বেন্ড ইট লাইক আ যোগী

সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, যতজন আমেরিকান এখন ফুটবল ধরার জন্য নীচে ঝোঁকেন, তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক আমেরিকান ঝোঁকেন যোগব্যায়াম করার জন্য। কথাটা কতটা খাঁটি, সেটা তর্কসাপেক্ষ। কিন্তু এটা ঠিক, যে যোগব্যায়াম আমেরিকায় বেশ ‘হিট’। হলিউড থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সকলের ওয়ার্কআউট রুটিনে এখন যোগাভ্যাস ‘মাস্ট’! শীতলপাটির আসনের বদলে তাঁদের হাতে এখন ফ্যান্সি ‘যোগা ম্যাট’। যোগব্যায়ামকে আমেরিকান কায়দায় আপন করে নিয়েছে অনেকেই। কখনও পাওয়ার যোগা, কখনও বিক্রম যোগা, কখনও জেন যোগা— নানা রকম রূপ পেয়েছে যোগব্যায়াম। যোগাভ্যাসের বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তার জন্য ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বলে ঘোষণাও করে দেওয়া হয়েছে।

মেহেন্দি নয়, চাই হেনা ট্যাটু

মেহেন্দি পরার ধুম শুধু আমাদের দেশেই নয়, রয়েছে হলিউডেও। তার প্রমাণ, লস অ্যাঞ্জেলেসের আশেপাশে শ’য়ে শ’য়ে মেহেন্দি পার্লার। বেশিরভাগ তারকাই হেনা দিয়ে  মেহেন্দি পরা পছন্দ করেন। যাকে তাঁরা সাধ করে হেনা ট্যাটু বলে থাকেন। ভেনেসা হাজেন্‌স মেহেন্দি পরে গিয়েছিলেন নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে। গিগি হাদিদ তাঁর বান্ধবীদের সঙ্গে মেহেন্দি পরেছিলেন গত বছর ক্রিসমাসে। তবে মেহেন্দি পরলে তা বেশি দিন থাকে না। তাই যাঁরা হেনা ট্যাটু পছন্দ করেন, তাঁরা সত্যিই হেনার বিভিন্ন ডিজাইনে ট্যাটু করিয়ে নেন। যেমন রিহানার হাতের হেনা ট্যাটু বেশ নজরকাড়া।

বল্লে বল্লে

বলিউডের নাচগানের জনপ্রিয়তা অনেকদিন ধরেই। কিন্তু কে জানত, পঞ্জাবিদের ভাংড়া নাচের তালে ওয়ার্কআউট করবে গোটা ক্যালিফোর্নিয়া! মসালা বলিউড ওয়ার্কআউটের যে বিভিন্ন ক্লাস খুলে গিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায়, সেগুলো আর কিছুই নয়— ভাংড়া করার ক্লাস। ভাংড়া নাকি আপাতত সেরা ‘ফুল বডি ওয়ার্কআউট’ রুটিন। তবে পাগলামি শুধু ভাংড়া নিয়েই নয়। ডান্ডিয়াও রয়েছে তালিকায়। আমেরিকান নাম ‘পাউন্ড ওয়ার্কআউট’! ক্যালিফোর্নিয়ার দু’জন ড্রামার ক্রিস্টেন আর ক্রিস্টিনা এই ওয়ার্কআউট রুটিন শুরু করেছিলেন। ডান্ডিয়ার লাঠির বদলে দু’টো প্লাস্টিকের ছোট লাঠির নাম দেওয়া হয়েছে, ‘রিপস্টিক’। ক্রিস্টেন আর ক্রিস্টিনা অবশ্য বলছেন, তাঁরা হাওয়ায় ড্রাম বাজানোর ভাবনা থেকেই এই ওয়ার্কআউট বার করেছেন। কিন্তু যে কোনও ভারতীয় এর একটা সেশনে গেলেই বুঝতে পারবেন, যে সেটা আদপে ডান্ডিয়া ছাড়া আর কিছু নয়!

দুধ-হলুদ নাকি টারমারিক ল্যাটে

ছোটবেলায় সর্দি-জ্বর হলেই মায়েরা জোর করে দুধে হলুদ গুলে খাওয়ানোর চেষ্টা করতেন। অনেক কষ্টে চোখ-নাক বুজে সেটা গিলে ফেলতে হতো! সেই দুধ-হলুদ এখন সোনামুখ করে খাচ্ছে সান ফ্রান্সিসকো। বিভিন্ন ‘হিপ’ ক্যাফেগুলোয় এখন এই পানীয়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কেতাবি নাম— টারমারিক ল্যাটে। অনেকে আবার রঙের জন্য ‘গোল্ডেন মিল্ক’ও বলেন। সকালের দিকে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ ক্যাফেনেটেড ড্রিঙ্কের বদলে দুধ-হলুদ খেলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে অনেক বেশি লাভজনক। টারমারিক ল্যাটের জনপ্রিয়তা বাড়ার পর নাকি আমেরিকায় ভারতীয় মশলার বিক্রি বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা ‘ভেগান’, তাঁরা এই ড্রিঙ্ক সবচেয়ে বেশি পছন্দ করছেন। তবে আমেরিকান ‘টাচ’ দিতে সাধারণ দুধের বদলে বেশির ভাগ ক্যাফেতে আমন্ড মিল্ক বা সয় মিল্ক ব্যবহার করা হয়।

গয়না যখন চিক অ্যাকসেসরি

ভারতীয় গয়নার প্রতি আকর্ষণ ধীরে ধীরে বাড়ছে আমেরিকায়। তাই তো রাজস্থানের মাঙ্গটিকা ভেনেসা হাজেন্‌সের স্টাইলিশ হেডচেন হয়ে গিয়েছে! বিশাল নোলক পরে কেন্ডেল জেনার সকলকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন। বেয়ন্সে থেকে শুরু করে কাইলি, কারা ডেলভিং— সকলেই মজেছেন ভারতীয় গয়নায়। বিশেষ করে কোয়েচেলার মতো মিউজিক ফেস্টিভ্যালগুলোর পর এই ধরনের অ্যাকসেসরির বাজারদর বেড়ে গিয়েছে। হিপি বা বোহো-ফ্যাশনের সঙ্গে ভারতীয় গয়না বেশ মানিয়ে যায় বলেই এর চাহিদা এত বেশি।