সেতু থেকে ঝুলে রয়েছে ভেঙে যাওয়া রেলিং। সেতুর নীচে বেশ কিছু এলাকা জুড়ে আলগা হয়ে রয়েছে মাটি। ভারী গাড়ি উঠলেই ঝাঁকুনি দিয়ে কেঁপে উঠছে সেতু। সেতুতে উঠার মুখে গার্ডওয়াল বলতে বালির বস্তা। দীর্ঘদিন ধরে নেই কোনো রক্ষণাবেক্ষণ। এই ভাবেই চরম ঝুঁকি নিয়ে চলছে মালদহে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে বেহুলা সেতুতে যান চলাচল।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

পুরাতন মালদহের নারায়ণপুরে রয়েছে বেহুলা সেতু। নীচ দিয়ে বইছে বেহুলা নদী। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের জন্য সমস্ত যানবাহনকে পেরোতেই হয় এই সেতু। যার মধ্যে একটা বড় অংশ ভারী পণ্যবাহী গাড়ি।

গত বছর মালদহের বন্যায় এই সেতুর নীচ পর্যন্ত জল উঠে যায়। যার জেরে প্রায় এক বছর ধরে সেতুর নীচে বেশ কিছু জায়গায় মাটি আলগা হয়ে সরে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, গত অগস্ট মাসে এই সেতুর রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ে যায় পাথর বোঝাই লরি।

এর পরেও কোনও রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। শুধু মাত্র ভাঙা রেলিং-এর অংশে বালির বস্তা দিয়ে গার্ডওয়াল করে দায় সেরেছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় যে কোনও মুহূর্তে সেতুতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সবচেয়ে সমস্যা দেখা দিচ্ছে সেতুতে ভারী গাড়ি উঠলেই। সেতুর নীচে যে জায়গায় মাটি সরে গিয়েছে, সেখানে বিপজ্জনক ভাবে ঝাঁকুনি দেখা যাচ্ছে। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকেরা।

দেখুন এই সেতুর শোচনীয় হাল

 

মালদহে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে এই বেহুলা সেতু ৫০ বছরেরও বেশি পুরনো। এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের। দীর্ঘদিন ধরে দেখভাল না হওয়ার কথা কার্যত স্বীকার করেছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। তবে এনএইচএআই-এর ইঞ্জিনিয়ারদের আশা, এখনই ভেঙে পড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে দুর্ঘটনা এড়াতে ভেঙে যাওয়া রেলিং ও গার্ডওয়াল মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে শীঘ্রই। এমনই জানিয়েছেন তাঁরা।