ব্রিটেনের রাজনীতিতে ‘শর্মিষ্ঠা নাটক’! সেদেশের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী শর্মিষ্ঠা ওরফে শমি চক্রবর্তীর হাউস অফ লর্ডসে মনোনয়ন নিয়ে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। 

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে বিরোধী দল লেবার পার্টির মনোনীত সদস্য হয়েছেন ৪৭ বছর বয়সি শমি। জন্মসূত্রে বাঙালি। পেশায় ব্যারিস্টার। ব্রিটেনের অন্যতম মানবাধিকার সংগঠন ‘লিবার্টি’র অধিকর্তা ছিলেন তিনি। দলে ইসলাম এবং ইহুদি ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ রয়েছে কি না, তা নিয়ে সম্প্রতি একটি সমীক্ষা হয়েছিল শমির তত্ত্বাবধানে। তাঁর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, লেবার পার্টির বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন। এরপরেই হাউসে শমিকে মনোনীত করেন লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। 
হাউস অফ লর্ডসের সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কাউকে মনোনয়ন দেবেন না বলে আগে ঘোষণা করেছিলেন করবিন। তার পরেও তিনি কেন শমিকে মনোনীত করলেন, বিতর্ক তা নিয়েই। রাজনীতির কারবারিদের একাংশের দাবি, শমিকে মনোনয়ন করে কার্যত ওই রিপোর্ট ‘কিনে’ নিয়েছে লেবার পার্টি। 
করবিনের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ তাঁর দলের উপনেতা টম ওয়াটসন। তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘শমির মনোনয়ন নিয়ে আমার সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি। যা হয়েছে, তা ভুল হয়েছে।’’
ওই সম্মানের জন্য শমির নাম মনোনীত করেছিলেন ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও। তাঁর ‘রেজিগনেশন অনার্স লিস্টে’ও রয়েছে শমির নাম। ওই তালিকা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। 
তবে হাউস অফ লর্ডসের সদস্য হিসাবে শমির প্রতিক্রিয়া, ‘‘আমি সম্মানিত। সরকারকে চাপে ফেলার এটা বড় সুযোগ। এদেশ এখন ভয়ঙ্কর সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। মানবাধিকার রক্ষার এতটা প্রয়োজন এর আগে অনুভব করিনি।’’