২৮ হাজার পুজোকে মোট ২৮ কোটি টাকা অনুদান। কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের ৩ হাজার ছোট পুজোকে ১০ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান দেবে রাজ্য সরকার। আর জেলায় জেলায় গ্রাম বাংলার ২৫ হাজার কমিটিকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার ১০ হাজার টাকা করে দেবে পুজোয় খরচ করার জন্য। প্রতি বছরেই পুজোয় এই ধরনের অনুদান দেয় রাজ্য সরকার। কিন্তু এতটা ব্যাপ্তি ছিল না। তাছাড়া ২০১৭ আর ২০১৮ সালের মধ্যে অনেক ফারাক। আসন্ন পুজোতেই তো বাজবে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগমনী। তাই রাজ্য সরকারের পুজো অনুদান ঘিরেই উঠল রাজনীতির অভিযোগ। আর অভিযোগকারী বিজেপি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনুদান রাজনীতি অনেকটাই চাপে ফেলে দেবে বিজেপিকে। ধর্ম-রাজনীতিতে অভিযুক্ত বিজেপিকে টেক্কা দিতে দুর্গাপুজোকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড় অস্ত্র করলেন বলেই দাবি ওই মহলের। সেই চাপের কথা স্বীকার না করলেও রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবেলা.ইন-কে বলেন, ‘‘পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি দিয়ে বিজেপির মোকাবিলা করা যাবে না। জঙ্গলমহলে সাইকেল বিলি করেও ভোট পায়নি তৃণমূল কংগ্রেস। সমাজবাদী পার্টির সরকার উত্তরপ্রদেশে ল্যাপটপ বিলি করেও বিজেপির বিজয় রথ আটকাতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গেও সেটা করা যাবে না।’’

একই সঙ্গে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘‘দলীয় সংগঠন বাড়াতে সরকারি কোষাগারের অর্থের অপচয় করছে সরকার। আর সেটা বিজেপির ভয়েই করছে। যদিও তাতে বিশেষ লাভ হবে না।’’

২০১৭ সালে দুর্গাপুজোর দশমী ও মহরম একই দিনে পড়ায় বিসর্জন পিছিয়ে দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিল নবান্ন। আদালতের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত বিসর্জন পেছনোর সিদ্ধান্ত থেকে সরেও আসতে হয় রাজ্যকে। এই বছর দুর্ঘা পুজোর বিসর্জনকে চার দিনের করে উৎসব দীর্ঘতর করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৯ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত চলবে বিসর্জন পর্ব। এর পরে ২৩ তারিখে হবে সরকারি পুজো কার্নিভ্য়াল। সব মিলিয়ে শারদীয় উৎসব অনেকটাই দীর্ঘ করে দিলেন মমতা।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

এই উদ্যোগেরও সমালোচনা করেছেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্য বিজেপি সভাপতির বক্তব্য, ‘‘আগেও বিভিন্ন পুজো কমিটি দশমীর পরেও মণ্ডপে প্রতিমা রেখে দিত। এখন সেটাতেই সরকারি সিলমোহর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।’’