টম ও জেরির অ্যানিমেশন কার না প্রিয়? ছোটবেলায় তো বটেই, বড়ো বয়সেও এই বেড়াল-ইঁদুর জুটির দুষ্টুমির মোহ কাটাতে পারেন না অনেকেই। টম আর জেরির অ্যানিমেশন সিরিজ এখনও নিয়মিত দেখানো হয় টিভিতে। কিন্তু টম আর জেরির মৃত্যুসংবাদ কি কখনও প্রচারিত হয়েছে এই অ্যানিমেশন সিরিজের কোনও পর্বে? 

টম আর জেরির ভক্ত যাঁরা তাঁরা জানেন যে, এই অ্যানিমেশনের এপিসোডগুলির মধ্যে কাহিনির কোনও ধারাবাহিকতা থাকে না। প্রতিটি পর্বে আলাদা আলাদা কাহিনি প্রদর্শিত হয়।  ১৯৪০ সালে উইলিয়াম হানা ও জোসেফ বারবেরা যখন মেট্রো গোল্ডউইন মেয়ার (এমজিএম) নামক প্রযোজক সংস্থার জন্য এই অ্যানিমেশন সিরিজ প্রথম তৈরি করা শুরু করেন, তখন থেকেই এই রীতি অব্যাহত থেকেছে। ফলে কাহিনির প্রবাহ মেনে বয়সের নিয়মে টম ও জেরির মৃত্যু এই রীতিতে স্বাভাবিক নয়। তবু টম ও জেরির একনিষ্ঠ দর্শকরা মনে করেন, একটি এপিসোডে একবার এসেছিল এই দুই শত্রুরূপী বন্ধুর মৃত্যুর প্রসঙ্গ। 

এই বিশেষ পর্বটির নাম ছিল ‘ব্লু‌ ক্যাট ব্লুজ’। এমজিএম-এর প্রযোজনায় ১৯৪০ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে টম আর জেরির মোট ১১৪ টি পর্ব সম্প্রচারিত হয়েছিল টিভিতে। তার মধ্যে ১০৩ নম্বর পর্বটির নাম ছিল ‘ব্লু ক্যাট ব্লুজ’। এটা টম আর জেরির বিরলতম এপিসোডগুলির একটি যেটিতে জেরিকে কথা বলতে দেখা যায়। জেরির মুখেই বিবৃত হতে থাকে এই পর্বের কাহিনি। জেরির মুখ থেকে জানা যায়, টম হৃদয়বেদনায় পীড়িত, এক মেয়ে বেড়ালের প্রেমে পড়ে টম প্রতারিত হয়েছে। তাতে ভয়ানক কষ্ট পাচ্ছে সে। এমনকী টমের এই দুর্দশায় বেদনা বোধ করছে জেরিও। অবশ্য এপিসোডের শেষ দিকে জেরি আবিষ্কার করে যে, তার নিজের নিয়তিও টমের চেয়ে আলাদা রকমের কিছু নয়। কারণ সে নিজে যে মেয়ে ইঁদুরটিকে ভালবাসত সে-ও তাকে ফাঁকি দিয়ে বিয়ে করে নিয়েছে অন্য কাউকে। এপিসোডের একেবারে শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, টম আর জেরি পাশাপাশি বসে রয়েছে একটি রেল লাইনের উপর। আর দূর থেকে শোনা যায় ছুটে আসা ট্রেনের হু‌ইসল। সেই হু‌ইসল শুনেও নির্বিকার বসেই থাকে টম-জেরি। যা থেকে অনেকে মনে করেন, এই দৃশ্যটি টম আর জেরির আত্মহত্যা তথা মৃত্যুকে ব্যঞ্জিত করেছে। এই এপিসোডটি নানা কারণে টিভিতে সম্প্রচার করা হয়নি। কারণ একদিকে এতে ছিল ওই আত্মহত্যার ইঙ্গিত, অন্যদিকে আর একটি দৃশ্যে হৃদয়াহত টমকে দুঃখ ভোলার তাগিদে দুধ খেয়ে নেশা করতে দেখা গিয়েছিল। এই দৃশ্যেও পরোক্ষে মদ্যপানের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছিল বলে মনে করেছিলেন অনেকে। আত্মহত্যা বা মদ্যপান— কোনওটাই শিশুমনের উপযুক্ত নয় বলে এই এপিসোড সম্প্রচারিত হয়নি টিভিতে। পরে একবার মাত্র কার্টুন নেটওয়ার্ক সাউথইস্ট এশিয়ায় দেখানো হয়েছিল পর্বটি। 

কার্যত অবশ্য এই আত্মহত্যার ইঙ্গিতের পরেও বহাল তবিয়তেই রয়ে যায় টম এবং জেরি। এমনকী ১৯৫৮ সালে এমজিএম-এর প্রযোজনায় টম ও জেরির অন্তিম এপিসোডটি সম্প্রচারিত হয়ে যাওয়ার পরেও অন্য প্রযোজক সংস্থা ও নতুন অ্যানিমেটরদের হাতে বার বার নবজন্ম হয়েছে টম আর জেরির। ১৯৬৩ সালে অ্যানিমেটর চাক জোনস টম ও জেরির অ্যানিমেশনের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পরে আবার যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে ওঠে টম ও জেরির সিরিজ। এখনও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের প্রযোজনায় তৈরি হয়ে চলেছে টম আর জেরির দুষ্টু-মিষ্টি অ্যানিমেশন। আর কে না জানে, টিভির পর্দায় টম আর জেরি জীবিত থাক বা না থাক, আমাদের মনে তারা অমর হয়ে রয়েছে!