হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের! ‘হবে’ নাকি অন্যান্য মরশুমের মতোই ‘তীরে এসেও তরি ডোবার’ গল্প দেখতে হবে, তা ঠিক হয়ে যাবে লক্ষ্মীবারেই। বৃহস্পতিবারেই যে ‘ট্রিপল ফাইনাল’!

তবে ৪৮ ঘণ্টা পরেই মহারণ! ঘরের মাঠে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে থাকা নেরোকা এফসি। সেই মেগা-ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের লাখো লাখো সমর্থক যে তারকার বুটের দিকে তাকিয়ে, সেই ডুডু ওমাগবেমিই ফারাক গড়ে দেবে, বলে দিচ্ছেন চিডি এডে, সুদূর নাইজেরিয়া থেকে। একসময়ে লাল-হলুদ জনতার নয়নের মণি ছিলেন। একের পর এক ম্যাচ হেলায় ধ্বংস করেছেন প্রতিপক্ষকে। সময় গড়িয়েছে! তিনি এখন ‘অতীত’ পদ্মাপাড়ের ক্লাবে।

নাইজেরিয়ার প্রিমিয়ার লিগে এনাগু রেঞ্জার্সের হয়ে খেলেছিলেন গত মরশুমে। আসন্ন মরশুমে নাইজেরীয় তারকাকে দেখা যাবে আইজল এফসি-র জার্সিতে। তার আগেই স্বদেশীয় তারকা ডুডু ওমাগবেমিকে নেরোকা ম্যাচের ‘ট্রাম্প কার্ড’ বলে দিচ্ছেন তিনি।

আইলিগে প্রথম কিছু ম্যাচে ফর্মে না থাকলেও টুর্নামেন্ট এগোনোর সঙ্গে সঙ্গেই বিধ্বংসী মেজাজে প্রত্যাবর্তন করেছেন ডুডু। টুর্নামেন্টের মাঝপথে যোগ দিয়েও তাঁর নামের পাশে বর্তমানে ৭ গোল। চলতি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। ডুডু-র এমন ‘মহিমা’তেই আস্থা রাখছেন দেশজ সতীর্থ। নাইজেরিয়া থেকে চিডি বলে দিলেন, ‘‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস ডুডু পারবে ওই দিন লাখো লাখো সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে।’’

 

লাল-হলুদ জার্সিতে চিডি এডে। — নিজস্ব চিত্র (ফাইল)

অঙ্ক, হিসেব-নিকেশ সবই অবশ্য বৃথা হয়ে যাবে মিনার্ভা শেষ ম্যাচে চার্চিলকে হারিয়ে দিলে। ডুডু-র পাশে দাঁড়ালেও মিনার্ভাকে নিয়ে আশঙ্কায় চিডিও। তিনিও মনে-প্রাণে চান দীর্ঘ ১৪ বছরের খরা কেটে বসন্ত আসুক লেসলি ক্লডিয়াস সরণিতে। যে ঠিকানায় একসময় তাঁরও ছিল সোনার সংসার।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

একবুক আশা-আশঙ্কা গলায় চিডি বলছিলেন, ‘‘নেরোকা ও মিনার্ভাই ট্রফি জয়ের জন্য ফেভারিট। পিছিয়েই রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। তবে লিগ এখনও পুরোপুরি ওপেন। যে কেউ জিততে পারে।’’ একটু থেমে যেন অভয় দেওয়ার ভঙ্গিতেই তিনি বলে ওঠেন, ‘‘আরে! খেলায় তো মিরাকল ঘটেই থাকে।’’ লাগোসে থাকলেও চিডি-র মন পড়ে ভারতে। প্রিয় দলের জন্য!

তিনি দলে থাকলে কী করতেন টেনশন মুক্ত হতে? চিডির সাফ জবাব, ‘‘দলে নেতা হওয়ার দায়িত্ব চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিতাম। কোনও রকম হিসেব নিকেশ করতে বারণ করতাম। শুধু বলতাম, এসো শেষ ম্যাচটা জিতে আসি। যে বিষয় আমাদের হাতে নেই, তা নিয়ে কোনওরকম চিন্তা করার মানে-ই হয়না।’’

চিডি-মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে ডুডুকে কী ফের একবার রণংদেহী মেজাজে দেখা যাবে, উত্তর দেবে সময়-ই।