কেটি পেরি
রামধনুতে যতগুলো রং আছে, সবই বোধহয় তাঁর চুলে শোভা পেয়েছে। কেটি পেরি এতবার চুলের রং বদলেছেন, যে তাঁর আসল চুলের রং ভুলতে বসেছেন মানুষ। তবে গাঢ় কালো চুলে ওল্ড হলিউড হেয়াস্টাইল কেটির বিশেষ পছন্দ। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সেটাই করেন তিনি। প্রথম যখন তিনি ইলেকট্রিক ব্লু রঙের চুলে জনসমক্ষে এলেন তখন অনেকেই চমকে গিয়েছিলেন! কিন্তু তারপর আবার বাব্‌লগাম পিংক করিয়ে ফেলেন। তারপর হালকা নীল আর গাঢ় বেগুনি। কেটির হেয়ারস্টাইলিস্ট জানিয়েছেন, যে কোনও রঙেই স্বচ্ছন্দ কেটি। তাই তাঁকে নানা রকম ‘শকিং’ রং বেছে দেওয়ার মজাই আলাদা। বেশ কয়েকবার কেটি রামধনু রং করিয়েছেন চুলে। লাল বা ব্লন্ড তাঁর কাছে বোরিং। তাই সেগুলো করলেও রাতারাতি বদলেও ফেলেছেন সেই স্টাইল।

রিহানা
একই রকম হেয়ারস্টাইল রাখতে মোটেই পছন্দ করেন না রিহানা। তবে তিনি যা-ই করেন, সেটাই হয়ে যায় স্টাইল স্টেটমেন্ট। যখনই তাঁর নতুন হেয়ারস্টাইল ‘ট্রেন্ডিং’ হওয়া শুরু করে, তিনি বদলে ফেলেন চুলের স্টাইল। ম্যাগি কার্লস, স্ট্রেট, অ্যাসিমেট্রিক্যাল বব, রাউন্ড বব, ওয়েভ্‌স, বিচ কার্লস, পিক্সি— যত রকম স্টাইল গত পাঁচ বছরে জনপ্রিয় হয়েছে, সবই রিহানা করে ফেলেছেন। একবার মাথার অর্ধেকটা কামিয়ে ফেলেছিলেন! তাঁর হেয়ারস্টাইলিস্ট জানিয়েছিলেন, একদম নিজের মতো হেয়ারস্টাইলের খোঁজেই এই পরিণতি। সেই অর্ধেক মাথা চুল নিয়েও তিনি নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যেতেন। তাঁর হেয়ারস্টাইলিস্ট জানিয়েছিলেন, নতুন কোনও হেয়ারকালার বাজারে এলেই, তার মধ্যে সবচেয়ে ‘লাউড’ রংটা বেছে নিতেন রিহানা। ২০১২ সাল থেকে অবশ্য তিনি ব্লন্ড আর কালো রঙের উপরেই বেশি ভরসা করছেন। কিন্তু স্টাইল বদলাতেই থাকে!

মাইলি সাইরাস
শুধু কি চুল! ব্যক্তিত্বই বদলে ফেলেছিলেন মাইলি সাইরাস। প্রাক্তন ডিজনি-শিল্পী মিষ্টি মেয়ের ইমেজ ভাঙতেই এই মেকওভার করেছিলেন। লম্বা বাদামি চুল কেটে ফেলে ক্রপ্ড পিক্সি ব্লন্ড চুল বেছে নিয়েছিলেন মাইলি। সঙ্গে বদলে ফেলেছিলেন সাজ-পোশাকও। তাতে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। কিন্তু সে সবের পরোয়া করেননি তিনি। ব্লন্ড পিক্সি চুলেও বিভিন্ন রঙের হাইলাইট করতে মাঝে মাঝেই দেখা যায় তাঁকে। কখনও সবুজ, কখনও গোলাপি বা আকাশি নীল। অবশ্য মাইলি শুধু চুলের স্টাইল নয়, হাঁটাচলার ভঙ্গিও বদলে ফেলেন মাঝে মধ্যেই ।

