ময়দানে কলঙ্কজনক অধ্যায় ঘটে গিয়েছে ৪৮ ঘণ্টা আগে। ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতেই রক্তাক্ত হতে হয়েছে এবেলা.ইন-এর সাংবাদিককে। জখম অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার না করলে হয়তো সাংবাদিক-ই ‘লাশ’ হয়ে যেতেন। গোটা ঘটনা জানার পরে বিস্ফোরক ইস্টবেঙ্গলের সহ-সচিব শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত। বলে দিলেন, ‘‘লজ্জা করছে বলতে যে ইস্টবেঙ্গলে এমন সমর্থক রয়েছে। এরা ফুটবলের কলঙ্ক।’’

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

স্মৃতি বিজড়িত লাল-হলুদ তাঁবু! নস্ট্যালজিয়ায় ভোগেন সত্তর, আশির দশকে নিয়মিত মাঠে আসা সমর্থক। প্রাণের টানে এখনও মাঝে মধ্যে এঁদের দেখা যায় তাঁবুতে। কিন্তু আবেগের এই আলোর নীচেই যে অন্ধকার! ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে বলা হয় সৌমিক দে-কে। বহু উত্থান-পতনের সঙ্গী তিনি।

এখনও ইস্টবেঙ্গলের প্রসঙ্গ উঠলে গলা ধরে যায়। অনর্গল বলে যেতেই থাকেন। ফোনে উগ্র সমর্থকদের কথা উঠলে একটু থমকে যান। তার পরেই বলতে থাকেন, ‘‘আসলে দুই প্রধানেই এমন কিছু সমর্থক রয়েছে, যারা আসলে খেলাটাই বোঝে না। এরা মুষ্টিমেয়। বেশিরভাগই ক্লাবকে ভালবেসে ছুটে যায় মাঠে।’’

সৌমিক কথার আড় না ভাঙলেও শান্তিরঞ্জনবাবু অবশ্য কোনও রাখঢাক করছেন না। সরাসরি বলছেন, ‘‘টিভিতে মুখ দেখানোর জন্য এরা বেশি অঙ্গভঙ্গি দেখায় মাঠে। প্লেয়ারদের মারা, মাঠে বোতল ফেলা— এরা করে কারণ এরা অশিক্ষিত। প্রাথমিক শিক্ষাই নেই এদের। ঐতিহ্যবাহী ইস্টবেঙ্গলের সমর্থক হওয়ার যোগ্যতাই নেই এদের।’’

সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘‘সাংবাদিক না হয়ে প্রতিপক্ষ ক্লাবের কোনও সমর্থক হলেও সমস্যা কী, যদি প্রতিপক্ষের প্রতি-ই সহিষ্ণুতা দেখাতে না পারি, তাহলে আমি কীসের সমর্থক?’’ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শুনুন শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্তের বক্তব্য...

গত মরশুমেই ইস্টবেঙ্গলে খেলে যাওয়া ডুডু ওমাগবেমি সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা শুনে কার্যত শিউরে উঠছেন। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের সুস্থতা কামনা করে তিনি জানিয়ে দেন, ‘‘মারাত্মক পরিস্থিতি। আইএফএ এখনই ব্যবস্থা না নিলে আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি আসতে চলেছে।’’ দুই দলের জার্সিই গায়ে চাপিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ভারতে কাটিয়েছেন নাইজেরীয় গোলমেশিন। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলি দিচ্ছেন, ‘‘বহু ক্লাবে খেলেছি। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের মতো নিকৃষ্ট সমর্থক কোনওদিন দেখিনি। ক্লাবের এই বিষয়টি দেখা উচিত।’’

আশ্বাস অবশ্য দিচ্ছেন শান্তিরঞ্জনবাবু, ‘‘ক্লাবে এই সাংবাদিক নিগ্রহের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। মিডিয়া নিজেদের প্রয়োজনে ভিডিও, ছবি যা খুশি তুলতেই পারে! কিন্তু এঁদের সেই বোধবুদ্ধিই নেই। থাকলে এঁরা আসত না, মারধরের ঘটনা ঘটাত না। অসহিষ্ণুতা বর্তমান সমাজের ট্রেন্ড, এই গুণ্ডাগিরি এরই অংশ।’’

ইস্টবেঙ্গলের পরিচিত কর্তা। এমন পরিচয়ের বাইরেও অবশ্য সামাজিক পরিচিতি রয়েছে শান্তিবাবুর। শহরের নামি চিকিৎসক তিনি। সজ্জন ব্যক্তি শান্তিরঞ্জন বাবুর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে এই অশিক্ষিত, গুন্ডা সমর্থকদের প্রভাব। কী তা? তিনি-ই জানালেন, ‘‘চিকিৎসক হিসেবে হোয়্যাটসঅ্যাপ ব্যবহার করি ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে। যা শুধুমাত্র রোগীদের জন্যই ব্যবহার করে থাকি। এই নম্বর উগ্র সমর্থকদের জন্যই এই বিশেষ নম্বর প্রকাশ্যে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকি।’’

এই সব উগ্র, উচ্ছৃঙ্খল সমর্থকদের বাছাই করার জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও শুনিয়েছেন তিনি। জানিয়ে দেন, ‘‘আগে বিভিন্ন গেস্ট কার্ড দেওয়া হত। সেই কার্ড ব্যবহার করেও বহু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি মাঠে আসেন। সেই কার্ডও বন্ধ করে দিতে বলেছি। কারণ, ব্যক্তিগতভাবে এদের মাঠে প্রবেশের বিরোধী আমি। সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, এদের নয়।’’