বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেট টিম রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। এবং সেখানে জলের সমস্যা এমনই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অতিথি ক্রিকেটারদেরও দু’মিনিটের বেশি স্নানের ‘অনুমতি’ দেওয়া হয়নি!

কয়েক দিন আগে এমনই এক খবর প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি ডট কম’-এ। সঙ্গে রয়েছে বেশ কিছু পরিসংখ্যান যা বলছে, আসন্ন মার্চ মাসের মধ্যেই ফুরিয়ে যাবে সে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, কেপ টাউনের জলস্তর। 

বিশ্বের প্রায় প্রতিটি বড় শহরেই জলস্তর নিয়ে অল্প-বিস্তর সমস্যা শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্ত, কেপ টাউনই হয়তো প্রথম শহর হবে যেখানে জল আর পাওয়াই যাবে না। চলতি বছরের শুরুতেই বলা হয়েছিল যে, মার্চ মাসেই আসবে সেই ভয়াবহ দিন। কিন্তু, তা খানিক পিছিয়ে গিয়েছে। কারণ কৃষিকাজে জলের ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। ফলে, ‘ডে জিরো’ হিসেবে ধার্য করা হয়েছে মে মাসের ১১ তারিখ। 

মূলত যে কারণগুলির জন্যই কেপ টাউনে এমন পরিস্থিতি— 

১। গত ৩ বছর ধরে লাগাতার খরা। আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্যই এমন অঘটন।
২। ক্রমাগত বাড়তে থাকা জনসংখ্যা, বর্তমানে যা ৪০ লাখ।


সাগরপাড়ের সাজানো শহর: দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন (ছবি: শাটারস্টক)

প্রশাসন এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জল বাঁচানোর জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেপ টাউনের বাসিন্দাদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে— 

১। সারা দিনে একজনের জন্য বরাদ্দ ৫০ লিটার জল।
২। দু’মিনিটের বেশি স্নান করা যাবে না।
৩। গাড়ি ধুতে বারণ করা হয়েছে।
৪। টয়লেটে যথাসম্ভব কম জল ব্যবহার করা।
৫। সুইমিং পুলে জল ভরা বন্ধ করতে হবে।
৬। বাগানে জল দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
৭। ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার যথা সম্ভব কম করতে হবে।
৮। স্নানের জল পুনর্ব্যবহার করতে হবে।

অন্য দিকে, প্রশাসনের তরফ থেকেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেমন— 
• কুয়ো খোঁড়া হচ্ছে
• জলের পুনর্ব্যবহার
• সমুদ্রের জল দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করার প্রকল্প


জলাভাব (ছবি: শাটারস্টক)

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রায় ২১টি শহর খুব দ্রুত এগিয়ে চলেছে এমনই দিনের জন্য। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক-এর একটি রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে যে, ২০২০ সালের মধ্যেই ‘জিরো গ্রাউন্ড লেভেল’-এ পৌঁছবে এই শহরগুলির জলস্তর। এর মূল কারণ, সেই সময়ের মধ্যে ভারতে জলের চাহিদা বেড়ে হবে প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন কিউবিক মিটার। যার অনুপাতে সরবরাহ থাকবে মাত্র ৭৪০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার। ২১টির মধ্যে সব থেকে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রয়েছে এই শহরগুলি— 

• বেঙ্গালুরু, গুরুগ্রাম— ওয়াটার ট্যাঙ্কার ব্যবহার শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরেই।
• হায়দরাবাদ, চেন্নাই, কোয়েম্বত্তুর, বিজয়ওয়াড়া, অমরাবতী, শোলাপুর, শিমলা, কোচি— আসন্ন কয়েক বছরের মধ্যেই এই শহরগুলিতে জলস্তর নেমে যাবে শূন্যতে।
• ঔরঙ্গাবাদ, জালনা— কারখানার কাজেই শেষ হয়ে যাচ্ছে এই শহরের জল। 
• ইনদৌর, ভোপাল, উজ্জ্বয়িনী— এই শহরগুলি স্বচ্ছতার জন্য নাম করলেও, আশেপাশের নদী ও জলাশয়ের জল ব্যবহারযোগ্য নয়।

প্রসঙ্গত, কলকাতা ওই তালিকায় নেই। উল্টে, কলকাতার অবস্থা তুলনামূলক ভাবে ভালই। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া হুগলি নদী, মাটির নীচে জমে থাকা বিশাল জলস্তর এবং শহরের পূর্ব দিকের বিস্তারিত ওয়েটল্যান্ড— সব মিলিয়ে কলকাতায় জলকষ্ট হওয়ার কথাই নয়। কিন্তু, তা সত্ত্বেও সমস্যা হচ্ছে। তার মূল কারণ, গ্রাউন্ডওয়াটার লেভেল কমছে খুব দ্রুত। সাবধান কলকাতাবাসী!