সপ্তাহান্তের ছুটি বা দু’-তিন দিনের বেড়ানোর জন্য বাঙালির অন্যতম প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। বর্ষার মরশুমেও ভিড় থাকে ভালই। পুজোর আগে সেই মুকুটমণিপুরেই হঠাৎ আশঙ্কার কালো মেঘ। কারণ পাহাড়, জঙ্গল, জলাধার ঘেরা বাঁকুড়ার এই পর্যটনকেন্দ্রের অন্যতম মূল আকর্ষণ পাখিদের কলরব। অথচ গত কয়েকদিন ধরে এখানে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হচ্ছে একের পরে এক পাখির। বেনেবউ, হাঁড়িচাঁচা, বসন্তবৌরির মতো নানা পাখি সেই তালিকায় রয়েছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রকৃতিপ্রেমীরাও।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

মুকুটমণিপুরের গাছে গাছে নানান পাখির কলরব শুনতে ভিড় করেন অনেক পক্ষীপ্রেমী। কেউ কেউ আসেন পাখিদের ছবি তুলতে। সবুজ জঙ্গলের ডালে ডালে পর্যটকদের হাতছানি দেয় বেনেবউ, বসন্তবৌরি, হাঁড়িচাঁচা, বনটিয়া-সহ রং-বেরংয়ের নানান পাখির দল। শীত পড়তে পরিযায়ীরাও ভিড় জমায় এখানে।

মুকুটমণিপুরের সৌন্দর্য। ফাইল চিত্র

বেশ কয়েকদিন পাখির মৃত্যুতে মুকুটমণিপুরের আকাশে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন প্রকৃতি প্রেমিক থেকে স্থানীয় মানুষ। মুকুটমণিপুরের ভালাইতলা এলাকায় বিরাজ করছে এক নিস্তব্ধতা। বেশ কয়েকদিন ধরে এই এলাকার বেশ কয়েকটি বটগাছের নীচে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে বেনেবউ, বসন্তবৌরি, হাঁড়িচাঁচার মতো পাখিদের। স্থানীয় মানুষের দাবি, গত দশ দিনে প্রায় শতাধিক পাখির মৃত্যু হয়েছে। বেশ কিছু পাখি গাছের নীচে মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

সঙ্কটে পাখিরা, দেখুন ভিডিও

 

স্থানীয় প্রকৃতি প্রেমিক পার্থ বরাট ও অনির্বাণ পাত্ররা জানালেন, ঠিক কী কারণে পাখির মৃত্যু হচ্ছে তা জানা যায়নি। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, বিষক্রিয়াই মৃত্যুর কারণ। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে প্রকৃতি প্রেমীরা পাখির মৃতদেহের নমুনা পাঠিয়েছেন তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে। 

এই ভাবে যদি পাখির মৃত্যু হতে থাকে, তাহলে এলাকা থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে হাজারো পাখির কলতান। সেটাই আটকাতে বদ্ধপরিকর স্থানীয়রা। একই সঙ্গে বন দফতরও যাতে বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়, সেই দাবিও জানাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দা এবং পক্ষীপ্রেমীরা।