সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, দলের প্রাক্তন সাংসদ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মরদেহ সিপিএম-এর রাজ্য দফতর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে নিয়ে আসা হবে কি না। দলের এক নেতা উপরের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, সে তো মিটিং-এ ঠিক হবে।

সংবাদসংস্থা জানাচ্ছে, সিপিএম-এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি নাকি বলেছেন, তাঁর দেহ রাজ্য পার্টি অফিসে রাখা হবে শেষ শ্রদ্ধার জন্য। কিন্তু এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

২০০৮ সালে সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের দেহ কোন মুখে আলিমুদ্দিনে নিয়ে আসবেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য নেতারা? তিনি তো পার্টির সদস্যই নন! বহিষ্কৃত নেতা। তাঁকে দলে ফিরিয়ে নেওয়াও হয়নি। কাজেই এটা অসম্ভব কাজ।

আসলে সোমনাথ তো নৃপেন চক্রবর্তী নন। জ্যোতি বসুর দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়ে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তীকে দলের কোপে পড়তে হয়েছিল। ১৯৯৫ সালে নৃপেনকে বহিষ্কার করে সিপিএম।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

কিন্তু গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি যখন ২০০৪ সালে কলকাতায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি হন, তখন মৃত্যুর কয়েকদিন আগে হাসপাতালে গিয়ে সিপিএম নেতারা নৃপেন চক্রবর্তীকে দলে ফিরিয়ে নেন। সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে।

অন্যদিকে, সোমনাথের সঙ্গে সিপিএম নেতৃত্বের মতবিরোধের শুরু প্রথম ইউপিএ সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের সময় থেকে। তখন সমর্থন প্রত্যাহারের চিঠিতে দলের একজন নির্বাচিত সাংসদ হিসেবে সোমনাথকে সই করতে বলেন সিপিএম নেতারা।

কিন্তু সোমনাথ বলেন, তিনি স্পিকার। একটি সাংবিধানিক পদে রয়েছেন। তিনি দলের এই চিঠিতে সই করতে পারবেন না। তিনি স্পিকার পদ থেকে পদত্যাগ করতেও রাজি হননি। তাঁর মতে, এই পদ যে কোনও দলের ঊর্ধ্বে।

কোনও রকম শোকজ ছাড়াই সিপিএম-এর নিজস্ব সংবিধান অনুযায়ী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিষ্কার করে প্রকাশ কারাতের নেতৃত্বাধীন সিপিএম পলিটব্যুরো।

মূলত প্রকাশ কারাতের জেদেই সোমনাথকে আর দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়নি। অনেক বার তাঁকে দলে নেওয়ার কথা হলেও, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে সীতারাম ইয়েচুরি চেষ্টা করলেও সোমনাথকে দলের বাইরেই থেকে যেতে হল জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। প্রকাশ কারাতের মতো কট্টরপন্থীরা বিরোধিতাই করে গিয়েছেন।

সিপিএম সূত্রের খবর, তাঁকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল ক্ষমা চেয়ে, দলে ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানালে, তা বিবেচনা করবে দল।

কিন্তু তাতে রাজি হননি সোমনাথ। নিয়ম ভেঙে নিজে থেকে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেনি দল। আজীবন সিপিএম নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও, তাঁর বাড়িতে শীর্ষ নেতাদের যাতায়াত থাকলেও, তিনি থেকে গেছেন ‘প্রাক্তন’-ই। জীবনের শেষ সময়েও সোমনাথ আর নৃপেন হতে পারেননি।