পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে গত ১০ মে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ২০১৮-র পঞ্চায়েত ভোট যেন স্বচ্ছ, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ হয়। 

আদালত আরও বলে, ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৮-র ভোটে সন্ত্রাসের কারণে সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি, ভাঙচুর, প্রাণহানি বেশি হলে দায়ভার নিতে হবে রাজ্য সরকারকে। ভোটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যে সরকারি আধিকারিকরা সুরক্ষা রিপোর্ট কোর্টে জমা দিয়েছেন, ক্ষতিপূরণ মেটাতে হবে তাঁদের বেতন অথবা অবসরকালীন প্রাপ্য অথবা তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। সম্পত্তি বিক্রির পরেও ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় না হলে সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে দিতে হবে।

ভোট মিটে যাওয়ার প্রায় দেড় মাস পরে ডিভিশন বেঞ্চের সেই নির্দেশকে হাতিয়ার করে হাইকোর্টে এলেন উলুবেড়িয়ার এক ব্যবসায়ী। সাজাদ আলি শেখ নামে ওই ব্যবসায়ী দাবি করেন, পঞ্চায়েত ভোটে সন্ত্রাসের জন্য তাঁর প্রায় ২০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি পুড়ে গিয়েছে। পুলিশ এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েও ফল মেলেনি। তাই হাইকোর্ট এর মীমাংসা করুক। 

সাজাদ আলি শেখের আইনজীবী ঋজু ঘোষাল বলেন, হাওড়া উলুবেড়িয়ার বাসুদেবপুরে চলতি বছরে পঞ্চায়েত ভোটে ব্যাপক সন্ত্রাস, অশান্তি হয়। এর ফলে সেখানে দু’টি বুথে পুনর্নির্বাচনও করাতে হয় কমিশনকে। তাঁর মক্কেল সাজাদ আলি শেখের সংস্থার একটি এমব্রয়ডারি কারখানা রয়েছে বাসুদেবপুরে। জার্মানি থেকে আনানো বিভিন্ন মেশিন ছিল ওই কারখানায়। এছাড়াও ছিল কয়েক লক্ষ টাকার শাড়ি, জেনারেটর ইত্যাদি। ভোটে ব্যাপক বোমাবাজি হয় ওই এলাকায়। কারখানার উপরে বোমা পড়ায় ওই ব্যবসায়ীর সংস্থার বিরাট ক্ষতি হয়। 

যেহেতু প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ ছিল ক্ষতিপূরণ নিয়ে, তাই ওই ব্যবসায়ী হাইকোর্টে এসেছেন। মামলার শুনানি হবে আগামী ৯ জুলাই বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর এজলাসে।

পঞ্চায়েত ভোটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যে আধিকারিকরা রিপোর্ট দিয়েছিলেন কোর্টে, ওই ব্যবসায়ীর মামলার জেরে কি এবার আধিকারিকদের পকেট থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে? উত্তর মিলবে ৯ জুলাই।