৭ বছরের সরস্বতী কবিরাজ নামে এক মহিলা। মাঝে মাঝে ওষুধ খেয়ে পেটের যন্ত্রণা কমলেও অগাস্ট মাসের শুরুতে পেটের যন্ত্রণা বেড়ে যায়। সরস্বতী দেবীকে প্রথমে বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে এবং পরে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা পেটের যন্ত্রণার কারণ হিসেবে খুঁজে পান এক জটিল প্রকৃতির টিউমার। যা কিডনি ও লিভারের মাঝখানে শরীরের মূল রক্ত নালীর উপর অ্যাড্রোনালীন গ্রন্থির উপর অবস্থিত।

রক্তজালি, পেশি ও চর্বির সংমিশ্রণে তৈরি এই টিউমারকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় আঞ্জিওমায়োলাইপোমা নামের টিউমার। চিকিৎসকদের কথায় যা অত্যন্ত বিপজ্জনক টিউমার। তড়িঘড়ি করে হাসপাতালের তরফ থেকে গঠন করা হয় মেডিক্যাল টিম। রোগীর শরীর থেকে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে টিউমার বের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২৯ আগস্ট চিকিৎসক উৎপল দে-র নেতৃত্বে পাঁচ জন শল্যচিকিৎসক ও তিন জন অ্যানাসথেটিস্ট নিয়ে গঠিত একটি দল অস্ত্রোপচার শুরু করে।

প্রায় তিন ঘন্টা ধরে অস্ত্রোপচার করে রোগীর শরীর থেকে ওই ১৭৫ গ্রাম ওজনের টিউমার কেটে বাদ দেওয়া হয়। আপাতত রোগী সুস্থ হয়ে যাওয়ায় খুশি রোগী ও তাঁর পরিবার। বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শল্য বিভাগের প্রধান উৎপল দে জানান, ‘‘এই ধরনের টিউমার অপারেশন ঝুঁকি বেশি থাকে। কারণ অস্ত্রোপচারে মূল রক্তনালীর ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে। এখন হাসপাতালের পরিকাঠামোর অনেক উন্নতি হয়েছে তাই অপারেশন করতে সমস্যা হয়নি। এই প্রথমবার এ ধরনের অপারেশনে আমরা সফল হলাম।’’

মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম প্রধান জানান, ‘‘এই ধরনের অস্ত্রোপচার হতে থাকলে আগামীদিনে কলকাতার হাসপাতালে রেফার করার প্রবণতা অনেকটাই কমবে।’’