কত কিছুই তো শোনা যাচ্ছে। ফেডারাল ফ্রন্ট থেকে শুরু করে কংগ্রেসীদের পুরনো ইউপিএ জাগিয়ে তোলার গল্প, মমতা না মায়াবতী, নাকি রাহুল, কে হবেন প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী ইত্যাদি অনেক গল্পই রাজনৈতিক মহলে চলছে।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

লক্ষ্য একটাই। বিজেপি হটাও, মোদী হটাও। ভাল কথা। এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু সেটা করতে গেলে যা দরকার, বিরোধীরা তা দেখাতে পারছে কই!

বৃহস্পতিবারই রাজ্যসভায় ডেপুটি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হয়ে গেল। সেখানে ড্যাংড্যাং করে জিতে গেলেন এনডিএ প্রার্থী হরিবংশ। অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদীর মুখে হাসি। সম্মিলিত বিরোধীরা রাজ্যসভায় বিজেপি-র থেকে এগিয়ে থাকলেও, মোদী-শাহের প্রার্থীকে হারাতেই পারলেন না রাহুল-মমতারা।

স্রেফ ইগোর লড়াইতে বিরোধীরা লোকসভা ভোটের আগে একটি প্রতীকী জয় ছিনিয়ে নিতে পারলেন না এনডিএ শিবির থেকে।

প্রথমেই জনতা দল ইউনাইটেড-এর থেকে প্রার্থী করে নীতিশ কুমারকে পকেটে পুরে নিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরের চাল নবীন পট্টনায়কের বিজেডি-কে রাজি করিয়ে নেওয়া যে তিনি এনডিএ প্রার্থীকে ভোট দেবেন। 

আর অন্য দিকে আম আদমি পার্টির নেতারা বলছেন, একবার কি রাহুল গাঁধী ফোন করতে পারতেন না আমাদের নেতাকে! তাঁরা ভোটই দিলেন না। মহারাষ্ট্রের শিবসেনা, অন্ধ্রের ওয়াইআরএস কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও সমন্বয়ই তৈরি করতে পারলেন না বিরোধী শিবিরের দাদা-দিদিরা।

ফল যা হওয়ার তাই হল। মাত্র ১০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হলেন বিরোধী শিবিরের প্রার্থী।

কোনও নির্দিষ্ট নেতা না থাকলে কী হয়, দেখিয়ে দিল রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যানের নির্বাচন। 

বিরোধীরা যে কোনও নেতা ছাড়া লোকসভা ভোট লড়বে বলছে, তার পরিণাম কী হবে তা বুঝে যাচ্ছেন ভোটাররা। এমনই ছন্নছাড়া থাকবে বিরোধী শিবির।

এখনও কেউ জোর গলায় বলছেন না যে, ২৭৩ থেকে নেমে মোদীরা ৪০ আসন পাবেন। যদি খারাপ ফলও হয়, বিজেপির লাগবে কয়েকটি দলের সমর্থন। কিছু সুবিধাবাদী দল সব সময়েই ক্ষমতার কাছাকাছি ঘুরঘুর করে। সুযোগ বুঝে তখন তারা ক্ষমতার কাছে থাকা দলের হাত ধরবে বা সুযোগ করে দেবে ক্ষমতায় থাকার।

বৃহস্পতিবারের নির্বাচন এটাই স্পষ্ট করে দিয়ে গেল— সম্মিলিত বিরোধীরা যে মোদীদের হারাতে পারে, তা দেখানোর একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হল রাহুল-মমতাদের।

কেউ কেউ যদিও বলছেন, সংসদে শাসকের হাতে সংখ্যা বেশি থাকলেও, বাইরে তাঁদের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। কিন্তু প্রতীকী জয়ের একটা মূল্য রয়েছে, এ কথা অস্বীকার করবেন কে? 

ভোটারদের মনে সাহস আনতে সেই জয় দরকার ছিল. রাজনীতি সব সময়ে পাটিগণিতের হিসেবে হয় না। প্রতীকেরও দাম রয়েছে ভোটের রাজনীতিতে।