সচারচর মিডিয়ার ফোকাসে তাঁকে দেখা যায় না। আড়ালে থেকেই নিজের কাজ করতে ভালবাসেন। অল্প বয়স, প্রবল বুদ্ধিমতী। ব্যবসায়িক বিচক্ষণতায় ইতিমধ্যে নাকি নজর কেড়েছেন বিশ্বের। বলা হচ্ছে, ধীরুভাই অম্বানির তৈরি করা রিলায়েন্স সাম্রাজ্যকে এক অন্য উচ্চতায় নাকি নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এই মহিলার। বছর কয়েক আগে আন্তর্জাতিক এক বিজনেস হাউসের করা সমীক্ষাতেও নাকি এই মহিলা বিশেষভাবে নজর কেড়েছিলেন। 

আর এই মহিলার হাতেই নাকি আছে রিলায়েন্স জিও-র সাম্রাজ্য বিস্তারের চাবিটা। রিলায়েন্স জিও-কে দেশের এক নম্বর মোবাইল পরিষেবা সংস্থা বানানোর দায়িত্বটা মুকেশ অম্বানি নাকি এই মহিলার হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির মালিক বলে মুকেশ অম্বানিকে জিও’র মালিক বলা হতে পারে, কিন্তু, আসল সত্য হল এই মহিলাই হলেন জিও-র মালকিন। 

আরও পড়ুন

এই তথ্যটি না দিলে পাবেন না জিও-র সিম। কিন্তু কেন এই নিয়ম?

এই খবর পড়ার পরে আর রিলায়েন্স জিও ব্যবহারের সাহস পাবেন না

এবার বাড়িতে বসেই পাবেন ডেলিভারি পাবেন রিলায়েন্স জিও-র সিম

এই মহিলা আর কেউ নন, মুকেশ অম্বানির মেয়ে ঈশা অম্বানি। তিনি রিলায়েন্স জিও’র ডিরেক্টর। বছর ২৪-এর ইশাকে এই মুহূর্তে এশিয়ার শক্তিশালী প্রথম ১২ উঠতি শিল্পপতিদের একজন বলা হচ্ছে। 

আন্তর্জাতিক এক বিজনেস মিডিয়া হাউসের প্রকাশিত সমীক্ষাতেও ঈশা বিশ্বের দ্বিতীয় উঠতি বিলিয়নেয়ার শিল্পপতির তকমা পেয়েছেন। ঈশার সঙ্গেই, জিও’র অতিরিক্ত ডিরেক্টর হিসেবে রয়েছেন তাঁর ভাই আকাশ। 

ঈশা ও আকাশ আসলে যমজ ভাই-বোন। ১৯৯১ সালে জন্ম তাঁদের। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ২০১৪ সালে ‘ম্যাকিনসে অ্যান্ড কোম্পানি’-তে ‘বিজনেস অ্যানালিস্ট’ হিসেবে কাজে যোগ দেন ঈশা। ওই বছরই ‘রিলায়েন্স জিও’এবং ‘রিলায়েন্স রিটেল’-এ বোর্ড অফ ডিরেক্টরস-এ অন্তর্ভুক্ত হন ঈশা ও আকাশ।  

রিলায়েন্স জিও-কে বাজারে ছাড়ার সময় মুকেশ অম্বানি বলেছিলেন, ‘জিও যুব প্রজন্মের হাতিয়ার এবং এর উদ্ভাবনের পিছনেও আছে যুবশক্তি’। কিন্তু, তখনও কেউ জানত না এর মানে জিও’র নবীন ডিরেক্টর ঈশা অম্বানি। 

ঈশা এই মুহূর্তে রিলায়েন্সের ৮০০ লক্ষ শেয়ারের মালকিন। ২০১৬-তেই ঈশা ‘এজিও’ নামে একটি অনলাইন ফ্যাশন রিটেল সংস্থা খুলেছেন। ব্যবসার পাশাপাশি, ঈশা একজন ট্রেন্‌ড পিয়ানিস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয় দলের হয়ে ফুটবলও খেলতেন। এহেন, ঈশার হাতে জিও’র দায়িত্ব দিয়ে নাকি বেজায় নিশ্চিন্ত মুকেশ অম্বানি।