ব্রিটনি স্পিয়ার্স
পপ-কুইন ব্রিটনিকে সকলে একমাথা ব্লন্ড চুলে দেখতেই অভ্যস্ত। কিন্তু ২০০৭ সালে তিনি হঠাৎ মাথা ন্যাড়া করে ফেলেন। এমনিতেই সে সময়টা ব্রিটনি অনেক রকম অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা করছিলেন। তারপর হঠাৎ মাথা ন্যা়ড়া করে ফেলায় তাঁর ভক্তেরা বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। পরে জানা গিয়েছিল, যে সালোঁয় তিনি মাথা ন্যাড়া করতে গিয়েছিলেন, সেখানকার কর্মীরা প্রথমে করতে চাননি। তাই নিজেই চুল কাটা শুরু করে দিয়েছিলেন ব্রিটনি। তাই বাধ্য হয়ে বাকিরা তাঁকে সাহায্য করেন। অনেকেই ভেবেছিলেন, তিনি বোধহয় ঝোঁকের মাথায় এই কীর্তি করে বসেছেন। আবার অনেকের মতে, মাদকাসক্তি লুকনোর জন্যেই চুল কেটে ফেলেন ব্রিটনি। পরে অবশ্য ব্রিটনি বলেছিলেন, ন্যাড়া হওয়ার পর তাঁর কোনও রকম আফশোস হয়নি।

জেন্ডায়া
এই ডিজনি তারকাকে বোধহয় একই হেয়ারস্টাইলে দু’বার দেখেনি দুনিয়া। সব সময়ই তিনি চুল নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে থাকেন। কখনও লম্বা স্ট্রেট, কখনও হলিউড কার্লস, কখনও ব্লান্ট ব্যাং, আবার কখনও ব্লন্ড পিক্সি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে বিভিন্ন অবতারে দেখা যায়। তবে সব রূপে বোধহয় শুধুই খেয়াল-খুশি মেটাতে নয়। কখনও যথেষ্ট যুক্তি থাকে তাঁর এই মেকওভারগুলোর পিছনে। একবার অস্কারে তিনি ডেডলক্‌স বা জটার মতো চুলে এসেছিলেন। অনেকেই রসিকতা করে বলেছিল, জেন্ডায়া বোধহয় হিপি হয়ে গিয়েছেন। তাঁর কাছে গেলে হয়তো গঞ্জিকার গন্ধও পাওয়া যাবে। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জেন্ডায়া স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কৃষ্ণাঙ্গদের বিভিন্ন হেয়ারস্টাইলও যাতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়, সে কারণেই তিনি অস্কারের মতো একটা গ্ল্যামারাস ইভেন্টে এই ধরনের হেয়ারস্টাইল বেছে নিয়েছিলেন।

কাইলি জেনার
কারদাশিয়ান-জেনারদের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্যকে ‘কিপিং আপ উইথ দ্য কারদাশিয়ান্্‌স’এ দেখা গিয়েছিল প্রথম। ১০ বছরের মিষ্টি মেয়ে থেকে কাইলির ইনস্টাগ্রাম সেনসেশন হয়ে ওঠার পথটা গোটা দুনিয়া দেখেছে। ২০১৩ থেকেই তাঁর চেহারায় বদল দেখা যায়। ধীরে ধীরে নাক, চুল ও ঠোঁট বদলাতে থাকে। যদিও সে সময় তাঁর মুখপাত্র বিষয়টা একটা দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন অনেকদিন। পরে কাইলি স্বীকার করেন, ‘লিপ ফিলার্স’ ব্যবহার করেই তাঁর ফিনফিনে ঠোঁট দু’টো অমন ‘পাউটি’ হয়ে গিয়েছে! মেকআপের জাদুতেও কাইলি মুখের আদল অনেকটাই বদলে ফেলেন। চুল নিয়েও তাঁর কারসাজি কম নয়। এমনিতে গাঢ় ব্রুনেট কাইলি। কিন্তু কখনও ব্লান্ট ব্যাং, কখনও বব, কখনও লম্বা চুলে দেখা যায় তাঁকে। ব্লন্ড, কপার, অ্যাকোয়ামেরিন, টারকোয়েজ, ক্যান্ডি— সব রকম র‌ং বোধহয় তিনি ট্রাই করে  ফেলেছেন।