কথায় বলে মরা হাতির দাম সওয়া লাখ টাকা। বাস্তবে টাকা কড়ির হিসাবে সওয়া লাখ টাকা না মিললেও বাঁকুড়ার সোনামুখীর অনন্তবাটি গ্রামে যা হল তা কম নয়। জ্যান্ত হাতির পাল খেদাতে যেখানে কাল ঘাম ছুটে যায় এলাকার মানুষের, সেখানে একটি মরা হাতি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ চলল পুজো অর্চনা। হাতির তাণ্ডবে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী রীতিমত হয়ে উঠল হাতি ভক্ত।

বছরে বারো মাসের মধ্যে প্রায় এগারো মাস হাতির ঠিকানা বাঁকুড়ার সোনামুখী। দলমা থেকে এই জেলায় আসা হাতির পাল তো আছেই, সঙ্গে রয়েছে একাধিক রেসিডেন্সিয়াল হাতির তাণ্ডব। হাতির তাণ্ডবে ফি-বছর লক্ষ লক্ষ টাকার ফসল হানি হয় এলাকায়। ঘটে জীবন হানিও। তাই স্বাভাবিক ভাবেই এলাকার মানুষ হাতিকে অভিশাপ ও শত্রু হিসাবেই ভাবেন। হাতির মুখ থেকে ফসল বাঁচানোর জন্য সারা বছর কম কসরত করতে হয়না তাঁদের। দিন রাত এক করে হাতি তাড়ানোই যেন তাঁদের অন্যতম কাজ হয়ে উঠেছে। নিজেদের এলাকা থেকে হাতি তাড়াতে পারলে কিছুদিনের জন্য হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন তাঁরা।

কিন্তু বৃহস্পতিবার এক অন্য ছবি ধরা পড়ল সোনামুখীর অনন্তবাটি গ্রামে। শত্রুর মৃত্যুও কাঁদিয়ে দিয়ে গেল গোটা গ্রামকে। এ দিন সকালে গ্রামের আলু জমিতে একটি পূর্ণ বয়স্ক দাঁতালকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় চাষিরা। দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। অসংখ্য মানুষ ভিড় জমান সেখানে। হাতির গলায় ফুলের মালা, কপালে চন্দনের তিলক, পায়ের ক্ষুরে সরষের তেল মাখিয়ে রীতিমত চলে পুজা অর্চনা। বিশ্বকর্মার বাহনের মৃত্যুতে যাতে গ্রামের কোনও ক্ষতি না হয় তার জন্য প্রার্থনা জানান গ্রামবাসীরা। স্থানীয় বাসিন্দা অশোক লোহার, জীবন ঘোষ-রা বলেন, ‘হাতির দল আমাদের অনেক ক্ষতি করে কিন্তু হাজার হোক ওরা আমাদের অতিথি। সারাবছর ওদের সাথেই আমরা ঘর করি। তাই হাতিটির মৃত্যু আমাদের কাছে প্রিয়জন হারানোর সমান যন্ত্রণাদায়ক।’
মরা হাতিটির প্রতি গ্রামবাসীদের এই দরদ দেখে তাজ্জব বনকর্মীরাও।