দীপা কর্মকারের ভল্ট আবার শুরু হল। ১ ডিসেম্বর থেকে। গত এপ্রিলে হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছিল তাঁর। তারপর গত আট মাস ধরে তিনি প্র্যাক্টিসের বাইরে। মাস পাঁচেক রিহ্যাব চলার পর গত এক মাস শুরু করেছেন ভল্ট ট্রেনিং। নয়াদিল্লির ইন্দিরা গাঁধী স্টেডিয়ামে কোচ বিশ্বেশ্বর নন্দীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে।

অক্টোবরে মন্ট্রিয়লে হওয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে যেতে পারেননি দীপা। এপ্রিলে কমনওয়েলথ গেমসেও হয়তো নামতে পারবেন না। তাঁর লক্ষ্য অগস্টে এশিয়ান গেমস। নয়াদিল্লি থেকে ফোনে কোচ বিশ্বেশ্বর নন্দী বললেন, ‘‘দীপা এখন ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ ফিট। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পদক জিততে হলে দীপা’কে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ফিট হতে হবে। তাই কমনওয়েলথ গেমসে নামুক চাইছি না। বরং অগস্টের আগে ফিটনেস চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে এলে ওর পক্ষে এশিয়ান গেমসে নামা সম্ভব হবে।’’

দীপার এখনও পর্যন্ত কোনও বিশেষ ধরনের ভল্ট ট্রেনিং শুরু হয়নি। কোচ জানালেন, দিনে প্রায় ছ’থেকে সাত ঘণ্টা প্র্যাক্টিস করছেন দীপা। সকালে ফিটনেস ট্রেনিং আর বিকেলে সহজ ধরনের ভল্ট এবং অন্যান্য এক্সারসাইজ। আর মানসিক প্রস্তুতি দীপা নিচ্ছেন ওকসানা চুসোভিৎনার ভিডিও দেখে। এই প্রসঙ্গে দীপার সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, ‘‘ওকসানার ভল্ট দেখছি আর বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়ছি। ৪২ বছরেও মন্ট্রিয়লে নেমে ভল্টের ফাইনালে উঠল! ভাবি, কোন মন্ত্রে নিজেকে তৈরি করে ও?’’ বিশ্বেশ্বর বললেন, ‘‘দীপা’কে বলেছি, মন্ত্র একটাই। কঠোর পরিশ্রম। আর কোনও ম্যাজিক নেই।’’ ফেরার প্রস্তুতিতে দীপার প্রেরণা এখন উজবেকিস্তানের ভল্টার। যিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন, জার্মানি এবং উজবেকিস্তান, এই তিন দেশের জার্সিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, জিমন্যাস্টিক্স বিশ্বে দীপা ছাড়া ওকসানা একজন যিনি প্রোদুনোভা ভল্ট পারফর্ম করেন। বিশ্বেশ্বর জানালেন, মন্ট্রিয়লে প্রোদুনোভা ভল্ট পারফর্ম করেননি ওকসানা। 

বিশ্বেশ্বরের ব্যাখ্যা, ‘‘রিও অলিম্পিক্সের প্রায় দেড় বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে গিয়ে লক্ষ্য করলাম সামগ্রিকভাবে জিমন্যাস্টিক্স যে অনেক এগিয়েছে তা নয়। এককথায় এখানে কোনও সিমোন বাইলসের দেখা পাইনি। তবে, জাপান, আমেরিকা, চিনের কয়েকজন জিমন্যাস্টকে দেখে বেশ ভাল লাগল।’’

প্রোদুনোভা দীপা ছাড়বেন না। কোচ জানিয়ে দিলেন, এখনও প্রোদুনোভার পয়েন্টই সবচেয়ে বেশি (৬.৪০)। তার সঙ্গে স্কাহারা ৭২০ ডিগ্রি ভল্টকে একটু সংস্কার করার পরিকল্পনা বিশ্বেশ্বরের। বললেন, ‘‘৭২০ ডিগ্রিটা বাড়িয়ে ৯০০ ডিগ্রি করলে স্কাহারার ওই ভল্টটায় একটু নতুনত্ব আসতে পারে।’’ একইসঙ্গে দীপা’কে নিয়ে বিদেশে সংক্ষিপ্ত কোনও সফরে যেতে চান কোচ। বলছেন, ‘‘দিন দশেকের জন্য ইউরোপের কোনও দেশে ওকে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছি। ওখানে গিয়ে ট্রেনিংয়ের সঙ্গে হাল্কা কোনও প্রতিযোগিতায় দীপা নামলে বোঝা যাবে ঠিক কী অবস্থায় ও আছে।’’ এশিয়ান গেমসের আগে এই প্রস্তুতি সফর করার পরিকল্পনা কোচের।

নয়াদিল্লিতে জাতীয় শিবির চলবে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ১৪জন পুরুষ এবং আট মহিলা জিমন্যাস্টকে নিয়ে চলছে শিবির। আট মহিলার মধ্যে বাংলা থেকে রয়েছেন চারজন। মন্ট্রিয়লে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নজরকাড়া ছিল না। কিন্তু বিশ্বেশ্বর বললেন, ‘‘প্রণতি নায়েকের পারফরম্যান্স ভালই ছিল। অন্তত, ওদের যেরকম শিখিয়ে ছিলাম সেভাবেই ওরা পারফর্ম করেছে।’’ 

চলতি শিবির শেষ হওয়ার পর জাতীয় দলের কমনয়েলথ জিমন্যাস্টিক্সে অংশ নেওয়ার কথা। দীপা তখন নয়াদিল্লিতে ব্যস্ত থাকবেন ট্রেনিং আর ওকসানার ভিডিও দেখে নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে!