জাতীয় স্তরে রাজ্যের বক্সারদের সুনাম বাড়ছিল। তাই গত বছর নভেম্বরেই হরিয়ানা সরকার রাজ্যের ছ’জন মহিলা বক্সারদের একটি করে ‘দুধেল’ গাই উপহার দিয়েছিল। যা নিয়ে অনেকে হাসাহাসিও করেছিলেন। কয়েকমাস যেতে না যেতেই নয়া বিতর্ক। ছ’জনের মধ্যে তিন বক্সারই রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত দিয়েছেন গরুগুলি। যে ঘটনায় মুখ পুড়েছে রাজ্য সরকারের।

কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন বক্সাররা? জাতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, হরিয়ানা সরকারের পক্ষ থেকে যে গরুগুলি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি দুধ দেওয়া নয় বরং গুঁতোতে ওস্তাদ! গুঁতোনোর পাশাপাশি মাঝেমাঝে বক্সার ও তাঁদের বাড়ির লোকজনদের লাথিও হজম করতে হয়। অনেকেই সরকারি ‘গরু’তে আহত হয়ে হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছেন। তারপরেই অতিষ্ঠ হয়ে রাজ্য সরকারকেই গরু ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বক্সাররা।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

সদ্য শেষ হওয়া বছরে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ। সেই টুর্নামেন্টেই হিসারের শশী চোপড়া, জ্যোতি গুলিয়া, ভিওয়ানির নীতু এবং সাক্ষী কুমার নিজেদের বিভাগে সোনা জিতেছিলেন। অন্যদিকে, পালওয়ালের বাসিন্দা অনুপমা এবং কাইথালের নেহা জিতেছিলেন ব্রোঞ্জ। উজ্জ্বল হয়েছিল হরিয়ানার নাম।

তার পরেই রোহতকের রাজীব গাঁধী স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ওই ছ’জন বক্সারকে সম্মান জানাতে অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল হরিয়ানা সরকার। হরিয়ানার কৃষিমন্ত্রী ওমপ্রকাশ ধানকার প্রত্যেককে গরু উপহার দিয়ে বলেছিলেন, গরু বক্সারদের উপকারে আসবে।

তবে এর পরেই শুরু হয় ‘অশান্তি’। তিন মাস পেরোতে না পেরোতেই জ্যোতি, নীতু এবং সাক্ষী ইতিমধ্যে নিজেদের গরুগুলি ফেরত দিয়ে দিয়েছেন। জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে তাঁরা প্রত্যেকেই জানিয়েছেন, দুধ দেওয়ার পরিবর্তে লাথি ও গুঁতোতেই অভ্যস্ত গরুগুলো। তাঁদের বাড়ির কোচ এবং বাড়ির লোকেদের গলাতেও ‘গরু’ নিয়ে ক্ষোভের সুর শোনা গিয়েছে। ‘গায় ওয়াপসি’ কি একেই বলে?