ডিভোর্স হলেই সবচেয়ে বেশি করে যে প্রশ্নটা ওঠে, সেটা সন্তানের কাস্টডি। 
কখনও বাবা লড়েন, কখনও মা। অনেক ক্ষেত্রে আবার মা-বাবা ছাড়াও পরিবারের অন্য সদস্যরা লড়েন কাস্টডির আইনি লড়াই। কখনও সেই লড়াইটা এতটাই কুৎসিত পর্যায়ে যায় যে, মনে হয় না হলেই ভাল হতো। কখনও আবার ছেলেমেয়ের ভবিষ্যতের মুখ চেয়ে শান্তিপূর্ণভাবেই কাস্টডির সমস্যাটা মিটিয়ে ফেলেন অভিভাবকেরা। তবে বেশিরভাগই অত্যন্ত কুৎসিত একটা পরিস্থিতির দিকে এগোয়। যেমন ব্র্যাড পিট আর অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মধ্যে যে কাস্টডি-ব্যাট্‌ল চলছে, সেটা খুব একটা সুখকর হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। যদিও জল কোন দিকে গড়াবে, সেটা সময়ই বলবে। আপাতত চোখ রাখা যাক কয়েকটা কাস্টডি-ব্যাট্‌লে।

কমল হাসন
সম্প্রতি লিভ-ইন পার্টনার গৌতমীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে কমলের। অথচ এই গৌতমীর জন্যই নাকি সারিকার সঙ্গে বিয়ে ভেঙেছিলেন কমল। দুই মেয়েকে নিয়ে কমলের বাড়ি ছেড়েছিলেন সারিকা। পরে সারিকাই আবার পিটিশন দাখিল করেন আদালতে। মেয়েদের কাস্টডি চেয়ে। মামলা তিনিই জেতেন। যদিও কয়েক বছর পর বড় মেয়ে শ্রুতি হাসন বাবার সঙ্গেই থাকতে চলে যান। যে বাড়িতে কমলের লিভ-ইন পার্টনার গৌতমীও থাকতেন। যদিও গৌতমীর সঙ্গে বহুবার প্রকাশ্যে কলহে জড়িয়েছেন শ্রুতি।

মেল গিবসন 
২০১১ সালে সাড়ে সাত কোটি ডলারের ‘সেট্‌লমেন্টের’ ব্যবস্থা করার পর সম্পর্কে ইতি টানেন মেলের প্রাক্তন গার্লফ্রেন্ড ওকসানা গ্রিগরিয়েভা। মেল কী পেলেন এত টাকা খরচ করে? মেয়ের কাস্টডি। ২০১৫ সালে আবার কাস্টডির জন্য লড়েছিলেন মেল। আরেকটু বেশি কাস্টডি! যাতে মেয়েকে দেশের বাইরে বেড়াতে নিয়ে যেতে পারেন।

পদ্ম লক্ষ্মী
মেয়ে কৃষ্ণা যখন জন্মাল, ব্যাপারটা চেপে গিয়েছিলেন পদ্ম লক্ষ্মী। তাঁর প্রাক্তন সঙ্গী অ্যাডাম ডেল এই লুকোছাপার ব্যাপারটা মেনে নিতে পারেননি। তা সত্ত্বেও পদ্ম লক্ষ্মী প্রকাশ্যে কিছুই বলেননি। শেষমেশ অ্যাডাম বলেন, কৃষ্ণা তাঁরও মেয়ে এবং পদ্ম লক্ষ্মী কোনও অবস্থাতেই অ্যাডামের ভূমিকাকে ছোট করতে পারেন না। এমনকী, ডিএনএ পরীক্ষা পর্যন্ত করান অ্যাডাম। এরপর রফা হয়, মেয়েকে দেখতে আসার অনুমতিটুকু দেওয়া হোক বাবাকে।

উডি অ্যালেন
স্ত্রী মিয়া ফ্যারোর সঙ্গে কাস্টডির লড়াইয়ে হেরে গিয়েছিলেন উডি। সাত বছরের ছেলে ডিলানের সঙ্গে দেখা করার অধিকারটুকুও হারিয়েছিলেন পরিচালক। কারণ ‘অ্যাবিউজে’র অভিযোগ করেছিলেন উডির স্ত্রী মিয়া। পাঁচ বছরের মেয়ে স্যাচেলের সঙ্গে সুপারভাইজ্‌ড ভিজিটের অধিকার জুটেছিল উডির ভাগ্যে। যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন ব্র্যাড পিটও। অনেকে বলেন, কাস্টডির মামলায় অদ্ভুত যুক্তিতে মিয়া’কে খুব ভাল মা বলে রায় দিয়েছিলেন বিচারক।

সঞ্জয় কপূর
লিয়েন্ডার-রিয়ার লড়াইয়ের ঠিক পরেই আরেকটা ঘটনা শিরোনামে আসে। করিশ্মা কপূরের স্বামী সঞ্জয় কপূর পিটিশন জানালেন মেয়ে সামাইরা এবং ছেলে কিয়ানের কাস্টডি চেয়ে। এই পদক্ষেপ করার কারণ হিসেবে সঞ্জয় বলেন, করিশ্মা ছেলেমেয়ের সঙ্গে তাঁকে দেখা পর্যন্ত করতে দিচ্ছেন না বলেই এটা করতে হয়েছে। পরে আদালত ডিভোর্স সেট্‌লমেন্ট করে নিতে বলে উভয় পক্ষকে। সঞ্জয় দেখা করার অনুমতি পেলেও কাস্টডি পান করিশ্মা।

লিয়েন্ডার পেজ
২০১৪ সালের মে মাসে প্রথম লিয়েন্ডারই আদালতে পিটিশন দাখিল করেন মেয়ে আইয়ানার কাস্টডি চেয়ে। সেখান থেকেই প্রথম জানা গেল, রিয়া পিল্লাই এবং লিয়েন্ডার পেজের বিয়েটাই তো হয়নি! আসলে তাঁরা লিভ-ইন করছিলেন! লিয়েন্ডার আদালতে বলেন, রিয়া মা হিসেবে মোটেই তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন না। এমনকী, মুম্বইয়ের বাইরেও যাতে রিয়া মেয়েকে না নিয়ে যেতে পারেন, সেই দাবিও করেন। রিয়া অবশ্য লড়াইটা করেছিলেন লিয়েন্ডারের সঙ্গে।

 

এমিনেম
র‌্যাপার এমিনেমের সঙ্গে মেয়ে হেইলির সম্পর্কটা কীভাবে এগিয়েছে জানেন? স্ত্রী কিম্বারলি স্কট ম্যাদার্সের সঙ্গে এমিনেম যেমনভাবে তাঁর সম্পর্ককে ‘টেনে’ নিয়ে গিয়েছেন, সেভাবে! কিম্বারলির সঙ্গে এমিনেমের দু’বার বিয়ে। দু’বার ডিভোর্স। যদিও দু’জনে জয়েন্ট কাস্টডিতে রফা করেছিলেন মেয়ে কার কাছে থাকবে 
সে ব্যাপারে। একটা সময় যখন কিম্বারলি মাদকাসক্তিতে ডুবে, আদালত এমিনেমকেই তখন আবার মেয়ের পুরো দায়িত্ব দিয়েছে।