অনেকেই বলছেন প্রতিশোধের ম্যাচ। ব্রাজিল বনাম জার্মানি ম্যাচ মানেই তো প্রতিশোধের ম্যাচ ‘জোগো বোনিতো’র দেশের কাছে। হবে নাই বা কেন! এই ম্যাচের প্রসঙ্গ উঠলেই তো ফুটবলপাগলদের চোখের সামনে ভাসতে থাকে স্কোরলাইন জার্মানি-৭, ব্রাজিল-১। ইস্টবেঙ্গলের ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর গার্সিয়ার কাছে ব্রাজিল বনাম জার্মানি ম্যাচ শুধু প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার নয়। এই ম্যাচ গার্সিয়ার কাছে অন্য আবেগের।

গার্সিয়ার সঙ্গে লুকাসের বাবা। 

বন্ধুর ছেলের পারফরম্যান্স মাঠে বসে দেখতে উন্মুখ লাল-হলুদের এই সদস্য। অদ্ভুত এক অনুভূতি কাজ করছে গার্সিয়ার মনে।যুব বিশ্বকাপে ব্রাজিল বনাম জার্মানি ম্যাচের পারদ চড়তে শুরু করে দিয়েছে কলকাতায়। এই ম্যাচের প্রসঙ্গ উঠতেই গার্সিয়া বলে উঠলেন,‘‘কাল ব্রাজিল অনুশীলন করবে কখন?’’ প্রথমটায় মনে হয়েছিল, দেশের ছেলেরা খেলতে এসেছে বলেই আবেগ হয়তো অনুভব করতে শুরু করে দিয়েছেন গার্সিয়া। পরক্ষণেই বেরিয়ে এল আসল কারণ। গার্সিয়া বলে উঠলেন, ‘‘ব্রাজিলের এই যুব দলে আমার বন্ধুর ছেলে রয়েছে। ওকে খেলতে দেখব বলে আমি উত্তেজিত।’’

ডায়রির ছেঁড়া পাতা। গার্সিয়ার সঙ্গে লুকাসের বাবা। 

গার্সিয়ার পরিচিত এই ফুটবলার কে? তার নাম লুকাস। চার নম্বর জার্সি পরিহিত ব্রাজিলের স্টপার। কলকাতায় পা রাখার পরে গার্সিয়ার সঙ্গে কথা হয়েছে লুকাসের। হন্ডুরাসকে হারিয়ে কলকাতায় পা রেখেছে ব্রাজিল। লুকাসের সঙ্গে কথাবার্তাও হয়েছে গার্সিয়ার। গার্সিয়া বলছিলেন, ‘‘কলকাতার আপ্যায়নে মুগ্ধ লুকাস। যেভাবে কলকাতা বরণ করে নিয়েছে ব্রাজিল দলকে, তাতে খুশি লুকাস। লুকাস বলছিল,কোচির তুলনায় কলকাতার আবহাওয়া ভাল। কোচিতে গরম বেশি। আবহাওয়ার জন্যই হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে ম্যাচটা কঠিন ছিল।’’

 কলেজে পড়ার সময়ে গার্সিয়া। 


লুকাসের সঙ্গে গার্সিয়ার পরিচয় কীভাবে? স্মৃতির ঝাঁপি খুলে গার্সিয়া বললেন, ‘‘লুকাসের বাবা ভালমির হল্টার আমার কলেজের বন্ধু। ওর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। চার বছর আমরা সাও পাওলোর ফেফিসো ফিজিক্যাল এডুকেশন অফ সোরোকোবায় পড়েছি। লুকাসের বাবা এখন সালটোয় ফিজিক্যাল এডুকেশনের শিক্ষক।’’ একদিন যাঁর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন গার্সিয়া, তাঁর ছেলে বিশ্বকাপ খেলছে। ছেলের মধ্যেই বন্ধুকে খুঁজছেন গার্সিয়া। মোহনবাগানের জার্সিও লুকাসের বাবাকে দিয়েছেন গার্সিয়া। তখন অবশ্য গার্সিয়া মোহনবাগানের ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর ছিলেন। রবিবারের মহা ম্যাচের টিকিট এখনও হাতে পাননি গার্সিয়া। বৃহস্পতিবারে বলছিলেন, ‘‘আমাকে যেভাবেই হোক ম্যাচের টিকিট জোগাড় করতেই হবে।’’

তখন গার্সিয়া মোহনবাগানে। লুকাসের বাবাকে তুলে দিয়েছিলেন মোহনবাগানের জার্সি।

একদিকে বন্ধুর ছেলের খেলা, অন্য দিকে ব্রাজিল বনাম জার্মানি— গার্সিয়া ফুটছেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের ক্ষতে এখনও প্রলেপ পড়েনি গার্সিয়ার।থুড়ি, বলা ভাল ব্রাজিল এখনও বোধহয় শোকে স্তব্ধ। জার্মানির কাছে ল্যাজেগোবরে হয়ে হারের যন্ত্রণা এখনও বিদ্ধ করে পেলের দেশের মানুষজনকে।

পরিবারের সঙ্গে ব্রাজিলের যুব দলের তারকা লুকাস। 

গার্সিয়াও ডুবে সেই শোকে। বলছিলেন, ‘‘যে যাই বলুন না কেন, ব্রাজিল বিশ্বকাপের ওই ম্যাচ এখনও আমরা ভুলতে পারিনি। সেই রাতে আমাদের সবাইকে কাঁদতে হয়েছিল।’’ রবিবারের ম্যাচটা গার্সিয়ার মতো অসংখ্য ব্রাজিলীয়র কাছেই প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার। হোক না যুব বিশ্বকাপ! হোক না অলিম্পিক্সে জার্মানিকে হারিয়েই সোনা জিতেছে ব্রাজিল! ফুটবলমাঠে জার্মানি যে চিরশত্রু বনে গিয়েছে ব্রাজিলের। আরও একবার সেই শত্রুতা দেখবে কলকাতা।