জঙ্গি হামলার সঙ্গে ভারত অনেকদিন ধরেই পরিচিত। কিন্তু বুধবার ব্রিটেনের পার্লামেন্ট চত্বরে জঙ্গি হামলার পরে যে ছবি দেখা গেল, তা হয়তো এদেশে দেখা গেলে খুশি হতেন গোটা দেশের মানুষ। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জঙ্গি মোকাবিলার কথা এদেশের অনেক নেতা মন্ত্রীই বলেন, কিন্তু বাস্তবে তা হয়তো করে দেখালেন ব্রিটেনের একজন মন্ত্রী। ইতিমধ্যেই গোটা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে যাকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। 

বুধবারই লন্ডনের পার্লামেন্ট চত্বরে জঙ্গি হামলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত কমবেশি চল্লিশজন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মূল গেটে এসে ধাক্কা মারে বেপরোয়া একটি গাড়ি। তার আগে বেশ কয়েকজনকে পিষে দেয় গাড়িটি। পার্লামেন্টের ভিতরে ঢুকতে না পারলেও গাড়ি থেকে নেমে এক পুলিশ অফিসারকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে এক জঙ্গি। 

আহত পুলিশ অফিসারকে ঘিরে ব্রিটিশ মন্ত্রী এবং উদ্ধারকারী দল। ছবি- ইউটিউব, ‌ইউরো নিউজ

ততক্ষণে পার্লামেন্টের ভিতরে থাকা মন্ত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। গুরুতর আহত পুলিশ অফিসারকে উদ্ধারের চেষ্টাও শুরু হয়। তখনই দেখা যায়, সেখানে হাজির হয়েছেন ব্রিটিশ মন্ত্রী তোবিয়াস এলউড। তিনি ব্রিটেনের বিদেশ দফতরের মন্ত্রী। উদ্ধারকাজে এসে শুধু তদারকি করা নয়, গুরুতর আহত ওই পুলিশকর্মীর মুখে মুখ দিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালান ওই মন্ত্রী। রক্তপাত বন্ধ করার জন্য ওই পুলিশ অফিসারের ক্ষতস্থান চেপে ধরে থাকেন মন্ত্রী। যতক্ষণ না পর্যন্ত আহত ওই পুলিশ অফিসারকে উদ্ধারে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স এসে পৌঁছয়, ততক্ষণ তাঁর সঙ্গে ছিলেন এলউড। রক্তমাখা হাতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। এর পরে নিজের দফতরে ফিরে যান। 

ঘটনাস্থলে তবলাস এলউড। ছবি- ইউটিউব, ইউরো নিউজ

এত চেষ্টার পরেও অবশ্য আসল উদ্দেশ্য সফল হয়নি। গুরুতর জখম ওই পুলিশ অফিসার পরে মারা যান। এলউড জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের একদম সামনে থাকায় তিনি আহত ওই পুলিশ অফিসারকে সাহায্য করতে ছুটে যান। তাঁর কথায়, এটি একটি মারাত্মক বিপর্যয়।

আরও পড়ুন

ব্রিটেনের পার্লামেন্ট চত্বরে জঙ্গি হামলায় নিহত চার

অনেকেই অবশ্য এলউডের এই আচরণের নেপথ্যে থাকা কারণটি বুঝতে পারছেন। এলউড নিজে একজন প্রাক্তন সেনাকর্মী ছিলেন। তাঁর নিজের ভাই ২০০২ সালে বালিতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত হয়েছিলেন। এতকিছুর পরেও ব্রিটেনের এই মন্ত্রীর কাছ থেকে বোধহয়, এদেশের নেতা, মন্ত্রীদের অনেক কিছু শেখার আছে।