দুর্গাপুের মোহনবাগান অ্যাকাডেমিতে উৎসবের আবহ! সেখানেই তো তিন মরসুম খেলেছেন দীপক টাংরি! সোমবার ভ্যালেন্সিয়ায় আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে জেতা অনূর্ধ্ব ২০ ভারতীয় দলের প্রথম গোলদাতা। উচ্ছ্বসিত তার একসময়ের কোচ জো পল আনচেরিও।

অ্যাকাডেমি থেকে ইন্ডিয়ান অ্যারোজের জার্সি দীপক পরেছেন গত মরসুমে। অ্যাকাডেমিতে তাঁর এক সতীর্থ বিশাল কুমারের কথায় শুধু উচ্ছ্বাস নয়। সোমবার ফোনে তিনি বলছেন, ‘‘দীপকের এই পারফরম্যান্স অ্যাকাডেমির প্রত্যেকটা ছেলেকে অনুপ্রাণিত করে গেল!’’ চার বছর আগে জো পল আনচেরি অ্যাকাডেমির কোচ হয়ে আসার আগে দুর্গাপুরে এসেছিলেন পঞ্জাবের বিলগা গ্রামের এই ডিফেন্ডার। বাবা চাষী। মা-ও বাবাকে সহায়তা করতে দিনের অনেকটা সময় ক্ষেতে কাটান। 

দীপককে দেখে অ্যাকাডেমির কর্তাদের প্রথমে খুব সম্ভাবনাময় মনে হয়নি। তাঁরা ফুটবলারটিকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অ্যাকাডেমির তৎকালীন ব্রাজিলীয় কোচ, মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন  ফুটবলার ডগলাস সিলভার জহুরির চোখ দীপক’কে রেখে দেয় অ্যাকাডেমিতে। সোমবার দুর্গাপুর থেকে ফোনে আনচেরি বললেন, ‘‘খুব পরিশ্রমী ছিল। সকাল এবং বিকাল, দু’বেলাই ট্রেনিংয়ের নির্ধারিত সময়ের আগে দেখতাম দীপক একা বল নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে। বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ছিল দীপকের চোখে। তাই বরাবরই প্র্যাক্টিসের বাইরেই দীপক খুব শৃঙ্খলাপরায়ণ এক আদর্শ ফুটবলার।’’ 

মোহনবাগান অ্যাকাডেমিতে আনচেরির প্রথমবার কোচ হয়ে আসার সময় প্রাক্তন ভারতীয় তারকা নিজে পঞ্জাবের মহিলপুরে গিয়ে দীপক’কে খুঁজে নিয়ে এসেছিলেন। সেই স্মৃতি তাঁর মনে এখনও উজ্জ্বল। সোমবার আনচেরি বলছিলেন, ‘‘অ্যাকাডেমির হয়ে ফুটবলার স্কাউট করতে বেরিয়ে পঞ্জাবের মহিলপুরে গিয়েছিলাম একটা স্থানীয় টুর্নামেন্ট দেখতে। সেখানেই প্রথম দেখি দীপক’কে। খুব আহামরি খেলেনি। কিন্তু একটা জিনিস চোখে পড়েছিল। রাইট-ব্যাকে খেলেছিল। কেউ টপকে গেলেও তার পিছু ছাড়ছিল না। হার না মানসিকতা দেখেই আমার মনে হয়েছিল দীপক’কে অ্যাকাডেমিতে  নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।’’ 

অ্যাকাডেমির ছাত্ররা মনে করছেন সেই হার না মানা  মানসিকতা দীপকের উত্তরণের হাতিয়ার। আনচেরির মতে অনূর্ধ্ব ২০  এই ভারতীয় দলকে আরও বিদেশি শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। ফেডারেশন এই দলকে ক্রোয়েশিয়ায় পাঠাচ্ছে!