শীতের ‘প্রেমপত্র’ এখন অতীত! খরচে রাশ টানতে শুরু হয়েছে অ্যালুমিনিয়ম ফয়েলের ব্যবহার। তবে তাতেও দাম কম রাখা যাচ্ছে না শহরের নামজাদা অ্যাংলো ইন্ডিয়ান মহল্লা বো ব্যারাকের ছানার কেকের। বিক্রেতা জানাচ্ছেন, ছানার দাম বেড়েছে। গত কয়েক মাস ধরে ডিমের দামেও ওঠানামা। ফলে, চলতি বছরে দাম বাড়ছেই ছানার কেকের।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছানার কেকের জন্য বো ব্যারাকে ভিড় করেন ক্রেতারা। প্রায় ১০০ বছর আগে বৌবাজারের এক দোকান থেকে প্রয়াত মন্টু বড়ুয়ার হাতেই শুরু হয়েছিল এই কেকের রমরমা। দোকানের বর্তমান মালিক মন্টুবাবুর ভাই রতন জানালেন, আগে খানিকটা ঘিয়ে রঙা মোটা সুদৃশ্য কাগজে মুড়ে বিক্রি হতো ছানার কেক। ওই কাগজটারই নাম ছিল ‘লাভ লেটার’। পরে খরচ কমাতে ওই ‘প্রেমপত্র’ ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হয়। রতন বলেন, ‘‘এখন আর ওই কাগজ ব্যবহার হয় না। দাম বেশি। বিশেষ পাওয়াও যায় না।’’

‘প্রেমপত্রে’র গুণাগুণ বোঝাতে গিয়ে বললেন, ‘‘ওই পুরনো কাগজের কেসে জিনিসপত্র ভরে আভেনে দিলেই কেক দিব্যি বেক হতো। কাগজেরও ক্ষতি হতো না। লাভ লেটারে করেই কেক বিক্রি হতো। কিন্তু, এখন ওসব ব্যবহার করলে কেকের দাম আরও বেড়ে যাবে।’’

চেহারা বদলালেও ছানার কেকের কদর আগের মতোই আছে বলে জানান রতন। বললেন, ‘‘প্রতি বছর প্রায় সাত-আট কুইন্টাল কেক বিক্রি করি আমরা। এবারও প্রচুর লোকে বরাত দিচ্ছেন। তবে, কেক তৈরিতে যা যা লাগে সবকিছুর দাম বাড়ছে। দেখি এবার দাম কত করা যায়।’’ 

রতন জানান, ডিম আর ছানা ছাড়া কাজু, চিনি, কিসমিস, মোরব্বা প্রয়োজন হয় ছানার কেক তৈরি করতে। কিছুটা ওডিশার ছানাপোড়ার ছোঁয়া থাকে তাতে! তবে, অন্যান্য কেকের মতো ছানার কেক টেঁকসই নয়। তিন-চারদিন বড়জোর তার আয়ু। আর এটাই রতনদের চিন্তার কারণ। বললেন, ‘‘যাঁরা এর কদর জানেন নেবেন। দাম বেশি বেড়ে গেলে অনেকেই মুখ ফেরাতে পারেন। দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি বলে ফিয়ার্স লেনের অনেক দোকান উঠে গিয়েছে। তবে আমরা ছানার কেক জিইয়ে রাখবই।’’

Copyright © 2018 Ebela.in - All rights reserved