বলিউড-সহ সারা দেশের এখন একটাই চিন্তা। যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন অভিনেতা ইরফান খান। ৬ মার্চ একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় যে মারণ ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। এই বিষয়ে তাঁর পরিবার এখনও নীরব হলেও ইতিমধ্যেই বলিউডের বহু তারকাই টুইট করে ইরফানকে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠার বার্তা পাঠিয়েছেন। 

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

ব্রেন ক্যানসার সত্যিই একটি বিরল রোগ কিন্তু এই রোগের নানা ধরন রয়েছে। ইরফান যে বিশেষ ধরনের ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত বলে শোনা যাচ্ছে সেটি হল গ্লিয়োব্লাস্টোমা। এটি এক ধরনের ম্যালিগন্যান্ট ব্রেন টিউমর। প্রথমেই বলে নেওয়া দরকার, ব্রেন টিউমর মানেই কিন্তু ব্রেন ক্যানসার নয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই ব্রেন টিউমর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।  

কিছু কিছু ব্রেন টিউমর ‘ম্যালিগন্যান্ট’ প্রকৃতির হয় এবং সেই ধরনের টিউমরকেই ‘ক্যানসারাস’ বলা হয়। অ্যামেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অফ নিউরোলজিক্যাল সার্জনস-এর তথ্য় অনুযায়ী, গ্লিয়োব্লাস্টোমাতে আক্রান্তরা সাধারণত পূর্ণবয়স্ক পুরুষ। 

এই বিশেষ ধরনের ক্যানসারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল খুব দ্রুত তা শরীরের বাকি অংশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সচরাচর এই রোগ ধরা পড়ার পরে খুব বেশিদিন বাঁচার সম্ভাবনা কম। রোগের সিম্পটমগুলি যতটা সম্ভব কমানোর জন্য কিছু চিকিৎসা রয়েছে বটে কিন্তু সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয় অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী। রোগীর বয়স যত কম, এই রোগ ধরা পড়ার পরে তার বেঁচে থাকার সময়কাল তত বেশি। 

এখন প্রশ্ন হল, কীভাবে সতর্ক থাকা যায়? কী কী লক্ষণ এই রোগের? প্রত্যেকটি বড় ধরনের অসুখের ক্ষেত্রেই শরীরে কিছু সিম্পটম বা লক্ষণ দেখা যায়। সেই লক্ষণগুলি দেখে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে, অনেক সময়েই নিরাময়ের সম্ভাবনা থাকে। ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস হেলথ সায়েন্স সেন্টার-এর বিশেষজ্ঞ চার্লস ডেভিস কয়েকটি সাধারণ লক্ষণের কথা বলেছেন, যেগুলি কিন্তু ব্রেন ক্যানসারের পূর্বসূচনা হতে পারে— 

১. সেইজার বা মৃগী 

২. মানসিক অবস্থার হঠাৎ পরিবর্তন— যেমন অত্যধিক ঘুম পাওয়া, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়া অথবা মনোযোগের অভাব 

৩. চোখ ঠিক থাকা সত্ত্বেও কোনও কারণ ছাড়াই দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা 

৪. কথা জড়িয়ে যাওয়া অথবা সঠিক শব্দে নিজেকে প্রকাশ করতে না পারা 

৫. আচার-আচরণ-ব্য়বহার হঠাৎই কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন 

৬. চলাফেরায় জড়তা বা হাঁটতে অসুবিধা

৭. গা-বমি ভাব বা বার বার বমি হওয়া (এটা বিশেষ করে মধ্যবয়সী বা বয়স্কদের মধ্যে দেখা যায়) 

৮. হঠাৎ করে জ্বর আসা, বিশেষ করে কেমোথেরাপির পরে।

৯. মাথার যন্ত্রণা

শেষের লক্ষণটি দেখে বোঝা সবচেয়ে কঠিন কারণ এটি শুধু ব্রেন ক্যানসার নয়, একাধিক কারণে হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে বা সাইনাস রয়েছে, তাঁদের কাছে এটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। তবু সাবধানের মার নেই। তাই উপরের এই লক্ষণগুলির কোনও একটি যদি বেশ অনেকদিন ধরে ঘটে, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।