রুদ্রনীল ঘোষ: ওঁর কাজ দেখে যেটা মনে হয়েছিল... উনি হলেন হিন্দি ছবির জগতে আসা সবচেয়ে ম্যানলি পুরুষ। ভয়ঙ্কর পুরুষালি। এক একজন হিরো এক একটা ইজম-কে রিপ্রেজেন্ট করে তো। অনেকে তার পুরুষালি ইমেজ মারামারি করে তৈরি করে, অনেকে দু:খ দিয়ে তৈরি করে। অনেক কিছু দিয়েই তৈরি করা যায়। বাট হি ইজ আ পার্সন, যাকে দেখে মনে হতো যে খুব সহজ একজন পুরুষ। একটু অন্য রকম, বিশেষ করে মহিলাদের কাছে। আমার অনেক বান্ধবীও বলত, হি ক্যান চ্যালেঞ্জ অমিতাভ বচ্চন এনি টাইম, স্ক্রিন প্রেজেন্সের সময়ে তাঁর রোম্যান্টিসিজমও ম্যানলি ইমেজ দিয়ে। শিল্পী যদি মারা যান, তাঁর তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হয় না। আবার শিল্পী বেঁচে থাকলেও মানুষ যদি তাঁর কাজ দেখা বন্ধ করে দেন, অথচ তিনি কাজ করে যাচ্ছেন, তখনই তাঁর মৃত্যু হয়। ওঁর রেখে যাওয়া কাজগুলো আমরা যতদিন পর্যন্ত দেখব, ততদিন পর্যন্ত উনি বেঁচে থাকবেন। আর বিনোদ খন্না অভিনীত প্রিয় ছবির কথা যদি ধরি, তবে বলব ‘কুরবানি’ ও ‘দয়াবান’-এর কথা। ‘মুকদ্দর কা সিকন্দর’ বা ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’-র চেয়েও ওঁর সোলো পারফরম্যান্স যে ছবিগুলিতে ছিল, সেগুলির কথাই বেশি করে বলতে চাই। আর শেষের দিকের ছবিগুলির মধ্যে অবশ্যই ‘ওয়ান্টেড’। শেষ বয়সে একজন অভিনেতার কাজ কিন্তু প্রমাণ করে যে, তিনি ফুরিয়ে যাননি। হয়তো তাঁর ইয়ং স্টারডমটা ফুরিয়ে গিয়েছে কিন্তু অ্যাক্টরডমটা বেঁচে রয়েছে।   

আরও পড়ুন

পরিচালক ফিরোজ আর অভিনেতা বিনোদ, কেমিস্ট্রি ক্লিক করল মৃত্যুতেও 

মৃত্যুকালেও সেলুলয়েডে নায়ক বিনোদ, কিন্তু সেটা দেখার সৌভাগ্য হল না 

অরিন্দম শীল: আমাদের সময়কার, আমাদের ছোটবেলাকার ড্রিম হিরো। যে সময় রাজেশ খন্না, অমিতাভ বচ্চন রুল করছিলেন, তাদের সঙ্গে এই রকম একজনের উঠে আসা... অদ্ভুত একটা পার্সোনালিটি ছিল মানুষটার মধ্যে। সুন্দর চেহারা, মিষ্টি দেখতে, আর আমার বিনোদ খন্নাকে খুব ভাল লাগত। আমার ভীষণ প্রিয় একজন অভিনেতা, অনেকের থেকে প্রিয়। ক’দিন আগে ওঁর হাসপাতালের ছবিটা ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। খুব খারাপ লাগছিল। এগুলো না হওয়াই ভাল। দুম করে ‘মুকদ্দর কা সিকন্দর’ মনে পড়ে গেল। ওই ছবিটা আমার কাছে মাচ রোম্যান্টিসাইজড! অনেকবার দেখেছি। আর খুব ভাল লাগত ওঁকে, একটা স্কাই ব্লু ডেনিম পরতেন, তার সঙ্গে জ্যাকেট পরতেন, ভিতরে টি-শার্ট... দারুণ! খুব সুন্দর দেখতে লাগত আর ভাল অভিনয় করতেন। এই ধরনের সুপুরুষ অভিনেতা এদেশে খুবই কম, সেটা একটু লক্ষ করলেই দেখা যায়। সত্তর বছরটা নিশ্চয়ই কোনও বয়স নয়, ইটস রিয়েলি ভেরি ভেরি স্যাড।  

কৌশিক সেন: খুব সাঙ্ঘাতিক পছন্দের অভিনেতা হয়তো ছিলেন না, কিন্তু আমার খুব পছন্দের কিছু ছবির সঙ্গে উনি যুক্ত ছিলেন। অ্যাট দ্য সেম টাইম, হি অলওয়েজ মেনটেইনড আ স্ট্যান্ডার্ড, একটা স্বকীয়তা ছিল। যে সময়টাতে অমিতাভ বচ্চন বা শশী কপূরদের এত প্রবল উপস্থিতি, তখন কিন্তু ওঁরও একটা প্রবল উপস্থিতি ছিল। যেমন ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’ বা ধরা যাক ‘মুকদ্দর বা সিকন্দর’-এর কথা, যেখানে উনি উকিলের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। ‘কুরবানি’ বা ‘দয়াবান’ করেছিলেন যেটা ‘নায়কন’-এর রিমেক ছিল। খুব ভাল অভিনয় করেছিলেন। হয়তো অমিতাভ বচ্চন বা রাজেশ খন্নার মতো সুপারস্টার হননি কখনও, কিন্তু ভারতীয় সিনেমায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপস্থিতি রয়েছে বিনোদ খন্নার।