ইস্টবেঙ্গল ৩ পাঠচক্র ০ 
(জাস্টিন ২, রালতে)

কাস্টমস ম্যাচে আটকে গিয়ে ‘গো ব্যাক’ ধ্বনি শুনেছিলেন সুভাষ ভৌমিক। তীব্র সমালোচিত হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। পাঠচক্রের বিরুদ্ধে লাল-হলুদ ফুটবলাররা প্রত্যাবর্তন ঘটাল। রেমকো বোয়ের-এর দলকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটালেন ফুটবলাররা। তবু সুভাষ ভৌমিকের মুখে হাসি ফুটল কোথায়?

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

কলকাতা লিগ শুরুর আগেই ইস্টবেঙ্গল টিডি বুক ঠুকে বলে দিয়েছিলেন আল আমনাকে কলকাতা লিগের ম্যাচে বেশি ব্যবহারই করবেন না। প্রথম দু’টি ম্যাচে বিরতির পরে নামানো হয়েছিল আমনাকে। এর মধ্যে সঙ্কটের মুখে আমনা কাস্টমস ম্যাচে ত্রাতা হতে পারেননি। তার পরেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল, আমনাকে প্রথম একাদশে কেন নামাচ্ছেন না সুভাষ! এক ক্লাব কর্তাও সুভাষের ভিন্ন পথে হেঁটে জানিয়ে দিয়েছিলেন, আমনাকে প্রথম একাদশে খেলানোর কথা। ঘরে-বাইরে এই চাপের মুখে নতি স্বীকার করেই সুভাষ শেষ পর্যন্ত আমনাকে প্রথম একাদশে রাখতে বাধ্য হলেন পাঠচক্রের বিরুদ্ধে।

আমনাকে শেষ পর্যন্ত নামাতেই রং বদলে ফেলল ইস্টবেঙ্গল। শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ, ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ল পাঠচক্রের পেনাল্টি বক্সে। সেই আক্রমণের তোড়েই ভেসে গেল রেমকো বোয়ের ব্রিগেড। ভিক্টর কামহুকা, অ্যান্টো পেজিচ, নাকামুরাদের মতো বিদেশিকে নিয়ে দল গড়েছেন ডাচ কোচ। স্নেহাশিস, জগন্নাথ ওঁরাও, লালকমলের মতো পোড় খাওয়া স্থানীয় ফুটবলারও রয়েছেন পাঠচক্র দলে। এই পাঠচক্র দল একদমই মাঝারি মানের। পেরিসিচ, মদ্রিচের দেশের পেজিচ একসঙ্গে দু’জনকে ড্রিবল করতে পারেন না। ভিক্টর কামহুকাও রক্ষণে নড়বড়ে। 

এমন মাঝারি মানের দলের বিরুদ্ধেই দাপিয়ে খেলল ইস্টবেঙ্গল। আমনার সংযুক্তির পাশাপাশি ম্যাচে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বালি গগনদীপকে বসিয়ে দেওয়া। শেষ ম্যাচে ড্রয়ের পরে সমর্থকদের রোষের সিখার হয়েছিলেন পঞ্জাবি স্ট্রাইকার। এদিন তাঁর পরিবর্তেই নামানো হয়েছিল জবি জাস্টিনকে। তিনি লাল-হলুদ জার্সি গায়ে ফিরলেন জোড়া গোল করে।

১৫ মিনিটেই ডান দিক থেকে ব্র্যান্ডনের ক্রস ভেসে আসতেই মাথা ছুঁইয়ে প্রথম গোল করে যান তিনি। বিরতির বাঁশি বাজার ঠিক চার মিনিট আগে দ্বিতীয় গোল আসে পেনাল্টি থেকে। বক্সের মধ্যে ভিক্টর ও মনোতোষ চাকলাদার জোড়া হ্যান্ডবল করে বসেন। সেই পেনাল্টি থেকেই গোল করে যান রালতে। 

বিরতির পরেও লাল-হলুদ বাহিনীর দাপট বহাল থাকল। ৭৮ মিনিটে জবি জাস্টিন নিজের দ্বিতীয় গোলটা করলেন। সেই গোলের পিছনেও ব্র্যান্ডনের অবদান। জবি জাস্টিন ফিরতেই ইস্টবেঙ্গলও চলতে শুরু করে দিল। কিন্তু সুভাষের চাপ তো কমল না।