গত ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়, পি চিদম্বরম ও অরুণ জেটলী সরকারের অধীনস্থ ব্যাঙ্কগুলিতে প্রায় ২.৬ লাখ কোটি টাকা ঢেলেছেন। সর্বভারতীয় একটি সংবাদপত্রের খবরে এমনটাই প্রকাশ।

টু-জি কেলেঙ্কারিতে দেশের যা ক্ষতি হয়েছে, তার থেকেও বেশি এই টাকার পরিমাণ।

গ্রামের উন্নয়নের জন্য যা বরাদ্দ করা হয়, তার দ্বিগুণ আর সড়ক মন্ত্রকের বাজেটের সাড়ে তিন গুন এই টাকা ব্যাঙ্কগুলিকে দেওয়া হয়েছে।

যার থেকে ১৪০০ কোটি টাকা একাই নীরব মোদী লুঠ করে পালিয়েছেন বিদেশে। রোটোম্যাকের মালিক ৮০০ কোটি টাকা ফেরৎ দিতে পারছেন না। 

এই বছরের বাজেটেই অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলী ঘোষণা করেছেন, এপ্রিল থেকে শুরু আগামী অর্থ বছরে কেন্দ্রীয় সরকার ব্যাঙ্কগুলিকে ১.৪৫ লাখ কোটি টাকা দেবে।

ব্যাঙ্কগুলি যখন ঋণের জন্য দেওয়া টাকা ফেরৎ পায় না, তখন সেই ক্ষতিপূরণ করতেই কেন্দ্রের দেওয়া টাকার সিংহভাগ ব্যবহার করে নিজেদের বাঁচায়।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া যেমন গত ১৮ বছরে প্রথম ক্ষতির মুখ দেখেছে। ব্যাঙ্ক অফ বরোদার অবস্থাও তথৈবচ।

২০১৬-১৭ সালে নন পারফর্মিং অ্যাসেটের জন্য ব্যাঙ্কগুলি ৮০ শতাংশ টাকা সরিয়ে রেখেছে। ২০১৫-১৬ সালে ৮৭ শতাংশ টাকা সরিয়ে রেখেছিল তারা।

মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণিয়ামের মতো অনেকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলিতে বেসরকারি পুঁজির পক্ষে। 

ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ দিতে হয়। কখনও কখনও বড় কর্পোরেট সংস্থাকেও সরকারের নিয়ম মেনে ঋণ দিতে হয়। তারা বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির মতো কড়া হতে পারে না। সেখানেও বিপত্তি হয়।

কিন্তু নীরব মোদীর ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের ভিতরের কর্মী ও অফিসারদের যোগসাজশেই যে এই ক্ষতি হয়েছে, তা মানতে বাধ্য হচ্ছেন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলির কর্তারা।