ম্যাচ শেষ। রেফারির বাঁশি বাজে গিয়েছে। মাঠেই বসে আছেন হতবাক আজহারউদ্দিন মল্লিক। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের দিকে তাকিয়ে আছেন। চোখে শুধু বিস্ময়!

আনশুমানা ক্রোমার চোখে যেন জল! মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়লেন। রিজার্ভ বেঞ্চে মুখ ঢেকে বসে আছেন শিল্টন পাল। সবুজ-মেরুন বেঞ্চে যেন শ্মশানের নিস্তব্ধতা! উল্টোদিকে গ্যালারি মেতেছে মশাল জালিয়ে। আবির খেলা চলছে। প্লাজা-আমনাদের চোখে উচ্ছ্বাস। হাসতে হাসতে মাঠ প্রদক্ষিণ করছেন।

সেই দিকে একবার তাকিয়ে কেঁদেই ফেললেন ক্রোমা। রবিবারের ডার্বি জয়ের জন্য নিজেকে নিংড়ে দিয়েছিলেন। জেতার জন্য মরিয়া লড়াই করেছিলেন। কিন্তু ম্যাচের ফল যে ২-২! দুর্গোৎসবের সেরা উপহারই দিতে পারলেন না সমর্থকদের। তাঁকে কোনওমতে সতীর্থরা টেনে নিয়ে গেলেন ড্রেসিংরুমে। পরে বাসে ওঠার আগে বলছিলেন, ‘‘বিশ্বাস করুন খুব কষ্ট হচ্ছে। খুব হতাশ লাগছে আমার। মানতেই পারছি না। রেফারির জন্য ম্যাচটা উপহার পেয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল।’’

আজহারউদ্দিন মল্লিক মানেই ডার্বিতে বাড়তি উন্মাদনা, রবিবার এই ধারণাকে আরও পাকাপোক্ত শিলমোহর লাগিয়ে দিলেন হুগলির মশাট গ্রামের ছেলেটা। ছোটখাটো চেহারার লাজুক স্বভাবের ছেলেটা  এদিন কাঞ্চনজঙ্ঘায় সবুজ-মেরুন ফুল ফোটালেন। আক্রমণে সহায়তা করার সঙ্গে প্রয়োজনে নীচে নেমে রক্ষণে সাহায্যও করলেন। গোটা মাঠে জুড়ে খেলতে দেখা গেল আজহারকে। তবু কার্যত জেতা ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে গেল। তীব্র যন্ত্রণার ছাপ তাঁর চোখে-মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। মাঠ ছেড়ে বেরোনোর সময় শুধু অস্ফুটে তাঁকে বলতে শোনা গেল, ‘‘আমার সত্যি আজ কিছু বলার নেই।’’

মোহনবাগান ড্রেসিংরুম জুড়ে শুধুই হতাশা আর আফশোস। ম্যাচ শেষের পরেই কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী কারও সঙ্গে হাত না মিলিয়ে ড্রেসিংরুমে চলে গেলেন। ডার্বি তাঁর জীবনে অভিশাপ হয়েই রয়ে গেল! ফুটবলারজীবন শেষ হয়েছিল এক অভিশপ্ত ডার্বিতে। আর রবিবার কোচ হিসেবেও ডার্বি থেকে তাঁর প্রাপ্তি খাতায় কলমে শূ্ন্য। শঙ্কর বলছিলেন, ‘‘ডার্বি আমার জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এল না এবারও। লিগটাই হাতছাড়া হয়ে গেল।’’

হতাশার পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলের পেনাল্টি নিয়ে সবুজ-মেরুনে শুধুই ক্ষোভের আগুন। ড্রেসিংরুমে সেই নিয়েই জোর আলোচনা চলছিল। মোহনবাগান ফুটবলাররা দাবি করলেন, ওটা কোনও ভাবেই পেনাল্টি ছিল না। মোহনবাগান ডিফেন্ডার কিন্‌সলে তো পরিষ্কারভাবে দাবি করে দিলেন, ‘‘রেফারি খেলাটা শেষ করে দিল। লিগটা রেফারির জন্যই হাতছাড়া হল।’’