রুদ্ধশ্বাস ডার্বিতে দু’গোলে এগিয়ে থেকেও ড্র করেছে মোহনবাগান। খেলার শুরুতেই এক বাঙালি ফুটবলার ইস্টবেঙ্গলের জালে বল জড়িয়ে শিরোনামে। বহুদিন পরে কোনও বাঙালির গোল দেখা গেল ইস্ট-মোহনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতাময় এই ম্যাচে। সেই বাঙালি পিন্টু মাহাতোর বাড়ি জঙ্গলমহলে। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

কলকাতা ফুটবল লিগে জঙ্গলমহলের এই মিডফিল্ডার ভরসা দিচ্ছিলেন মোহনবাগানের মাঝমাঠে। রবিবার যুবভারতীতে ম্যাচের উনিশ মিনিটে লাল-হলুদ গ্যালারিতে 'পিন ড্রপ সাইলেন্স'— সৌজন্যে পিন্টু। পিন্টুর দুরন্ত গোলেই কলকাতা লিগের বড় ম্যাচে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। গোল করে ম্যাচের সেরা হলেও ম্যাচ না জিততে পারার আফশোস পিন্টুর গলায়। ঘরের ছেলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত পিন্টুর গ্রাম ঢডরাশোল। 

পিন্টুর সাফল্যে দারুণ খুশি তাঁর ছোটবেলার কোচ অমিয় ঘোষ। প্রায় আট বছর আগে তিনিই মোহনবাগানে ট্রায়াল দিতে আসা ছোট্ট পিন্টুর খেলা দেখে চিনে নিয়েছিলেন তাঁর ভিতরের আগুনকে। পিন্টুকে রেখেছিলেন নিজের বাড়িতে। দীর্ঘ তিন বছর তাঁর বাড়িতেই ছিলেন পিন্টু। বিদেশি শাসিত কলকাতার ফুটবলে তাঁর শিষ্যের গোলে অত্যন্ত আনন্দিত অমিয়বাবু। তাঁর মনে পড়ে যাচ্ছে পিন্টুর লড়াইয়ের কথা। কোথায় থাকবে, জানতে চেয়েছিলেন তিনি। ছোট্ট পিন্টু জানিয়েছিল, ‘‘হাওড়া স্টেশনে।’’ শুনে অমিয়বাবু বলেছিলেন, ‘‘তুমি আমার সঙ্গে থাকবে।’’ কেবল ফুটবল শেখানোই নয়, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্যও তিনি উৎসাহ জুগিয়ে গিয়েছেন প্রিয় শিষ্যকে। গোল করার পরেও পিন্টুকে আলতো ধমক দিয়েছেন, ‘‘তুমি পুরো সময় ভাল খেলতে পারোনি। দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভাল খেলা উচিত ছিল।’’ 
 
পিন্টুর বাবা সুধীর মাহাতোর তেমন কোনো সম্পত্তি বা জমি নেই৷ রোজগার বলতে মজুরি, গুটিকয়েক ছাগল-গরু৷ থাকেন কুঁড়ে ঘরে। সুধীরবাবু ও তাঁর স্ত্রী বালিকা মাহাতো হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে মানুষ করেছেন ছেলেমেয়েকে৷ যে গ্রামের নাম মেদিনীপুরের শহরের বাসিন্দারাই অনেকে জানেন না, তার নাম আজ সারা রাজ্যের মানুষ জানল পিন্টুর কারণে৷ রবিবার পিন্টুর খেলা প্রতিবেশীর টিভিতে গিয়ে দেখেছেন মা৷ জানালেন, “আমাদের কীই বা আছে জীবনে? আজই সব থেকে সুখ পেলাম৷ প্রার্থনা করব যেন আরও ভাল খেলে৷” 

সোমবার সকাল থেকে পিন্টুর বাড়িতে লোকজনের ভিড় জমেছে৷ পিন্টু এখন জঙ্গলমহলের গর্ব। কেবল জঙ্গলমহল কেন, পিন্টুর জন্য গর্বিত বাংলার সব ফুটবলপ্রেমীরা। হবেন নাই বা কেন? বহুদিন পরে ডার্বিতে বাঙালির পায়ে লেগে বল জড়িয়ে যাচ্ছে জালে— এই দৃশ্য যে তাঁরা প্রত্যক্ষ করলেন পিন্টুরই সৌজন্যে।