রিলায়েন্স জিও-র দাপটে এখন ভারতীয় বাকি টেলিকম সংস্থাগুলির ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে বাকি সংস্থাগুলি নিজেদের গ্রাহকদের ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। গত বছরের অক্টোবর থেকেই জিও-র আনলিমিটেড ডেটা প্ল্যানের অফার চলছে। জিও-র এমন লাগামছাড়া অফারের পাল্লা দিতে এয়ারটেল, আইডিয়া, ভোডাফোনের মতো সংস্থাগুলিও নিত্যনতুন ডেটা প্ল্যান বাজারে আনছে।

ফ্রি ডেটা প্ল্যান শেষ হওয়ার পর জিও বর্তমানে বাজারে এনেছে ‘ধন ধনা ধন প্ল্যান’। ৩০৯ টাকার এই প্যাকে মিলছে তিনমাস ধরে প্রতিদিন একজিবি সমেত মোট ৮৪ জিবি ডেটা। পাশাপাশি সুবিধে মিলছে ফ্রি ভয়েস কলের। এতেই নাভিশ্বাস উঠেছে বাকি সংস্থাগুলির। এরই সঙ্গে জিও নতুন প্রি-পেড ডেটা অফার এনেছে। যারা জিও প্রাইম মেম্বারশিপের গ্রাহক হয়েছেন লাইফ ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন কেনার সময়, তাঁদেরকে সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত ডেটা। ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই অফারটি প্রযোজ্য থাকছে।

জিও-র সঙ্গে পাল্লা দিতেই বিএসএনএল সম্প্রতি বাজারে এনেছে ‘চৌকা ৪৪৪’ অফার। যাতে পাওয়া যাচ্ছে ৯০ দিনের জন্য আনলিমিটেড ৪জি ডেটা। পাশাপাশি বিএসএনএল-এর তরফ থেকে আনা হয়েছে ৩৩৯ টাকার প্ল্যান, যাতে প্রতিদিন ২জিবি ফোরজি ডেটার সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে একমাস ফ্রি ভয়েস কলের সুবিধে।

তবে প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়েই পড়েছে আইডিয়া সেলুলার। সম্প্রতি আইডিয়ার তরফে লঞ্চ করা হয়েছে ৩৯৬ টাকার প্ল্যান। যেখানে পাওয়া যাচ্ছে প্রতিদিন ১জিবি করে মোট ৭০ জিবি ডেটা। আইডিয়া থেকে আইডিয়া পুরো ফ্রি ভয়েস কলের পাশাপাশি অন্যান্য নেটওয়ার্কে ৩০০০ মিনিট (প্রতিদিন ৩০০ মিনিট এবং সপ্তাহে ১২০০ মিনিট) ফ্রি ভয়েস কলের সুবিধা। এর পরে ৩০ পয়সা করে চার্জ করা হবে ভয়েস কলের ক্ষেত্রে। তবে সব আইডিয়া গ্রাহকই এই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন না। বিশেষ কিছু গ্রাহকের ক্ষেত্রেই এই প্যাক আনা হচ্ছে।

এয়ারটেলের ক্ষেত্রে প্রি-পেড গ্রাহকদের জন্য ২৪৪ টাকার প্যাকে মিলছে ১জিবি করে প্রতিদিন ৭০ দিন পর্যন্ত ৪জি ডেটা। সেই সঙ্গে সংস্থার মোবাইলে (লোকাল ও এসটিডি) ফ্রি ভয়েস কলের (প্রতিদিন ৩০০ মিনিট, সপ্তাহে ১২০০ মিনিট) সুবিধা। ৩৪৫ টাকার প্যাকেও একই সুবিধা রয়েছে। কেবল প্রতিদিন ১জিবি-র পরিবর্তে ২জিবি করে ডেটা দেওয়া হবে।

ভোডাফোনে ৩৫২ টাকার প্যাকে পাওয়া যাচ্ছে, প্রতিদিন ১জিবি ফোরজি ডেটা ৫৬ দিন ধরে। পাশাপাশি থাকছে লোকাল ও এসটিডি কলে পুরো ফ্রি ভয়েস কল (প্রতিদিন ৩০০ মিনিট ও সপ্তাহে ১২০০ মিনিট)।