সিকিমের ডোকলামে ভারত ও চিনের মধ্যে সেনা তৎপরতা তুঙ্গে। ভারত সরকারের দাবি চিনের লাল ফৌজ সীমানা ছাড়িয়ে ভারতীয় এলাকায় ঢুকে পড়েছে। অন্য দিকে চিনও দাবি করছে ওই এলাকা তাদের। সেখানে জোর করে ভারতীয় সেনারা দখলদারির চেষ্টা করছে।

মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও সেই সমস্যার সমাধান হয়নি। এর মাঝেই এই ইস্যুতে মুখ খুললেন কলকাতায় নিযুক্ত চিনা কনসাল জেনারেল মা ঝানয়ু। ডোকলাম নিয়ে বিস্তারিত কিছু না বললেও, এই সমস্যাকে পরিবারের ভাই-বোনের ঝগড়ার সঙ্গে তুলনা করলেন তিনি।

ঝানয়ু বলেন, ‘‘বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মতপার্থক্য বরাবরই থাকে। ভাই বোনের মধ্যে যেমন হয়ে থাকে। যদি আপনার কোনও ভাই বা বোন থাকে তাদের সঙ্গে মতপার্থক্য হয়। বাবা-মার সঙ্গেও মতভেদ হয়। তার মানে এই নয় যে তাদের সঙ্গে চলা যায় না। ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া হলে কি আমরা কথা বলা বন্ধ করে দিই একেবারে?’’

দার্জিলিঙ ও সীমান্ত সমস্যা নিয়ে কলকাতায় নিযুক্ত চিনা কনসাল জেনারেল মা ঝানয়ুের বক্তব্য।

দুই পক্ষই সেনার সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে ভারত-চিন-ভূটানের সীমানার সংযোগস্থল এই ডোকলামে। যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবু ঝানয়ুর বক্তব্যে পরিষ্কার আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চাইছে চিন।

কারণ দু’দেশের স্বার্থরক্ষা করা যে জরুরি, তাও মনে করিয়ে দিয়েছেন চিনা দূত। তিনি বলেন, ‘‘চিন ও ভারতের মধ্যে সত্যিই মতপার্থক্য রয়েছে। সমস্যা রয়েছে। তবু দু’পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলি সমস্যার থেকেও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা সরিয়ে রেখে সহযোগিতার পথে এগোতে হবে। গঠনমূলক ভাবে সমস্যার সমাধান করতে হবে।’’

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

সীমান্তে উত্তাপ বাড়লেও চিনা বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ যে অনেক বেশি তার কথাও উল্লেখ করেন ঝানয়ু। দু’দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার উপরে জোর দেন তিনি। 

তবে ‘দ্য বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ’-এ কবে ভারত যোগ দেবে, তা স্পষ্ট করতে পারেননি তিনি। কিন্তু বাংলাদেশ-চিন-ভারত-মায়ানমারের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বিসিআইএম ফোরাম নিয়ে এখনও হাল ছাড়ছে না চিন।

বৃহস্পতিবার সংসদে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমেই চিন-ভারত সমস্যার সমাধানের কথা বলেছেন।

তবে দার্জিলিঙের গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনে চিনের হাত রয়েছে কিনা, তা নিয়ে কোনও বক্তব্য রাখতে চাননি চিনা কনসাল জেনারেল। তিনি বলেন, ‘‘এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’’