একসময় অবহেলার শিকার হয়েছিলেন। আজ প্রচারের আলোকবৃত্ত তাঁরই উপরে। তিনি, দীপক টাংরি। অনূর্ধ্ব ২০ জাতীয় দলের  রক্ষণ বিভাগের ফুটবলারকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিল মোহনবাগান ফুটবল অ্যাকাডেমি। এখন সবাইকে ভুল প্রমাণ করেছেন তিনি। সম্প্রতি কটিফ কাপে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব ২০ দলকে মাটি ধরিয়েছে ভারত। প্রথম গোলটা এসেছে দীপকেরই পা থেকে। জাতীয় দলের ডিফেন্ডার দেশে ফিরে আর্জেন্টিনা ম্যাচের অনুভূতির কথা জানালেন এবেলা.ইন-কে। 

প্রশ্ন— আর্জেন্টিনাকে হারানোর অনুভূতি কেমন? 

দীপক  দুর্দান্ত অনুভূতি। আর্জেন্টিনা খুবই শক্তিশালী দল। ওরা কটিফ কাপ চ্যাম্পিয়নও বটে। অনূর্ধ্ব ২০ প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা দল ছিল আর্জেন্টিনা, এ কথা বলাই বাহুল্য। ওদের হারাতে পারায় ভাল তো লাগবেই। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

আমাদের ভাগ্য ভাল বলতে হবে, শুরুতেই আমরা গোল পেয়ে গিয়েছিলাম। তার পরে গোটা দল দারুণ লড়াই করেছে। আমাদের কোচ দলের প্রত্যেক সদস্যের উপরে ভরসা করেছিলেন। প্রত্যেককে উৎসাহ জুগিয়ে গিয়েছেন। আমরাও দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে গিয়েছি। দুরন্ত ফ্রি কিক থেকে আনোয়ার ২-০ করে যায়। 

দ্বিতীয়ার্ধে আমরা দশ জনে নেমে যাই। তাতেও আমরা দমে যাইনি। রেফারির শেষ বাঁশি পর্যন্ত আমরা লড়াই করে গিয়েছি। এই লড়াইটার কথাই বলছিলেন আমাদের কোচ। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে এই জয় আমাদের বিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরাও পারি, এই বিশ্বাস এখন আমরা করতে শুরু করে দিয়েছি। আমাদের আরও পরিশ্রম করতে হবে। 

ভারত বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচের একটি মুহূর্ত। ছবি— এআইএফএফ-এর সৌজন্যে 


প্রশ্ন— জাতীয় দলের হয়ে এটাই কি আপনার প্রথম গোল? 

দীপক  হ্যাঁ, জাতীয় দলের হয়ে এটাই আমার প্রথম গোল। আশা করি, আগামী দিনে আরও গোল করতে পারব। 

প্রশ্ন— সাধারণত স্ট্রাইকাররাই গোল করে থাকেন। আপনি তো ডিফেন্ডার। গোলটাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন? 

দীপক আধুনিক ফুটবলে আক্রমণ তৈরি করে গোলকিপার। রক্ষণের কাজটা আবার শুরু হয় স্ট্রাইকারের পা থেকেই। এটা ঠিক স্ট্রাইকাররাই গোল করে, কিন্তু আক্রমণ তৈরির কাজটা তো করে দলের সবাই। আধুনিক ফুটবল টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিকাল। প্রতিটি ফুটবলারের নিজস্ব ভূমিকা থাকে। আর্জেন্টিনার নেটে বল জড়ানোর সুযোগ আমার কাছে এসে গিয়েছিল। সুযোগের সদ্‌ব্যবহার করতে ভুল করিনি আমি। যে পজিশনে দাঁড়ালে গোলটা করতে পারতাম, সেই পজিশনেই আমি দাঁড়িয়েছিলাম। আধুনিক ফুটবলে পজিশনটাও খুবই জরুরি। 

ভারতের প্রাধান্য। 

প্রশ্ন— আর্জেন্টিনাকে হারানোর পরে কীভাবে উদ্‌যাপন করলেন? 

দীপক আর্জেন্টিনাকে হারানোর পরে আমরা দারুণ মজা করেছি। ড্রেসিং রুমে আমরা সবাই নাচগান জুড়ে দিয়েছিলাম। আর্জেন্টিনাকে হারানোয় আমরা দারুণ খুশি। এই একটা জয় রাতারাতি আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। 


প্রশ্ন— এখন তো দেশে ফিরে এসেছেন। সেদিন জেতার পরে মা-বাবার সঙ্গে কথা হয়েছিল? কী বললেন ওঁরা? 

দীপক  গোলের পরে আমার মা-বাবার সঙ্গে কথা হয়েছিল। দারুণ খুশি হয়েছিলেন ওঁরা। আমাদের দলটার জন্য মা-বাবা গর্ব বোধ করেছেন। জেতার খবর পাওয়ার পরে পাড়াপড়শিরা অভিনন্দন জানিয়েছেন ওঁদের। সব শুনে আমাদের বুকটাও ফুলে উঠেছিল। 

বলের দখলে এগিয়েছিল ভারত। 

প্রশ্ন— আনোয়ার আলি মুম্বই সিটি এফসিতে সই করেছেন। আপনিও কি আইএসএল-এ সই করবেন? 

দীপক আনোয়ার আলি সই করেছে। আমি ইন্ডিয়ান অ্যারোজের সঙ্গেই রয়েছি। বেশ কয়েকটা প্রস্তাব এসেছে আমার কাছে। তবে সেগুলো ইতিবাচক নয়। পজিটিভ কোনও প্রস্তাব এলে তখন ভেবে দেখব। 

প্রশ্ন— গোলটা আপনি কাকে উৎসর্গ করছেন? 

দীপক  আমার মা-বাবা, গোটা দল, প্রতিটি সমর্থককে এই গোলটা উৎসর্গ করছি। ‘ব্লু পিলগ্রিম’কে ধন্যবাদ জানাতে চাই। বিমানবন্দরে আমাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে ‘ব্লু পিলগ্রিম’। এর জন্য ওদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। 


প্রশ্ন— আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে নামার আগে আপনাদের কোচ কী বলেছিলেন? 

দীপক আমাদের কোচ ম্যাচে নামার আগে বলেছিলেন, নিজেদের উপরে বিশ্বাস রাখো। শেষ মিনিট পর্যন্ত ফোকাস রাখতে হবে ম্যাচে। ছোটখাটো ভুল করা চলবে না, পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলে যেতে হবে। দলের প্রতিটি সদস্যের উপরে বিশ্বাস রাখেন কোচ। একটা দলের সাফল্যের জন্য এটাই দরকার।