হোটেলে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল বিহারের এক মন্ত্রী ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে। পাল্টা মন্ত্রী ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীকে মারধরের অভিযোগ
উঠেছে লজের কর্মীদের বিরুদ্ধেও। মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে মন্ত্রীর চালকের।

সোমবার রাতেই দিকে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয় মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী এবং চালকের। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিহারবাসীকে তারাপীঠ
না আসার পরামর্শ দিলেন মন্ত্রী।

ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের তারাপীঠের হোটেল সোনার বাংলায়। জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকায় সোনার বাংলা হোটেলের চারটি ঘর বুক করেন বিহারের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী সুরেশকুমার শর্মা। 

দেখুন ভিডিও

 

তিনি বিহারের মুজাফ্‌ফরপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক। সোমবার থেকে একদিন হোটেলে থাকার কথা ছিল তাঁদের। সেই মতো সোমবার সন্ধ্যার দিকে দু’টি গাড়িতে মন্ত্রী ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা হোটেলে ঢোকেন। 

মন্ত্রী সুরেশকুমার শর্মা।
ছবি- টুইটার

 

হোটেল ম্যানেজার সুনীল গিরির অভিযোগ, “মন্ত্রী এবং তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা রিসেপসনে গিয়ে বলেন তাঁরা হোটেলে থাকবেন না। টাকা ফেরত দিতে হবে। কিন্তু আমাদেরকর্মীরা জানিয়ে দেন অনলাইনে বুক করলে একইভাবে টাকা ফেরত নিতে হবে। কিন্তু তাঁরা সে কথা মানতে নারাজ। এর পরেই অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন তাঁরা। কর্মীদের উপর চড়াও হন মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা। খাতাপত্র ছিঁড়ে দেওয়া হয়। কম্পিউটার ফেলে দেওয়া হয় মেঝেতে।’’ হোটেল ম্যানেজারের দাবি, এর পরে হোটেলের সমস্ত কর্মীরা তাঁদের ঘিরে ফেললে তাঁরা গাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় হিন্দিতে বলে যান, ‘‘আমি মোদীর লোক। হোটেল বন্ধ করে দেব।’’ 

হোটেলের রিসেপসনে গণ্ডগোলের ছবি ধরা পড়েছে
সিসিটিভি ফুটেজে। নিজস্ব চিত্র

যদিও মারধরের পাল্টা অভিযোগ করেছেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, “অন লাইনে চারটি ঘর বুক করা হয়েছিল। আমরা যখন হোটেলে গিয়ে ঘরের কথা বলি তখন হোটেল কর্মীরা জানিয়ে দেন ঘর দিতে দেরি হবে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। সে সময় হোটেলের কর্মীরা আমাদের উপরে চড়াও হয়। আমার নিরাপত্তারক্ষী মনীশ কুমার এবং চালক গণেশ কুমারকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে চালকের। আমাদের রাস্তায় মারতে মারতে নিয়ে যায়। রাস্তায় থাকা সিসিটিভির ফুটেজ দেখলে সব প্রমাণ পাওয়া যাবে।’’ 

মন্ত্রীর আহত নিরাপত্তারক্ষী এবং চালক। নিজস্ব চিত্র

মঙ্গলবার আরও সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, “যা অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরলাম তাতে আমি ফিরে গিয়ে বিহারবাসীকে তারাপীঠে পুজো দিতে না আসার আবেদন জানাব।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

গত ২৯ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে আমার আসার কথা জানানো হয়েছিল। সোমবার ঝাড়খণ্ড থেকে বীরভূমের দিকে আসার সময়েও ফের খবর পাঠানো হয়। তার পরেও কোনও পুলিশি নিরাপত্তার আয়োজন করা হয়নি। আজই বিহারে ফিরে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে জানাবো, বাংলার সরকার কীভাবে যোগসাজশ করে আমায় মার খাইয়েছে।’’