রণক্ষেত্র ইস্টবেঙ্গল মাঠ। যুদ্ধংদেহী লাল-হলুদ জনতা। গোটা ম্যাচে একাধিক সুযোগ নষ্ট। দ্বিতীয়ার্ধে আল আমনা-ও ত্রাতা হতে পারলেন না। ম্যাচ শেষ হতেই তাই লাল-হলুদ মাঠ কার্যত অগ্নিগর্ভ। কলকাতা লিগের দ্বিতীয় ম্যাচেই হোঁচট। তাই সমর্থকদের বাঁধ ভাঙল ম্যাচের পরেই।

এই বিষয়ে অন্যান্য খবর

ম্যাচের মাঝেই সমর্থকদের ‘সুভাষিত’ ভাষণ উড়ে আসছিল চতুর্দিক থেকে। আর ম্যাচ শেষে? সদস্য গ্যালারিতে থাকা সমর্থকরা তারের ফেন্সিং ধরে সুভাষের বিরুদ্ধে ধ্বনি তুললেন। পার পেলেন না মিনার্ভা থেকে আসা বালি গগনদীপও। ‘গো ব্যাক সুভাষ’, ‘ভাগ যা বালি’— জোড়া স্লোগান চলল ম্যাচ শেষের পরে আরও ৪৫ মিনিট। প্রথমে সদস্য গ্যালারিতে থাকা সমর্থকরা তাঁবুর সামনে এসে এবং দ্বিতীয়বার ক্লাব তাঁবুর ঠিক বাইরেই জটলা করে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। সদ্য কলকাতায় পা ফেলা কোস্টারিকার বিশ্বকাপার জনি অ্যাকোস্টা সব দেখলেন। 

শুক্রবার প্রিয় দল যখন গোলের দরজা খুলতে পারছে না, তখন থেকেই ভক্তদের বিষ নজরে সুভাষ ভৌমিক। ম্যাচ শেষের পরে সুভাষের উপরে ক্ষোভ বাড়ল বহুগুণ। পাশাপাশি, আশিয়ান জয়ী কোচের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে গেল এদিনই। সমর্থকদের একাংশের দাবি, তাঁদের নাকি গালিগালাজ করেছেন সুভাষ! সুভাষ অবশ্য এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। ঘটনা ঠিক কী হয়েছিল? প্রাথমিকভাবে সমর্থকদের শান্ত করতে জালের ধারে এগিয়ে আসা সুভাষ ভৌমিক সমর্থকদের ব্যারাকিংয়ের সামনে পড়ে গিয়ে নিজেও মেজাজ হারান। তখনই, তিনি নাকি সমর্থকদের উদ্দেশে অশ্লীল বাণী প্রয়োগ করেন। এমনটাই অভিযোগ ইস্টবেঙ্গলের বেশ কিছু সমর্থকদের।

সুভাষ ভৌমিক না হয় ময়দানে পোড় খাওয়া কোচ। কিন্তু বালি গগনদীপ বুঝে গিয়েছেন কলকাতায় সমর্থকদের চাপ! কার্যত স্ট্রাইকার ছাড়াই এবার কলকাতা লিগ অভিযানে নেমেছে ইস্টবেঙ্গল। মিনার্ভায় খেলে আসা গগনদীপের দিকেই তাকিয়ে ইস্টবেঙ্গল! পঞ্জাব থেকে রঞ্জিত বজাজ ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন বালির জন্য। বলে দিলেন, ‘‘গগনদীপ খেলবে কী করে? ও ভার্সেটাইল প্লেয়ার। কোনও সন্দেহ নেই। স্টপার থেকে মাঝমাঠ সব পজিশনেই ও খেলতে পারে। কিন্তু আমার ক্লাবে ও সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবে খেলত। সিঙ্গল স্ট্রাইকার হিসেবে বালি কখনও খেলেনি।’’ ইস্টবেঙ্গলে কিন্তু গগনদীপই একমেবাদ্বিতীয়ম স্ট্রাইকার। গোলের দরজা খুলতে বালি-ই একমাত্র ভরসা। আর না হলে? শুক্রবারই দেখে ফেলল তার পরিণতি।

আর শুক্রবারে ইস্টবেঙ্গলের ঘরের মাঠে হাজির হয়েছিলেন অমিত ভদ্র। তাঁর ‘শিষ্য’ রাজীব দে কোচ হিসেবে কতটা পরিণত হয়েছেন, তা দেখতেই আসা। ময়দানি ফুটবলের পরিচিত মুখ অমিতবাবু জানিয়ে দেন, ‘‘বালি গগনদীপের কাছ থেকে তো কৃশানু দে-র খেলা আশা করা যায় না! ইস্টবেঙ্গল তো জেনে শুনেই ওকে রিক্রুট করেছে। ওর সঙ্গে একজন বড় চেহারার ডিফেন্ডারকে লাগিয়ে দিতেই ফ্লপ করে গেল।’’

সবমিলিয়ে লাল-হলুদে শুরুতেই পুরনো ছবি। সুভাষ ভৌমিকের মেয়াদ নিয়ে দু’ম্যাচ খেলার পরেই উঠে গেল একগাদা প্রশ্ন।