‘সকলে প্রত্যেকে একা’। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মরণোত্তর এক কাব্যগ্রন্থের নাম। এই কবির কবিতা পড়তে বসলেই টের পাওয়া যায়, আধুনিক মানুষের পায়ের তলা থেকে ক্রমেই সরে যাচ্ছে সম্পর্কের বালি। সামনে উতরোল সমদ্র, পিছনে ছেড়ে আসা সময়-সমাজ-স্বজন। মনের গহীনে শক্তিরই পংক্তি ঘুরপাক খায়— ‘‘মানুষ যে ভাবে কাঁদে, তেমনি কি কাঁদে পশুপাখি?/ একা থাকি বড়ো একা থাকি।’’

আধুনিক মানুষের একাকিত্ব, তা থেকে জাত অবসাদ, এবং অবসাদ থেকে অসুস্থতা, এমনকী মৃত্যু— এটা কোনও নতুন কথা নয় আজ। পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই এই একাকিত্বের ব্যাধি ক্রমবর্ধমান। কীসে যায় এই আকেলাপন? সন্ধান করছে পৃথিবীর প্রায় সব দেশই। আমাদের কলকাতায় আমরা দেখেছি নিঃসঙ্গতা থেকেই ঘটেছে আত্মহত্যা, ঘটেছে কঙ্কাল-সহবাসের মতো বিচিত্র ঘটনাও। 

প্রথম বিশ্বের দেশগুলিতে নিঃসঙ্গতার ছায়া আরও করাল। ব্রিটেনের জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘মিস্টার বিন’-এর নামচরিত্রটির উদ্ভটপনার উৎস তার একাকিত্ব, এমনটাই বলেন মনোবিদরা। সে দেশে সারাদিন ব্যাপী মনখারাপি বৃষ্টি আর লন্ডন শহরের আনাচে-কানাচে শত শত বছর ধরে জমে থাকা বিষণ্নতার সঙ্গে পৃক্ত হয়ে রয়েছে সে ভূমির মানুষের একাকিত্ব। এই বিন্দু থেকেই সেদেশের সরকার প্রয়োজনিয়তা অনুভব করেছে এক বিশেষ মন্ত্রকের। 

এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর, ব্রিটেনের স্পোর্টস অ্যান্ড সিভিল সোসাইটি দফতরের জুনিয়র মিনিস্টার ট্রেসি ক্রাউচকে ‘মিনিস্টার ফর লোনলিনেস’ হিসেবে ঘোষণা করল থেরেসা মে-র মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং জানিয়েছেন, নিঃসঙ্গতা আধুনিক জীবনের সবথেকে দুঃখের বাস্তবতা। নতুন মন্ত্রকে প্রবেশ করে ট্রেসি জানিয়েছেন, তিনি প্রথমেই বয়স্ক মানুষের নিঃসঙ্গতাকে নিয়ে কাজ করবেন। যাঁদের প্রিয়জন-বিয়োগ ঘটেছে, তাঁরা তাঁর কাছে অগ্রাধিকার পাবেন। 

ব্রিটেন ভাবতে পেরেছে একলা মানুষের সমস্যা। কিন্তু ভারতের একলা মানুষ কি পাবে এমন একটি মন্ত্রকের সাহায্য?