বাজারে এখন হাজারো ধরনের প্যাকেটবন্দি মেহেন্দি। আর সেই মেহেন্দি দিয়েই চলছে সাজগোজ। আগে বাজারে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি মেহেন্দিই পাওয়া যেত। ভারতীয় সমাজে মেহেন্দির প্রচলনও অনেক প্রাচীন। সেই সময় থেকেই মেহেন্দি শুধু সাজগোজের অঙ্গ হিসাবেই শুধু ব্যবহৃত হত না, শরীরে মেহেন্দির প্রলেপ লাগানো থেকে শুরু করে চুলে মেহেন্দি করাটাও ছিল স্বাস্থ্যসম্মতভাবে স্বীকৃত। এখনও এমনভাবে মেহন্দির ব্যবহার একটা প্রচলিত অভ্যাস। বরং, মেহেন্দির ব্যবহার এখন আরও বিস্তার পেয়েছে। 

কিন্তু, প্যাকেটবন্দি মেহেন্দি নিয়ে এখন অনেকেরই নানান অভিযোগ। কিছুদিন আগে, মেহেন্দি নিয়ে এমনই এক অভিযোগ পোস্ট করা হয় ফেসবুকে। এই পোস্টের সঙ্গে কয়েকটি ছবিও দেওয়া হয়। তাতে দেখা যায়, মেহেন্দি পরার পর এক তরুণীর দুই হাতে বড় বড় ফোস্কা তৈরি হয়েছে। মনে হচ্ছে হাতটা যেন কোনও কিছুতে ঝলসে গিয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছিল, বাজারে নাকি চিন থেকে আসা মেহেন্দি ছেয়ে গিয়েছে। আর তরুণীর এই অ্যালার্জি নাকি চাইনিজ মেহেন্দি ব্যবহারের ফল। 

ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যাওয়া মেহেন্দি মাখা হাতের ছবি

যদিও, চিকিৎসক মহল এটা মানতে রাজি নয়। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ প্যাকেটবন্দি মেহেন্দি এখন রাসায়ানিকে ভর্তি। আর এই অ্যালার্জি সেই রাসায়নিকের জের। চিকিৎসক মহলের দাবি, প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হওয়া মেহেন্দির ব্যবহার বেশ জটিল। তাই অধিকাংশ মহিলাই প্যাকেটবন্দি ইনস্ট্যান্ট মেহেন্দিতে ঝুঁকেছেন। কিন্তু, প্যাকেটবন্দি মেহেন্দিতে থাকা রাসায়নিক আদৌ ত্বকের পক্ষে সহনীয় কি না তা কেউ যাচাই করেন না। 

আরও পড়ুন... 

এই জিনিস মাখলে আর বিউটিপার্লার যেতে হবে না! 

ফেসিয়াল কিট থেকে ওজন কমানোর ক্যাপসুল— সবেতেই গো-মূত্র!

প্যাকেটবন্দি অধিকাংশ মেহেন্দিতেই ৯০ শতাংশ বিষাক্ত সব রাসায়নিক থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্যারাফেনিলেনিডিয়ামাইন বা পিপিডি, ফেনিলমারকিউরিক, পটাসিয়াম ডাইক্রোমেট। এছাড়াও, অনেক মেহেন্দির মধ্যে মেশানো থাকে ব্লাসাম, কোবাল্ট ক্লোরাইড, কোলোফোনি, পারাবেন মিক্স, কোয়াটারনিয়াম ১৫-র মতোও টক্সিক রাসায়নিক। এই রাসায়নিকগুলি শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক। সকলের ত্বকে এই রাসায়নিক সহনীয় হয় না। যার ফলে নানা ধরনের চর্মরোগ দেখা দেয়। অ্যালার্জি হয়ে হাতে ত্বকে ফোস্কা পড়ে যাওয়াটা এরমধ্যে অন্যতম বলে জানাচ্ছে চিকিৎসক মহল। তাই যেখানে সেখান থেকে মেহেন্দি পরার আগে মহিলাদের সাবধান হওয়ারই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।